বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের শপথ মমতার

জাগো বাংলা নিউজ ব্যুরো

বাংলার ঘরে-ঘরে এখন ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ডাক দেন, তা শুনতে অধীর আগ্রহে এই রাজ্যের সংগ্রামী মানুষ। যেভাবে গোটা দেশে বিভেদের রাজনীতি কায়েম করেছে বিজেপি-আরএসএস, তাতে বিপন্ন গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা। একদিকে গো-রক্ষার নাম করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, অন্যদিকে সরকারি সংস্থাগুলিকে বিক্রি করে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার কাজ করছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। এসব বিরুদ্ধেই এখনও যিনি লড়াই করছেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একথা আর বুঝতে বাকি নেই এবারের লোকসভা ভোট লুঠ হয়েছে। ইভিএম কারচুপি করে প্রোগ্রামিং করে বহু আসনে মানুষের রায়কে বিকৃত করেছে বিজেপি। তাই তিনি আওয়াজ দিয়েছেন-‘আমাদের ব্যালট ফিরিয়ে দাও’ জননেত্রীর এই স্লোগান সামনে রেখেই কলকাতার পাশাপাশি জেলায় জেলায় ‘২১ জুলাই ধর্মতলা চলো’ কর্মসূচির প্রচারে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। তাতে শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। সবাই বুঝতে পারছেন ভোট দেওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার যদি সত্যিই ফিরে পেতে হয়, তাহলে ইভিএম নয়, ফিরে যেতে হবে ব্যালটেই। বহু উন্নত দেশে ব্যালটে ভোট হয়। এই দাবিকে আন্দোলনের রূপ দিতে চলেছেন জননেত্রী। ‘ইভিএম হঠাও, ব্যালট ফেরাও’। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা বুথে বুথে ইতিমধ্যে দেওয়াল লিখন ও সভা-সমাবেশ শুরু করে দিয়েছেন। ইভিএমে যে কারচুপি হয়, সেকথা বহু আগে থেকেই বলছেন জননেত্রী। এবার সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্ত নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, তারা তা করেনি। যার জন্যই সাধারণ মানুষের রায় বিকৃত হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর এই সুরে সুর মিলিয়ে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ের কংগ্রেস নেতারাও দাবি করেছেন, অবিলম্বে ইভিএম সরিয়ে ব্যালট ফিরিয়ে আনা হোক। কারণ বম্বে হাইকোর্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশন হলফনামা দিয়ে স্বীকার করেছে, বেশ কয়েক হাজার অব্যবহৃত ইভিএমের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। ইভিএমে এমনই নানা কারচুপির তথ্য তুলে ধরে কলকাতার পাশাপাশি জেলায় জেলায় ‘২১ জুলাই ধর্মতলা চলো’-র সমর্থনে জোর প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শাখা সংগঠন যুব-ছাত্র-মহিলা থেকে শুরু করে শ্রমিক, সরকারি কর্মচারীরাও জননেত্রীর ঘোষণা মেনে পথে নেমেছেন। লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর একই দাবি ফের একাধিকবার নানা মঞ্চে তুলে ধরেছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, “মাত্র দু’শতাংশ ভিভিপ্যাট গোনা হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশ যে আগে থেকে প্রোগ্রামিং করা ছিল না, তা কে বলতে পারে? আবার ভোটে যে সব ইভিএম খারাপ হয়েছিল, সেগুলি পাল্টানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলিতে মক পোল করে ঠিকঠাক চেক করা হয়েছিল কিনা, জানা নেই। সেগুলিতেও আগে থেকে প্রোগ্রামিং করে রাখা হতে পারে।” এর বাইরে বাংলার মাটিকে সাম্প্রদায়িক রং লাগাতে চাইছে বিজেপি। কয়েকটি আসনে জিতে তারা সন্ত্রাস তৈরি করছে। হিন্দু-মুসলিমে বিভাজন করছে। তৃণমূল কর্মীদের খুন করছে। এমন উত্তেজনাকর ভাষণ দিচ্ছে, যাতে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়, বিভাজন তৈরি হয়। এর বিরুদ্ধে এখন চাই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ বরাবর সংগ্রামের মঞ্চ। এই মঞ্চ থেকেই নতুন শপথ ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে বিনাশ করার লড়াই এবার শুরু। যাঁরা ভয় পেয়েছেন, তাঁরা পিছিয়ে গেছেন। কিন্তু যাঁরা লোভী তাঁদের কেউ কেউ নাম লেখাচ্ছেন শত্রু শিবিরে। সময়ে মানুষ এঁদের বিচার করবেন। ২১শে জুলাই মঞ্চ থেকে এবার তাই নতুন সংগ্রাম। বাংলাকে রক্ষা করার সংগ্রাম, দেশকে রক্ষা করার সংগ্রাম, মানুষকে রক্ষা করার সংগ্রাম। এই নেতৃত্ব দিতে পারেন যিনি, তিনি আর কেউ নন, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers