বিদ্যাসাগরের দু’শো বছর পূর্তিতে শিক্ষার প্রসার রাজ্যের ব্রত

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

আদৃতা ভট্টাচার্য

আট বছর ধরে ড্রপআউট বা স্কুলছুট তলানিতে এসেছে। সরকারি স্কুলগুলির পড়ুয়ারা পোশাক পাচ্ছে। পেটভরে মিড-ডে মিল। স্কুল এখন ‘আনন্দ নিকেতন’। এটা যেমন একটি দিক, তেমনই রাজ্যে এখন ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। তার মধ্যে সাতটি সরকার অনুমোদিত। এবং ন’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে উন্নীত হয়েছে। মূল উদ্দেশ্যই ছিল  রাজ্যে উচ্চশিক্ষার মানকে আরও প্রসারিত করা। এরই পাশাপাশি গত সাত বছরে ১৬টি কলেজ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি সরকারি কলেজ। পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে এই কলেজটিতে ইতিমধ্যেই পঠনপাঠনের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই উদাহরণ দেওয়ার একটাই কারণ গত সাত বছরে রাজ্যের উচ্চেশিক্ষার মান যেমন বেড়েছে তেমনই তা আরও বেশি সর্বসাধারণের মধ্যে প্রসারিত হয়েছে। আর এই উদ্যোগের মূল কারিগর তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১১ সালে মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে শিক্ষার প্রসার অর্থাৎ জিইআর (প্রস এনপোলমেন্ট রেশিও) বাম জমানার তুলনায় অনেকগুণ বেড়েছে। উচ্চশিক্ষা দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। স্কুলছুট কমেছে, তেমনই উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বেড়েছে। ২০১১ সালে উচ্চশিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হত ১২.৬ শতাংশ পড়ুয়া। ২০১৬ সালে তা হয়েছে ১৮ শতাংশ। আর চলতি বছরের শেষে তা যে আরও কয়েক গুণ বেড়েছে তা বলাই বাহুল্য । ২০১১ সালে উচ্চশিক্ষার আলোয় এসেছিল ১৪৭,০১৯ জন। ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯,৫২,৬৯৬। চলতি আর্থিক বছরের শেষে তা আরও বাড়বে। এটা ধরে নিয়ে বলা যায়, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার জন্য ৪,৫৫,৬৭৭টি আসন বাড়াতে বাধ্য হয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা বাড়ছে, এটা তারই সূচক। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল কারিগর মা-মাটি-মানুষের সরকার। সব স্কুলগুলিতেই বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিদ্যাসাগরের গ্রামে গিয়ে তাঁর মূর্তির উন্মোচন করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের দেশ এই বাংলায় সাক্ষরতা ও উচ্চশিক্ষার প্রসার করাই মা-মাটি-মানুষের সরকারের ব্রত।

পরিকল্পনা বাজেটে ২০১০-১১ সালের আর্থিক বছরে উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছিল ১১১.৭৪ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ চার বছরে উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে চার গুণ।

রাজ্যের বিভিন্ন সরকার অনুমোদিত কলেজগুলিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক পদের জন্য ২৮১৬ জন নিয়োগ করা হয়েছে। পিএসসি ও কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের কলেজগুলিতে ৫৯৩১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ করা হয়েছিল। উচ্চশিক্ষার প্রসারে এই পদক্ষেপকে মাইল ফলক বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। বাম আমলে এমন নিয়োগ হয়নি বললেই চলে। ওবিসি ও সংখ্যালঘুদের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ এবং এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য ২২ শতাংশ আসন সংরক্ষণ আর একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ৫৯৬১২জন ওবিসি ছাত্রছাত্রী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। চলতি অর্থবর্ষের শেষে এই সংখ্যাটা আরও কয়েকগুণ হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

উচ্চশিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে ই-লার্নিং বর্তমান যুগে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। রাজ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ৭৩২টি ই-লার্নিং কোর্স চালু হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়। শুধুমাত্র এই জন্যই সরকারের কোষাগার থেকে ২২ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে।  উচ্চশিক্ষার প্রসারে স্বচ্ছতা ও আধুনিকতার ছাপ ফেলতে ই-গভন্যান্স অ্যাক্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। চলতি অর্থবর্ষে অন্তত আট লক্ষ আবেদনপত্র রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে জমা পড়েছে প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। উচ্চশিক্ষার প্রসার ও উন্নতিসাধনে জননেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা যে অনন্য তা বলাই বাহুল্য।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial