বিজেপি বিরোধী ঐক্যে মধ্যমণি মমতা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

রানার চক্রবতী

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে হেমন্ত সোরেনের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে আরও মজবুত হল বিজেপি বিরোধী ঐক্যের বুনিয়াদ। আর সেই অনুষ্ঠানে মধ্যমণি হয়ে রইলেন বাংলার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। স্পষ্ট হল যে সারা ভারতে কেন্দ্রের শাসক দলের বিরোধিতায় তিনিই মুখ। তাকে সামনে রেখেই এগোবে বিজেপির জনস্বার্থবিরোধীতায় বিরোধিতা। আসলে, মমতা বন্দোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে আন্দোলন সংগঠিত করতে হয়। তা সে নোটবন্দি হোক বা সিএএ-এনআরসি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিটি ইস্যুতে যেভাবে আন্দোলন করছেন, সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন দেশের অন্য বিরোধী দলগুলির নেতৃত্ব।

রাঁচির মোরাবাদি ময়দানে হেমন্ত সোরেনের শপথে যে তিনি মধ্যমণি হয়ে থাকবেন, তা জানাই ছিল। বিভিন্ন প্রান্তের নেতারা এসেছিলেন। এসেছিলেন রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উঠতেই সাধারণ মানুষের উল্লাস বুঝিয়ে দিয়েছে যে তিনি কতটা জনপ্রিয়। হেমন্ত সোরেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আর্শীবাদ নিয়েছেন। নেত্রীকে সামনে পেয়ে কী করবেন, যেন বুঝেই উঠতে পারছিলেন না হেমন্ত। তাঁর চোখেমুখে ধরা পড়ছিল কৃতজ্ঞতা। ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রীকে শাল ও গাছের চারা উপহার দিয়ে প্রণাম করেন সদ্য শপথ নেওয়া ঝাড়খন্ড মুক্তিমোর্চার মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপিকে সরাতে হলে বিরোধী মজবুত ঐক্যের কথা বার বার বলে এসেছেন জননেত্রী। তিনি চেয়েছেন প্রত্যেকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে এনআরসি-সহ সব ইস্যুতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তাঁকে আদর্শ করেই বিরোধী দলের তরুণ নেতানেত্রীরা আন্দোলন করতে চাইছেন। তাই হেমন্তের শপথ অনুষ্ঠানেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসে বার বার পরামর্শ নিতে দেখা গিয়েছে অন্য দলের নেতাদের। পরবর্তী কর্মসূচিও চূড়ান্ত হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই। প্রত্যেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে চাইছেন। আর হেমন্ত সোরেনের মুখামন্ত্রী হওয়ার পর বাংলার সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের সম্পর্ক খুব ভাল হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। বস্তুত, এনআরসি ও সিএএ বিরোধী আন্দোলন তীব্র করে তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রোজ তাঁর কর্মসূচি। এই ইস্যুতে বিরোধী শিবির একজোট। কেন্দ্র ব্যাকফুটে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের পর ঝাড়খণ্ড বিজেপির হাতছাড়া হওয়া বিরোধীদের আরও উৎসাহিত করেছে। মঞ্চে নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনায় বার বার সেই বিষয়গুলি এসেছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিজেপি যে কিছুই কার্যকর করতে পারবে না, নেত্রী সেকথাই বুঝিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য শুনতেই সবাই অধীর আগ্রহে থেকেছে।

গুরুজি শিবু সোরেনের শরীর ভাল নেই। তবু স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন ছেলের দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিজের চোখে দেখতে। ছিলেন লালু যাদবের পুত্র তেজস্বী। ডিএমকের স্ট্যালিন, কানিমোঝি, টিআর বালু ছিলেন। এর বাইরে রাজস্থান, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীরা। ছিলেন বামপন্থীরাও। রাস্তায় দেখা গিয়েছে তৃণমূল নেত্রীর প্রচুর কাট আউট। উষ্ণ অভ্যর্থনা।

প্রায় সব বিজেপি বিরোধী দল প্রতিনিধি পাঠানোর এই মঞ্চ বিরোধী দলগুলির ঐক্য আবার সামনে এনে দিল। এক চা চক্রে হাজির হয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবশ্য চলে যেতে হয় পুরুলিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে। মঞ্চে রাহুল এসে মমতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। হাতে হাত রেখে কথা বলেন। দু’জনের মুখেই ছিল হাসি। সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। রাহুল মঞ্চে আসতেই তাঁর কাছে যান সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। এর আগে তৃণমূল নেত্রীর কাছে গিয়েও কুশল বিনিময় করেন তিনি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন সিপিআইয়ের ডি রাজা। একদিকে রাহুল অন্যদিকে ইয়েচুরি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের সম্পর্কের সমীকরণ তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশজুড়ে এনআরসি, সিএএ বিরোধী আন্দোলন বিজেপিকে কোণঠাসা করে দিয়েছে। সেই লড়াই প্রথম শুরু করে এখন আন্দোলনের মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বাংলা-ঝাড়খন্ড বন্ধুত্ব। বিহার ভেঙে নতুন রাজ্য হওয়ার পর কী বাম জমানা, কী তৃণমূল শাসনের এই সাড়ে আট বছর, রাজনৈতিক কারণে বাংলা ঝাড়খন্ডের সখ্য়তা কখনও সেভাবে দানা বাঁধেনি। কিন্তু দীর্ঘ বিজেপি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঝাড়খণ্ড মুক্তিমোর্চা, কংগ্রেস, আরজেডি জোট ক্ষমতায় আসা বাংলার ক্ষেত্রে ‘হেমন্তের বাতাস’ বলেই মনে করছেন। ঝাড়খন্ডকে পাশে পেলে শুধু মাওবাদী সমস্যাই নয়, আরও বহু বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী দুই রাজ্যের আর লড়াই থাকবে না। সে দলমার হাতি হোক বা খনিজ সম্পদ যে সব কাজে বাঁধা তা দূর হতে পারে।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial