বাড়ছে পর্যটক, শীতে নতুন করে সেজে উঠছে বাংলা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

আদৃতা ভট্টাচার্য

অবহেলিত বললে কম বলা হয়। পড়ে থাকা এক দফতরকে কীভাবে পেশাদারি দক্ষতার মধ্যেও উন্নয়নের শিখরে তোলা যায় তা করে দেখিয়েছেন বাংলার জননেত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দফতরের নাম পর্যটন। বাংলার চিরন্তন প্রাকৃতিক বৈচিত্রকে আরও বেশি করে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মা-মাটি-মানুষের নেত্রী জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়। এই শীতের মরশুমে পর্যটন দফতর প্রকৃতিকে ঢেলে সাজিয়েছে সরকারি তথ্য বলছে বাম জমানার ২০০৬-২০১১ সাল পর্যন্ত রাজ্যে অন্তর্দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২২২.৫৭ লক্ষ। যেখানে ২০১১-২০১৬ সালের মধ্যে তা একধাক্কায় বেড়ে হয়েছিল ৭৪৪.৪৪ লক্ষ। ওই সময়ে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১২.১৩ লক্ষ ও ১৫.২৯ লক্ষ। চলতি আর্থিক বছরে সংখ্যাটা যে আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে তা বলাই বাহুল্য। ২০১১সালের জুন মাসে পর্যটনের উন্নয়নের জন্য একের পর এক পদক্ষেপ করে রাজ্য সরকার। এরমধ্যে যেমন রয়েছে মুর্শিদাবাদে মতিঝিল ডেস্টিনেশন প্রকল্প, গঙ্গাসাগর উন্নয়ন প্রকল্প, ঝাড়গ্রাম রাজাবাড়ি টুরিজম কমপ্লেক্স, কৃষ্ণনগরে ঘূর্ণির আর্ট আান্ড ক্র্যাফট মিউজিয়াম, পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে পর্যটন উন্নয়ন ও পুরুলিয়া জেলাকে আরও পর্যটনমুখী করে গড়ে তোলা, এরমধ্যে যেমন রয়েছে অযোধ্যা পাহাড়ে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা, গড়পঞ্চকোটে পর্যটন কমপ্লেক্স তৈরি করা, বীরভূমের উন্নয়ন। অর্থাৎ উন্নয়নকে পাখির চোখ করে পর্যটনকে ঢেলে সাজিয়েছেন জননেত্রী।

এই জেলায় পর্যটনের উন্নয়নের জন্য “আমার কুটির তৈরি করা ছাড়া উষ্ণ প্রস্রবণের ঘিরে উন্নত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রস্রবণকে ঘিরে উন্নত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি রয়েছে জয়দেবের কেঁদুলি ও পাথরচাপড়ির উন্নয়ন। পর্যটন মানচিত্রে বাঁকুড়া জেলাকে আরও বেশি করে তুলে ধরার জন্য মুকুটমণিপুর, বিহারীনাথ, শুশুনিয়ায় একের পর এক কটেজ, ডরমিটরি ও রেস্টুরেন্ট তৈরি করা হয়েছে। উদয়পুর থেকে শঙ্করপুর, সেজে উঠছে গোটা দিঘা। দিঘায় তৈরি হয়েছে কনভেনশন সেন্টার। তৈরি হচ্ছে নতুন রাস্তা। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাও। এরই পাশাপাশি মা-মাটি-মানুষের সরকার পলাশিতে তৈরি করেছে বিজয় স্মারক। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নেও একের পর এক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গজলডোবা ও জলপাইগুড়িতে মেগা প্রকল্প শুরু হয়েছে জননেত্রী তথা মা-মাটি-মানুষের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়। এর মধ্যে যেমন রয়েছে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করা, দার্জিলিংয়ে রায়ভিলার সংস্কার সাধন, কুলিক অভয়ারণ্যের সংস্কার, গৌরী দিঘি, মহীপাল দিঘি ও তপন দিঘির উন্নয়ন সাধন, ধুপগুড়িতে ত্রিভূমি ইকো টুরিজম পার্ক উন্নয়ন-সহ একাধিক প্রকল্প।

পর্যটনের সঙ্গে হোটেল ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই দুর্গাপুরে গঠন করা হয়েছে স্টেট ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট। এরই পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রগুলির আমূল সংস্কারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শহিদ মিনার, কলকাতার নদীতীর, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড, মনোহর দাস তড়াগকে নবরূপে তুলে ধরতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ঠাকুর রামকৃষ্ণর সমাধি প্রাঙ্গণ, কাশীপুর উদ্যানবাটি, দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। পর্যটক আরও বাড়বে।

সরকার নিজস্ব উদ্যোগে যেমন একের পর এক প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তেমনই বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একের পর এক প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হয়েছে। গত ছয় বছরে। তিনটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যটন দফতর থেকে বিদ্যুদয়ন, সড়ক যোগাযোগ, পানীয় জল সরবরাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা রাজ্য সরকারই করে দিচ্ছে। এর জন্য অন্তত কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য সরকার। এরমধ্যে যেমন রয়েছে হুগলি জেলার সবুজদ্বীপ ইকো টুরিজম প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় দু’টি নতুন জেটি তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যুদয়ন ব্যবস্থা ঢেলে সাজা হয়েছে।

একইরকমভাবে জলপাইগুড়ির গজলভোবায় পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য পানীয় জল সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হয়েছে। সংলগ্ন বৈকুষ্ঠপুর জঙ্গলে নিরাপত্তার জন্য লোহার জাল দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালিতে জেটি সংস্কার, হেনরি আইল্যান্ডকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি বিটুমিনাস সড়ক, অত্যাধুনিক ৩৬০ মিটার লম্বা সড়কপথ ও আরও ১,২০০ মিটার লম্বা নতুন সড়ক তৈরি হয়েছে। এই শীতে পর্যটকও বাড়ছে। শুধুমাত্র পর্যটন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করাই নয়, এই উন্নয়নের কর্মযজ্ঞকে রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মানুষের কাছে জানানোর জন্য দরকার উন্নত প্রচার ব্যবস্থা। ঠিক এই জন্যই মুখ্যমন্ত্রী তথা জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় পর্যটন উৎসব ও মেলার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন বিবিসি, ডিসকভারি চ্যানেলের মাধ্যমে তা নিয়মিত প্রচার করা হয়। এছাড়াও জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও নিয়মিত এই উন্নয়নের প্রচার করা হয়। বিভিন্ন এফএম চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এরই পাশাপাশি গত বছর নতুন টুরিজম পলিসি চালু করেছে রাজ্য সরকার।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial