বামেরাই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদত দিচ্ছে

তীর্থ রায়

বামেদের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটাতে সাহায্য করল। অতীতেও বামেদের এই চিত্র দেখা গিয়েছে। প্রয়াত রাজীব গান্ধীকে হারাতে জ্যোতি বসুরা বিজেপির হাত ধরেছিলেন। সেবারও দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটিয়েছিল বামেরা। আটের দশকে বামেরা দেশের মানুষের সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, এবার তারা সেই একই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করল এই রাজ্যের মানুষের সঙ্গে। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যখন আন্দোলন শুরু করেছেন, তখন এইভাবে মানুষের সঙ্গে বামেদের বিশ্বাসঘাতকতা অভাবনীয়। এই রাজ্যে বামপন্থীদের রাজনীতির অবসান ঘটতে চলেছে।

পাঁচ বছর আগেও লোকসভা ভোটে যে বামেরা প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তোল্লাই দিতে গিয়ে তারা এবার ৬-৭ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাধীনতার পর এই রাজ্যে বামেদের এমন দেউলিয়া অবস্থা কখনও হয়নি। ৩৪ বছর টানা যে রাজ্যকে তারা শাসন করেছিল, সেই রাজ্যে এত অল্প সময়ের মধ্যে ভোট এত কমে যাওয়া সচরাচর রাজনীতিতে ঘটে না। এই রাজ্যে এই ঘটনা ঘটেছে, তার কারণ, বামেরা এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদত দেবে বলে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বামেদের এই বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি ভয়ংকর হবে। ৩৪ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় থেকে বামেরা কোনও কাজ করেনি। মানুষের উপর সন্ত্রাস, অত্যাচার ছিল তাদের একমাত্র কাজ। সরকারে থেকে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা তছরুপ করেছে। বাংলার মানুষ ঘৃণার সঙ্গে বামেদের প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে তারা হাত মিলিয়েছে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে। বামেরা পাশে না থাকলে এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির কখনওই এইভাবে উত্থান সম্ভব ছিল না। বামেরা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও বরাবরই তলে তলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদত করে এসেছে। এই রাজ্যে তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করেই এক সময়ে ক্ষমতা দখল করেছিল। ৩৪ বছর ধরে রাজ্যে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার পিছনে মূল শক্তি হিসাবে কাজ করেছিল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। ভোটের আগে তারা সবসময় সাম্প্রদায়িক প্রচার চালিয়ে মেককরণ ঘটাত। সেই গোপন মেরুকরণের মধ্য দিয়ে তারা ভোটে জিতত। ক্ষমতায় থেকে বামেরা যে কাজ গোপনে, প্রচ্ছন্নভাবে করত, সেই কাজই তারা এখন প্রকাশ্যে করছে। তলায় মাটি পেত না, যদি না বামেরা সেটার জোগান দিত। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর থেকে বাংলার জননেত্রী উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন। তার পিছনে গোটা রাজ্যের মানুষ এসে দাড়িয়েছে। জননেত্রীর এই উন্নয়নের কাজকে রুখে দিতে বামেরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তাসকে হাতিয়ার করেছে। বামেরা জানে সরাসরি রাজনীতি করে বাংলার জননেত্রীকে কোনওভাবে পরাস্ত করা যাবে না। সেই কারণে তারা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে হাতিয়ার করতে চাইছে। বামেদের ভোটব্যাঙ্ক এবার পুরোপুরি হস্তান্তরিত হয়েছে বিজেপির দিকে। এইভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ দেশের আর কোনও ধর্মনিরপেক্ষ দলকে কখনও করতে দেখা যায়নি। বামপন্থীরা বরাবর রাজনীতিতে আদর্শের কথা বলে। বামপন্থীরা বরাবর রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। কিন্ত তাদের এই আদর্শ যে আসলে ভন্ডামি, তাদের এই ধর্মনিরপেক্ষতা যে মুখোশ ছাড়া কিছু নয়, তা এবারের লোকসভা ভোটে রাজ্যে চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিল। যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা তারা সুক্ষ্মভাবে ক্ষমতায় বসে চালাত, সেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি তারা এখন খোলাখুলি করতে শুর করেছে। এই ধরনের স্বার্থান্বেসী, নিম্নমানের রাজনীত ভারতবর্ষে অতীতে কখনও কোনও দলকে করতে দেখা যায়নি। আসলে বামেদের রাজনীতির একমাত্র উদ্দেশ্য হল যেকোনওভাবে বাংলার জননেত্রীকে খাটো করা। তারা বরাবর এই কাজ করে এসেছে। ক্ষমতায় বসে তারা জননেত্রীকে একাধিকবার খুনের চেষ্টা করেছিল। শারীরিকভাবে জননেত্রীকে বারবার নিগ্রহ করেছিল। সেই প্রচেষ্টায় সফল না হলে তারা জননেত্রীকে কালিমালিপ্ত করার জন্য তার বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। বামেদের রাজনীতির আর কোনও উদ্দেশ্য নেই। দিশাহীনভাবে তারা শুধু জননেত্রীকে আক্রমণ করে গিয়েছে। বামেদের এই হাল। তারা জননেত্রীকে ঠেকাতে এখন সাম্প্রদায়িক শক্তির আশ্রয় খুঁজছে। বামেদের এই নীতিহীন রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলার জননেত্রী বরাবর আপসহীনভাবে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। আগামিদিনেও তিনি তার এই লড়াই আপসহীনভাবে চালিয়ে যাবেন। বামেদের উদ্দেশ্য কখনওই সফল হবে না। তাদের গোটা ভোটব্যাঙ্ক স্থানান্তর করার সমর্থন এখনও জননেত্রীর প্রতি অটুট। এবার ভোটের সময় দেখা গেল গত দু-মাস ধরে বাংলার আকাশ গেরুয়া রং দিয়ে রাঙিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হল। হাজার হাজার কোটি টাকা সাম্প্রদায়িক শক্তি এই রাজ্যে ব্যয় করল। কার্যত বাংলার জননেত্রী এই বিশাল ফ্যাসিস্ট গেরুয়া শক্তির বিরুদ্ধে একা লড়ে গেলেন। কংগ্রেস এই রাজ্যে আগেই উঠে গিয়েছে। বামেরা গেরুয়া শক্তির কাছে নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ করল। তারা গেরুয়া শক্তির কাছ থেকে অর্থ নিল। গোপন সমঝোতা করল। জননেত্রীকে রোখার জন্য সবরকম চক্রান্তে শামিল হল। কিন্তু তবুও ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট, এখনও বাংলার মানুষের বিরাট অংশের সমর্থন জননেত্রীর প্রতি অটুট। তার ভোট ব্যাঙ্কে এত চেষ্টা করেও বিশেষ ফাটল ধরাতে পারেনি বাম ও সাম্প্রদায়িক শক্তি। বাংলার মানুষ জননেত্রীর পাশে এইভাবে রাজ্যে সাময়িকভাবে মাথা চাড়া দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু এটাই বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা নয়। বাংলার রাজনীতিতে এখনও সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনও জায়গায় নেই। যাঁরা চক্রান্ত করছে, তাদের বাংলার মানুষ অচিরে প্রত্যাখ্যান করবে।

দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল যখন সাম্প্রদায়িক শক্তির সামনে নতজানু, তখন একমাত্র এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্ভীকভাবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বামেরা মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে বোঝাপড়া না করলে এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তি পায়ের তলায় সামান্যতম মাটিটুকুও পেত না। তবে সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলায় তাদের এই মাটিটুকু খুব অল্প সময়েই হারাবে। মানুষ বিশ্বাসঘাতক বামেদের এই ভোট থেকে চিনে নিয়েছে। ফলে বামেদের চক্রান্ত আগামিদিনে আর সফল হবে না। তাদের অস্তিত্ব ইতিমধ্যেই বাংলা থেকে মুছে গিয়েছে। ভবিষ্যতে এই রাজ্যের মানুষ আর বামেদের বাংলার মাটিতে কোনও স্থান দেবে না।

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers