“বাংলা” নামে গড়িমসি, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি

মেঘাংশী দাস

২০১৬ সালে বিধানসভায় পাশ হওয়া পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল করে “বাংলা করার রাজ্য সরকারের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত স্থগিত করে দিল। কেন্দ্রের তরফে জানান হয়েছে, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। তাদের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মানুষের নাম পরিবর্তন করে “বাংলা’ করার প্রস্তাব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে “বাংলা করা নিয়ে বিধানসভা সরগরম হয়ে ওঠে। সেখানে রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছে বাম এবং কংগ্রেস। কেন্দ্রকে রিমাইন্ডার পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। পাশাপাশি, এই ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নেতিবাচক সিদ্ধান্তে হতাশ বাংলার লেখক- শিল্পীদের একাংশও। রাজ্যসভায় সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লিখিতভাবে জানান, প্রস্তাবে এখনও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। রাজ্যের নাম বদলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। এরপরই বিধানসভার পাশাপাশি জন্য নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি- তিন ভাষাতেই “বাংলা; রাখার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঐ বছরের ২১ আগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই প্রস্তাব কেন্দ্র ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি যে অসন্তুষ্ট, তা চিঠিতে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সংসদের বিষয়টি জেনে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বাংলার অগ্নিকন্যা। বিধানসভায় নিজের ঘরে তিনি ঘনিষ্ঠমহলে বলেন, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। সেটি ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। সমাজ সংস্কারে যেমন বাংলার অবদান অনেক, তেমনই দাঙ্গা রোধের জন্য বেলেঘাটায় গান্ধীজি অনশন করেছিলেন। কেন্দ্রের উচিত নাম বদলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া।

২০১৬ সালের আগস্ট মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বিধানসভায় “বাংলা” নাম পরিবর্তন চেয়ে প্রস্তাব পাশ করেছিল। বিল পাশের পর তখনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ করেছিলেন মা-মাটি-মানুষ সরকারের প্রধান। কিন্তু এতদিনেও কোনওরকম গুরুত্ব যে দেয়নি, তা সংসদে বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জবাবে স্পষ্ট । সংসদে প্রশ্ন উঠেছে, এর আগে উড়িষ্যার নাম পরিবর্তন করে ওড়িশা হয়েছে। তখন তো এত দেরি হয়নি? তাহলে বাংলার ক্ষেত্রে সমস্যা কেন? আসলে বিজেপি ইচ্ছা করে দেরি করছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial