বাংলা এগিয়েছে, বাজেটে লক্ষ্য আরও উন্নয়ন

হিয়া রায়

এগিয়ে বাংলা। এটাই এখন বাস্তব। দেশের অন্য রাজ্যগুলি যা পারছে না, তাই করে দেখাচ্ছে বাংলা। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সবেতেই বাংলা উন্নয়নের শিখরে। দেশের সেরা বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র লক্ষ্য উন্নয়ন। আর সেই কারণেই সর্বক্ষেত্রে বাংলায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলা মানে এগিয়ে যাওয়া। রাজ্যের বাজেটেও তা স্পষ্ট।

প্রতিটি ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়ে, রাজস্বের পথ আরও চওড়া করে বিধানসভায় পেশ হয়েছে রাজ্যের বাজেটে। রাজ্যের বাজেট বলছে, আগামী অর্থবর্ষে উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে বরাদ্দ হয়েছে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গতবার যা ছিল ১৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে ১১ শতাংশ। বাজেটে সব থেকে বেশি উল্লেখযোগ্য হল অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীদের জন্য ৫০০ টাকা করে ভাতা বৃদ্ধি। চুক্তিভিত্তিক সি ও ডি গ্রুপের কর্মীদের জন্য অবসরকালীন ভাতা আরও এক লাখ বাড়িয়ে তিন লাখে নিয়ে যাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন স্বনিযুক্তি ও স্বনির্ভরতার কথা। উদ্যোগীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এই বাজেটে তার প্রতিফলন আরও স্পষ্ট। কেননা প্রতিবছর ৫০ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে এককালীন এক লাখ টাকা দেওয়া হবে যাতে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া পরিবহন থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে কৃষি, সমস্ত দফতরের বাজেট বেড়েছে। লক্ষ্য, উন্নয়নের যে গতি রয়েছে তা যেন আরও বাড়ে।

বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেছেন, কৃষিক্ষেত্র আমাদের এ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাড়তি নজর দিতে বলেছিলেন। আমরা এবার কৃষি দফতরের বাজেট বাড়িয়ে ৬০৮৬ কোটি টাকা করেছি। গতবার ছিল ২৭৬৬ কোটি। এর মধ্যে কৃষক বন্ধুর জন্য ২০১৮-১৯ সালে চার হাজার কোটি দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবর্ষের জন্য রাখা হয়েছে আরও তিন হাজার কোটি সংস্থান। সামাজিক পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে আরও তিন হাজার কোটির কিছু বেশী বরাদ্দ করে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ১৩১ কোটি। বিভিন্ন সংগঠন থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য, সামাজিক নানা প্রকল্পের টাকা যোগাবে এই খাত। এবার প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছে সরকারকে। আগামী বর্ষে শোধ করতে হবে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তারপরও প্রতিটি দিকে নজর দিয়ে তৈরী বাজেট আসলে রাজ্যকে অন্য দিশা দেখাবে বলেই মনে করেন অর্থমন্ত্রী। যে বাজেট ভাষণের শুরুতেই। তিনি কেন্দ্রকে বিঁধে সিবিআই, ইডি, সুপ্রিম কোর্ট, জিএসটি কাউন্সিলে সরকারি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, গত ৪৫ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালে দেশে বেকারত্ব সর্বাধিক। সেই সব কথা মাথায় রেখেই রাজ্যকে বাজেট পেশ করতে হচ্ছে মানুষের কথা ভেবে। লক্ষ্য মানুষ। জনতা।
সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ঋনপ্রধান থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলা।

সরকার জানিয়েছে, জিএসডিপির বৃদ্ধির হারে ১ নম্বরে রাজ্য। শিল্প বৃদ্ধির হার ১৬.২৯ শতাংশ। দেশের হারের তুলনায় ৩ গুণেরও বেশী। গত সাত বছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২.৫ গুণের বেশী। রাজ্যের জিভিএ বৃদ্ধি দেশের সার্বিক বৃদ্ধি থেকে ৬৫ শতাংশ বেশী। এছাড়াও কৃষি, অরণ্য ও মৎস্য চাষে বৃদ্ধি দেশে সার্বিক বৃদ্ধির থেকে ২৪৭ শতাংশ বেশী। পাশাপশি দেশের তুলনায় রাজ্যে ১৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে শিল্পক্ষেত্রে। পরিষেবা পরিক্ষেত্রে বৃদ্ধি দেশের সার্বিক বৃদ্ধির থেকে ২৬ শতাংশ বেশী। ২০১৮-১৯ সালে জিডিপি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটিতে পৌঁছচ্ছে। রাজ্যের কৃষকদের গড় আয় ২০১০-১১ সালের ৯১,০২০টাকা থেকে তিনগুণ বেড়ে ২০১৭-১৮ সালে ২,৯১,০০০ টাকা হয়েছে। ‘বাংলা ফসল বীমা যোজনা’ প্রকল্প রাজ্যের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেয় (২০%) অংশও রাজ্য সরকারই মেটাবে। রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। ২০১১ সালে প্রতি হাজারে ৩২ জনের মৃত্যু হত। এখন তা পঁচিশে নেমে এসেছে। ১০০ শতাংশ শিশুকে টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ‘সকলের জন্য নিখরচায় চিকিৎসা’ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে চার গুণেরও বেশী। ২০১১-১২ তে ছিল ২৯৬.১৬ কোটি। ২০১৮-১৯ সালে হয়েছে ১২৩১.৫২ কোটি। গুণগত ও পরিমাণগত, দু’দিকেই বেড়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার বহর। নবনির্মিত ৩৮টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে পরিষেবা পেতে শুরু করেছেন মানুষ। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে শুরু হওয়া এই বিপুল উন্নয়নযজ্ঞকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাজেটে ৯৫৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। জানালেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০১১ সাল থেকেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলা এখন এক নম্বরে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers