বাংলার সব ধর্ম, জাতি এক, বার্তা খড়্গপুরের 

নবারুণ হাজরা 

বাংলার মানুষ যে ভেদাভেদের রাজনীতি মানেন না, তা স্পষ্ট করে দিল খড়গপুর। বিজেপিকে কার্যত ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল রেলনগরী। ঘাসফুলের ঝড়ে খড়্গপুর উড়ে গেল পদ্ম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে আর রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যোগ্য নেতৃত্বে খড়্গপুর সদর বিধানসভায় এই প্রথম জয় পেল তৃণমূল। গেরুয়া শিবিরকে ২০৮৫৩ ভোটে পরাস্ত করলেন তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার। লোকসভা ভোটের তুলনায় খড়্গপুরে ২৪১৩৫ টি ভোট বাড়িয়ে ফেলল তৃণমূল। ষোলো সালের ভোটের তুলনায় এই বৃদ্ধি আরও বেশি। এই আসনটিতে ২০১৬ সালে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জিতেছিলেন। তিনি সাংসদ হওয়ায় এবার এই আসনটিতে উপনির্বাচন হয়। বিজেপি প্রার্থী ছিলেন প্রেমচাঁদ ঝা। কিন্তু সেই আসনে এবার তৃণমূল প্রার্থীকে এতটুকু লড়াই দিতে পারেনি গেরুয়াশিবির। জয়ের পর তৃণমূল প্রার্থী বলেন, “এই জয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়। মা-আাটি-মানুষের জয়। রেলনগরীর সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ।”

সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। একের পর এক রাউন্ডের গণনা শেষ হয়েছে, আর ততই বেড়েছে তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে বিরোধীদের ভোটের ব্যবধান। উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটেছেন দলীয় সদস্যরা। বেলা বাড়তেই সবুজ আবিরে একেবারে মাখামাখি রেলনগরী। শুরু হয় বিজয় মিছিলও। তৃণমূল প্রার্থী  এবার এখানে পেয়েছেন ৭২ হাজারের বেশি ভোট। আর বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ৫২০৪০টি ভোট।

ফলাফল বেরোনোর পর তৃণমূল কী সমর্থকদের দাবি, এই জয় বুঝিয়ে দিল যে মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন। তাঁর উন্নয়নেরই শরিক হতে চান তাঁরা। তাছাড়া খড়্গপুরে পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীযে যেভাবে দিনের পর দিন মানুষের পাশে ছিলেন, প্রচার করেছেন, তাতেই তৃণমূল এবার বাজিমাৎ করল এখানে। পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “মানুষ উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়েছেন তৃণমূলকে। আরও একবার প্রমাণিত মানুষ রয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই। আর তাছাড়া এই রেলনগরীর জন্য কিচ্ছু করেনি কেন্দ্র। তারই ফল পেয়েছে ওরা।” বিজেপির ভোটও লোকসভার তুলনায় ৪১ হাজার কমে গিয়েছে এখানে। এর মধ্যে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার, খড়্গপুরে বাঙালি ও অবাঙালি ভোট প্রায় সমানভাবে পেয়ে কিস্তিমাত করেছে তৃণমূল। সবদিকের ভোটই এবার ঢুকেছে  জোড়াফুলের ঝুলিতে।

এদিন ফল বেড়োনোর পরই রেলনগরীর আনাচে-কানাচে সবুজ আবির নিয়ে চলে বিজয় মিছিল। এই আসনটিতে গত বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষ জয়ী হওয়ায় স্বাভাবিকবাবেই বিজেপির কাছে এটি ছিল প্রেস্টিজ ফাইট। কিন্তু সেই ফাইটে তৃণমূল প্রার্থী কার্যত উড়িয়ে পদ্মশিবিরকে। কংগ্রেস-সিপিএমের জোটও হয়ে গেল অপ্রাসঙ্গিক।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial