বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না : অরূপ

কৌশিক বসু

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের পরই দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ইস্পাতনগরী দুর্গাপুরে এক বিশাল জনসভায় এই ঘোষনা করলেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যানমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সেইসঙ্গে মোদীকে চ্যালেঞ্জ তিনি বলেন, “পাঁকে পদ্ম ফুটবে না।’’

কয়েক দিন আগেই এই দুর্গাপুরে নেহরু ময়দানে সভা করেছিলেন মোদী। সেই সভার পাল্টা সভায় যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এই সভাকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকে সসধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ ছিল চরমে। আর সভা শুরুর আগেই সেই উৎসাহ পরিণত হল জন জোয়ারে। সভাস্থল থেকে যেন উপচে পড়েছিল মানুষ। এই সভা থেকেই দুর্গাপুরের মানুষ বুঝিয়ে দিল তারা বিজেপির পাশে নেই। আছেন উন্নয়নের পাশে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অরূপ রায় স্লোগান দেন, “ভারতের জনতা, প্রধানমন্ত্রী মমতা”। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ রীতিমতো ছুঁড়ে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, আগামী লোকসভা ভোটের পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছাড়াও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইন ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক ও ক্ষুদ্র এবং কুটিরশিল্প মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।

বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, “দুর্গাপুরে এসে বড় বড় কথা বলে ভাষণ দিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু দুর্গাপুর থেকে একটিও ভোট পাবে না তাঁর দল। শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স ও ইডিকে দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন বিরোধীদের। ৩৪ বছর ধরে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ভয় পাইয়ে লাভ হবে না।’’ মোদীকে পাঁচ গোলে হারিয়ে দেওয়ার জন্য দুর্গাপুরের মানুষকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বাংলায় যে বিজেপির জায়গা হবে না সেকথা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “পাঁকে পদ্ম ফোটে। বাংলার পবিত্র জলে পদ্ম ফুটবে না।’’ তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুরে এসে ভাষণ দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, অথচ দুর্গাপুরের বন্ধ কারখানা নিয়ে কিছুই বলে যাননি। এতেই বোঝা যায় দেশের প্রতি তাঁর দাতবদ্ধতার বহর।’’ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মনে করিয়ে দেন, “রাজ্যের উন্নয়নগুলিকে নিজেদের নামে চালাচ্ছে বিজেপি। সেমিফাইনালে হেরে গেলে যা হয় এখন তাই হয়েছে বিজেপির। থার্ড বা ফোর্থ পজিশনের জন্যে এখন লড়াই করছে বিজেপি। বিজেপির বিরুদ্ধে আগামীদিনে সবাইকে একজোট হয়ে জনমত তৈরী করতে হবে।’’ সভা থেকে সিপিএমকেও এক হাত নেন ক্রীড়ামন্ত্রী। সিপিএমকে তোপ দেগে তিনি বলেন “এখন সিপিএমের কোনও মুরোদ নেই। মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত একটা দল। কেউ ওদের আর বিশ্বাস করে না। এখন বিজেপিকে মদত দেওয়াই ওদের কাজ।’’ রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক ও ক্ষুদ্র এবং কুটিরশিল্প মন্ত্রী স্বপন দেবনাথও একযোগে শুধু বাংলা থেকে নয়, দেশ থেকেই বিজেপিকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য মোদীর সভায় যে সংখ্যক মানুষ যোগ দিয়েছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় যোগ দেন।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers