বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে কিছু করা যাবে নাঃ মুখ্যমন্ত্রী 

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

হিয়া রায় 

“ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট শুনেছি। গভর্নমেন্ট অ্যাট মিডনাইট শুনিনি। এই প্রথম তা দেখলাম”– মহারাষ্ট্রে সরকার গড়তে ধাক্কা খাওয়া বিজেপির বিরুদ্ধে এভাবেই প্রতিক্রিয়া দিলেন জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বললেন, “মাঝরাতে কে এল, কে গেল, কে শপথ নিল, কেউ জানতে পারল না। চুপিচুপি সরকার গঠন এই প্রথম।”

গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে। মানুষই ঠিক করে দেন কে সরকার গড়বে। কিন্তু মহারাষ্ট্রে মানুষের রায়কে উপেক্ষা করে নিজস্ব ক্ষমতাবলে মাঝরাতে সরকার গড়ে বিজেপি। কিন্তু সেটা যে ভুল পদক্ষেপ ছিল, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। সংবিধান দিবসেই মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার ইস্তফা দেয়। একে সংবিধানের জয়, গণতন্ত্রের জয় বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কখনও এজেন্সির নামে, কখনও অন্য থ্রেট করা হচ্ছে। কিন্তু ভয় দেখিয়ে কিছু করা যাবে না। জানবেন কিছু মানুষ আছে, যাঁরা মাথা নত করতে জানেন না। বাংলা আগেই পথ দেখিয়েছে। আজ মহারাষ্ট্র পথ দেখাল।”

বিশেষত, মহারাষ্ট্রে বিজেপির সরকারের শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল মধ্যরাতে। এমনকী কাকভোরে বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানও হয়েছিল কার্যত কাউকে না জানিয়ে। যে প্রসঙ্গ টেনেই মমতা জানান, রাত দুটোর সময় শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা ঠিক করা হয়। আর ভোর সাতটার মধ্যে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের খবর হয়ে গেল। কেউ জানতেই পারল না। এখানেই তাঁর জবাব, “এরপর থেকে রাত জেগে পাহারা দিতে হবে।” মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের ক্ষেত্রের রাজ্যপাল যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা কোনওভাবেই ভাল চোখে দেখেনি দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সংবিধান দিবসেও যে প্রসঙ্গ বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় বারবার উল্লেখ করেছেন জননেত্রী। বলেছেন, “সংবিধান রক্ষাকবচ। সংবিধান দিবসে আমি গর্বিত উচ্চ ন্যায়ালয়ের কলমের খোঁচায় সার্থক করেছে দিনটি। সর্বোচ্চ আদালত দেশের মানুষের মনের কথা বলেছে। বিশেষ দিনে একটা সরকার ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছে। যতই অহংকার করুক না কেন, জনগণ শেষ কথা বলে। জনগণ ম্যাটার করে। ব্যক্তি  ম্যাটার করে না।” পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল প্রসঙ্গে তিনি এও উল্লেখ করেন, “কেউ দাবি করল আর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন হয়ে গেল, এটা ঠিক নয়। রাজ্যপাল সব বিষয়টি দেখবেন, এটাই স্বাভাবিক। সংবিধান মেনে চলা উচিত সবার। এখন অনেকেই তা মেনে চলছেন না।”

কাশ্মীর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বন্দি ফারুক আবদুল্লার বিষয়টি টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন তাঁর প্রকাশ্যে আসতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে বিঁধেছেন তিনি। বলেন, “ফারুক আবদুল্লা কেন তিন মাস ধরে জেলে থাকবেন? কার ইগো স্যাটিসফাই করতে গিয়ে এসব করা হচ্ছে? দেশ ভাঙছে কারা? কে কী খাবে ঠিক করে দেবে একটা দল? অনেকেই ভয়ে কোনও কথা বলতে পারছে না। আমি কারও অঙ্গুলি হেলনে চলি না। আমাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না।”

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial