পুরসভার বকেয়া কর জমায় ৫০% সুদ, ৯৯% জরিমানা মুকুব

কর্মবীর দাশশর্মা

আরও একবার বকেয়া পুরকর জমা দিয়ে ৫০ শতাংশ সুদ, ৯৯ শতাংশ জরিমানা মুকুবের সুযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করছে কলকাতা পুরসভা। শুধু ঘোষণা নয়, কাউন্সিলারদের কাছে সুদ ও জরিমানা মুকুবের আবেদনপত্রও পৌঁছে যাচ্ছে শীঘ্রই। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে ওই আবেদনপত্র পূর্ণ করে জমা দিলেই ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের নেতৃত্বাধীন কমিটি দ্রুত মুকুবের ব্যবস্থা করবে। পুরসভার কর আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি মেয়র মঙ্গলবার জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য সরকারের সংশোধিত পুরআইন মেনেই মেয়র নাগরিকদের এই বিশেষ ছাড়ের সুযোগ দিচ্ছেন। তবে বকেয়া প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুরকর দ্রুত সংগ্রহের পাশাপাশি নাগরিকদের সুরাহা দিতেই পুরবোর্ডের এই সিদ্ধান্ত।”

কলকাতাবাসীর বহু বছরের বকেয়া পুরকর নিয়ে সুরাহা পেতে কোনও ‘দালাল’ বা ‘এজেন্ট’ ধরার দরকার নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এর আগে প্রবল হই -চই ফেলে নোটিস দিয়ে বকেয়া জমার সুযোগ দেওয়া হত। কিন্তু এবার দলমত নির্বিশেষে সমস্ত দলের কাউন্সিলারদের হাতেই ওই বকেয়া মুকুবের ফর্ম পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।

পুরকর জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সরলীকরণ করার পাশাপাশি বকেয়া আদায়ে কর আদায় বিভাগকে আরও সক্রিয় করতে রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছে কলকাতা পুরসভা। বোরো থেকে বোরো ঘুরে ঘুরে বকেয়া আদায় নিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি কার্যত ‘ঘুমিয়ে পড়া’ ইন্সপেক্টরদের সক্রিয় করতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন ডেপুটি মেয়র। কারণ, অধিকাংশ ইন্সপেক্টর হয় নিষ্ক্রিয়, নয়তো ঘুষ খেয়ে কমার্শিয়াল বাড়িকে আবাসিক দেখিয়ে কর কমিয়ে দেওয়া হয় বলে পুরভবনে অজস্র অভিযোগ এসেছে। এক শ্রেণীর ইন্সপেক্টর আবার বকেয়া পুরকর আদায়ে বাড়ি বাড়ি নোটিস পৌঁছে দিতে প্রবল অনীহা দেখান। বস্তুত এই কারণে এবার কলকাতার ১৪৪ জন কাউন্সিলরকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে প্রথম ৫০ বকেয়া সর্বোচ্চ করদাতার তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় শহরের বহু প্রভাবশালী ও অভিজাত বাসিন্দা রয়েছে।

কাউন্সিলরদেরই তাঁর ওয়ার্ডের করদাতার বাড়ি গিয়ে শান্তভাবে বুঝিয়ে বকেয়া জমা দিতে বলার জন্য মেয়রের তরফে অনুরোধ করা হচ্ছে। আসলে এই পদ্ধতি ও সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে শহরের কাউন্সিলর ও ইন্সপেক্টর এবং পুরকর্মীদের একটি নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে চাইছে পুরসভা। তবে আয়কর ও মিউটেশন বিভাগের পুরকর্মীদের বৈঠকে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ অত্যন্ত নরম শব্দে কড়া বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, “সময় মতো কর আদায় না করলে আগামীদিনে পুরকর্মীদের বেতন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর এখন যাঁরা নিশ্চিন্তে পুরসভায় কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির মেজাজে যে পদে ‘নিষ্ক্রিয়’ রয়েছেন তার মাস মাইনা থেমে গেলে বড় বিপদ আসতে পারে।” বস্তুত ডেপুটি মেয়রের এই ভোকাল টনিকে সক্রিয় পুরকর বিভাগ এখন সুদ ও জরিমানা মুকুবের সুযোগ দিতে প্রস্তুত হয়েছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers