পুজো শুরু বাংলায়, ১১ই কার্নিভাল

পরিযায়ী ভট্টাচার্য

বিশ্বকর্মা পুজোর হাত ধরেই পূজো এসেছে বাংলায়। পাড়ায় পাড়ায় ঢাকের বাদ্যি, গমগমে সাউন্ডবক্স, পুজো প্যান্ডেলে উৎসাহী ভিড় বলে দিচ্ছে, অপেক্ষা আর সয় না। পুজোর কাউন্টডাউনেই প্রাণোচ্ছল কলকাতা। উৎসবের রেশ গোটা বাংলায়। আকাশ এখনও মেঘলা। ভ্যাপসা গরম। গুমোট গরমে হাঁসফাঁসানি ক্রমেই যেন বেড়ে উঠছে! তবে এরই মধ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কুমোরটুলিতে চলছে ফিনিশিং টাচ। আর এই উৎসবের ক’দিন বাংলার মানুষকে নিশ্চিন্তে আনন্দ উপভোগ করার যাবতীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো-পরিষেবার  ব্যবস্থা যিনি করেছেন তিনি আর কেউ নন, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পুজোর মরশুমে বাংলার প্রতিটি গ্রামে শহরে যাতে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে তার জন্য পুলিশকে কড়া নির্দেশও দিয়েছেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! উৎসবের দিনগুলিতে কেউ যাতে এই সময় অশান্তি পাকাতে না পারে, ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচারকে হাতিয়ার করে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াতে না পারে তা দেখতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সমস্ত আধিকারিককে আরও সতর্ক হতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দলের সমস্ত স্তরের নেতা-কর্মীদের সজাগ থেকে বিভেদকামীদের ষড়যন্ত্রের উপর নজর রাখতে বলেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিরোধীরা নানারকম চক্রান্ত করে, প্ররোচনা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে গোলমাল পাকানোর যদি চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ করার জনা দলের কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। আসলে গত ৮-৯ বছরে বাংলায় মানুষের আনন্দ-উৎসবের রং আরও উজ্জ্বল হয়েছে। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, সুলতানি শাসনের স্মৃতিবিজড়িত গৌড়বঙ্গ থেকে শুরু করে বাঘ-হরিণ আরও সুন্দরী-গরান-গেঁওয়ার জঙ্গলের সুন্দরবন—সর্বত্রই মানুষ আজ নিশ্চিন্তে-নিরাপদে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। এবছর পুজোয় কলকাতার পাশাপাশি গোটা রাজ্যেই দমকলের “ফি” মকুব করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পূজো কমিটিগুলির বিদ্যুতের বিলে ২৫ শতাংশ ছাড়ের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। বাংলার প্রতিটি সর্বজনীন অনুমোদিত পুজোকে দশ হাজার থেকে বাড়িয়ে পঁচিশ হাজার টাকা করে সরকারের তরফে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এতেই শেষ নয়, মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে বাড়তি আরও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে পুজো কমিটিগুলিকে আয়কর না দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি উদ্যোগেই বিশ্ব বাংলা সম্মান ও প্রতিযোগিতা চালু হয়েছে। গতবছর থেকেই কলকাতা তথা রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের অন্য প্রদেশ এবং বিদেশের পুজোগুলিকেও বিশ্ব বাংলা সম্মান দেওয়া চালু হয়েছে মা-মাটি-মানুষ সরকারের প্রধানের নির্দেশে। বিশ্বের দুয়ারে বাংলার পুজোকে তুলে ধরতে শুরু করেছেন কার্নিভাল। পুজো শেষে রেড রোডে ৭৫টি সেরা পুজোকে নিয়ে কার্নিভাল হবে ১১ অক্টোবর। পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রেড রোডে চার ঘণ্টা ধরে যে কার্নিভাল আমরা করি তা গর্বের। এই কার্নিভাল সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত। বিদেশি চ্যানেলগুলিতেও দেখানো হয়। বহু বিদেশি দর্শক কার্নিভাল দেখতে আসেন। এবারে সংখ্যাটি আরও বাড়বে। মহালয়া পড়ছে ২৮ সেপ্টেম্বর। ওইদিন থেকেই আমি উদ্বোধন শুরু করে দেব।”

সাধারণ মানুষের কথা ভেবে এ এবার থেকে দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলিতে ভিআইপি লাইন তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে পুজোর কটা দিন মণ্ডপে মণ্ডপে ভিআইপিদের জন্য কোনওরকম বাড়তি ব্যবস্থা না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকী, চতুর্থী থেকেই পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিড়ে উপচে পড়া রাস্তায় ভিআইপিদের নীলবাতি ও লালবাতি গাড়ি চলাচলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন জননেত্রী। ভিআইপি পাসের বদলে বরং বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, সক্ষমরা যাতে সহজে পূজো দেখতে পারেন, তার জন্য বিশেষ পাসের বন্দোবস্ত করতে পুজো উদ্যোক্তাদের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। ক্লাবের সঙ্গে যুক্তদের বা পাড়ার লোকেদের সুবিধার জন্য “কার্ড এর মাধ্যমে ছাড়ের” আবেদন করেছিল ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। সেই আর্জি মেনে “ক্লাব ইনভাইটি” বা আমন্ত্রিত কার্ডের অনুমোদন দিতেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহালয়া থেকে শুরু হয়ে যাচ্ছে উৎসব। কিন্তু এই উৎসবের সময় যাতে কোনওরকমভাবে সাধারণ মানুষকে অশান্তির ফাঁদে না ফেলতে পারে চক্রান্তকারীরা তার জন্য পুলিশকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন জননেত্রী-মুখ্যমন্ত্রী । পুজোর সময় বাংলার প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মণ্ডপে মণ্ডপে মহালয়া থেকে তিনি যেমন ঘুরে বেড়ান তেমনই দলের সমস্ত মন্ত্রী-সাংসদ ও বিধায়কদের উৎসবের দিনগুলিতে মানুষের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সবাই যখন উৎসবের আনন্দে ব্যস্ত থাকেন সেই সময় স্বয়ং জননেত্রী নিজের বাড়িতে বসেই প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি এলাকায় নজরদারি করেন। আর সেই কারণেই লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নিশ্চিন্তে নেমে আনন্দ উপভোগ করেন। এবারও যে তার অন্যথা হবে না তা জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং জননেত্রী।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial