‘পুজো বন্ধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি’

শঙ্খ রায়

ক্লাবের গায়ে হাত পড়লে ছেড়ে কথা বলব না, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

হিন্দুত্ব ইস্যুতে বিজেপি নেমেছে ভাগাভাগির খেলায়। হুঁশিয়ার করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন কেন্দ্র যেন এমন সাহস না দেখায়। বাংলার গায়ে কোনওভাবে হাত দিতে দেবেন না তিনি।

কলকাতার বড় দুর্গাপুজো কমিটিগুলির কাছে পুজোর খরচের হিসাব চেয়ে আয়কর দফতরের নোটিস পাঠিয়ে বিজেপি সরকার পুজো বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তা তিনি করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, আয়কর নোটিসের তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এই নোটিসের উদ্দেশ্য কী? আমাদের দুর্গাপুজো বন্ধ করে দেওয়া? পুজো বন্ধ করতে গেলে মোদিবাবু ও বিজেপি জেনে রেখে দিও, একটা ক্লাবের গায়ে হাত পড়লে আমরা কেউ ছেড়ে কথা বলব না।”

বস্তুত কৃষ্ণনগরে জননেত্রী যেভাবে আয়িষ্মান ভারতের মতো প্রকল্প থেকে কেন্দ্রের সরকারের প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করেছিলেন, বারাসতেও সেই সুরেই জানিয়ে দিলেন এ জিনিস তিনি মেনে নেবেন না। ২৩ত্ম যাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করতে বারাসতের কাছারি ময়দানে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। যেখানে দুর্গাপুজো বন্ধ করার চক্রান্ত ফাঁস করে সরব হন জননেত্রী।

পুজোকমিটিগুলিকে আয়করের নোটিস প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “দুর্গাপুজো যারা করে তারা কি প্রফিটের জন্য করে? এরা নন প্রফিট অর্গানাইজেশন। ইনকামট্যাক্স কেন দেবে? সারা ভারতবর্ষের বুকে অনেক ট্রাস্ট আছে, অনেক মন্দির আছে, তাহলে এবার কি তারা সবাই ইনকাম ট্যাক্স দেবে?” একেবারে মোক্ষম পয়েন্টে আঘাত করে কেন্দ্রকে ঘায়েল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, “এই পুজোর জন্য চাঁদা কারা দেয়? জনগণ। তুমি দাও না, তোমার গভর্নমেন্ট দেয়? আমাদের সরকার ক্লাবগুলিকে দশ হাজার টাকা দিয়ে কমিউনিটি ডেভলপমেন্টে সাহায্য করেছে। কেন্দ্র কি এক পয়সাও দেবে যে, আয়করের নামে টাকা কেটে নেবে?” কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমস্ত ক্লাবকে একজোট হতে আহ্বান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং এই প্রসঙ্গেই নোটবন্দি-সহ ব্যাঙ্ক তছরুপের ঘটনাগুলিকে টেনে এনে বলেছেন, “কত টাকা লুঠ হয়েছে, মানুষ কি তার হিসাব পেয়েছে? যারা প্রকৃত চোর, তাদের থেকে কত টাকা ইনকাম ট্যাক্স কালেকশন হয়েছে। যারা প্রকৃত গুন্ডা তারা দেশের বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর আমার বাংলার ছেলেমেয়েরা পুজো করবে, তার জন্য ইনকাম ট্যাক্স দিতে হবে!” শুধু হিন্দুত্ব নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপি যে যে বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের প্রচার করেন, সে সবগুলিকেই বেছে বেছে তোপ দেগেছেন তৃণমূলনেত্রী। কৃষকমৃত্যু, বেকারত্ব, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এক হাত নিয়ে তাঁর আক্ষেপ, দেশে আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদির আমলে দু’কোটি মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছেন। আর বাংলায় ৪০ শতাংশ মানুষের বেকারত্ব কমেছে।

মোদির শাসনকালে ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে বারো হাজার কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বাংলায় কৃষককে বছরে দু’বার অনুদান দেওয়া হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, আমেরিকার নাম করে সবার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছে কেন্দ্র। তার সঙ্গে রাফাল চুক্তি নিয়েও কেন্দ্রকে বিঁধেছেন। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “বিশ্বাস রাখুন, ভরসা রাখুন, আস্থা রাখুন। আমরা থাকতে কোনও অসুবিধা হবে না। সব বিষয়ে সরকারের নজর আছে।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial