পুজো কমিটিকে ২৫ হাজার, বিদ্যুতেও ছাড়

বাংলার দুর্গোৎসব নিয়ে একাধিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ১১ অক্টোবর রেড রোডে কার্নিভ্যাল

সুব্রত ভট্টাচার্য

বাংলার দুর্গোৎসব। তবে সেটি শুধু বাঙালির উৎসব নয়। দুর্গাপুজোর সময় গোটা দেশ, এমনকী বিশ্বের পথও এসে মেশে কলকাতায়। সেই মহা সমাগমের জন্য আগের বছরের মতো এবছরও একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছেন বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রতিটি স্বীকৃত পুজো কমিটিগুলিকে গত বছরই নানা সুবিধা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবছর তার মাত্রা আরও কয়েকগুণ বাড়ল। পুজো কমিটিগুলির অনুদান বাড়ানো হল। একইসঙ্গে পুজো কমিটিগুলির বিদ্যুতের বিলে ২৫ শতাংশ ছাড়ের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

এবছর পুজোর জন্য এক একটি কমিটিকে দশ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এছাড়াও মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে বাড়তি আরও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সেই টাকা দেবে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ। পুজো শেষে রেড রোডে ৭৫টি সেরা পুজোকে নিয়ে কার্নিভাল হবে ১১ অক্টোবর। একইসঙ্গে পুজো কমিটিগুলিকে আয়কর না দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “যেমন সুগার ফ্রি, তেমনই এবার ইনকাম ট্যাক্স ফ্রি পুজো। গঙ্গাসাগরে কি ট্যাক্স লাগে? উৎসবে আবার ট্যাক্স কী?” সেইসঙ্গে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে লালবাজারের পুলিশকর্তারা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সমন্বয় বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা, রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র এবং মুখ্যসচিব মলয় দে। ছিলেন সমস্ত ধর্মের প্রতিনিধিরাও। এই সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রেড রোডে চার ঘণ্টা ধরে যে কার্নিভাল আমরা করি তা গর্বের। এই কার্নিভাল সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত। বিদেশি চ্যানেলগুলিতেও দেখানো হয়। বহু বিদেশি দর্শক কার্নিভাল দেখতে আসেন। এবারে সংখ্যাটি আরও বাড়বে। মহালয়া পড়ছে ২৮ সেপ্টেম্বর। ওইদিন থেকেই আমি উদ্বোধন শুরু করে দেব। গত পাঁচ বছর ধরে মহরম ও পুজো একইসঙ্গে পড়ত। এবার তা আর হচ্ছে না। তবু আমরা একইসঙ্গে মহরম ও পুজো সামলে এসেছি। এটা বাংলার ঐতিহ্য। প্রত্যেকে দায়িত্ব পালন করেছে। আমাকে নাকি বলা হয়, আমি বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দিই না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছোটবেলা থেকেই পুজো আসার আগে বাবার কাছে নতুন জামা, জুতো কিনে দেওয়ার জন্য বায়না করতাম। আমি সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাই। আমার ভাল লাগে। মনে রাখবেন, একটি সামান্য ঘটনা অনেক কিছুই ঘটিয়ে দিতে পারে। একবছর তো দক্ষিণের একটি ক্লাব এমন পুজো করেছিল শহর অচল হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নগরপালকে ছুটতে হয়েছিল মেট্রোয় চেপে। অন্যের অসুবিধা করে সেই সমস্ত পুজো করবেন না।”

মুখ্যমন্ত্রী এদিনই ঘোষণা করেন, “দুর্গাপুজো করার জন্য কমিটিগুলিকে সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্যদ এবার ২৫ শতাংশ ছাড় দেবে বিদ্যুৎ বিলে। ৮ অক্টোবর দশমী। ওইদিন থেকে বিসর্জন দেওয়া যাবে। শুধুমাত্র কার্নিভালে আসা সেরা পুজোগুলি বিসর্জন দেবে ১১ অক্টোবরের পর।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলার পুজোকে আমি বদনাম হতে দেব না। এমনকী, এই পুজোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে দেব না।”

সাধারণ মানুষের কথা ভেবে এবার থেকে দুর্গাপুজোর মন্ডপগুলিতে ভিআইপি লাইন তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে পুজোর ক’টা দিন মণ্ডপে মণ্ডপে ভিআইপিদের জন্য কোনওরকম বাড়তি ব্যবস্থা না রাখার নির্দেশ দিলেন তিনি। এমনকী, চতুর্থী থেকেই পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিড়ে উপচে পড়া রাস্তায় ভিআইপিদের নীলবাতি ও লালবাতি গাড়ি চলাচলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড়ের মাঝে ওই সমস্ত ভিআইপির জন্য খুবই সমস্যা হয়। অনেক ভিআইপি আবার লাল-নীল বাতির গাড়িতে চেপে পরিবার নিয়ে পুজো দেখতে বের হন। কেন বাবা, তাঁরা সকালবেলা বের হন না কেন? পুজোর সময় ভিআইপি আবার কী? সবাই এলআইপি।” এলআইপি মানে মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চান, “লেস ইমপর্ট্যান্ট পারসনস’। ভিআইপি পাসের বদলে বরং বৃদ্ধবৃদ্ধা, বিশেষভাবে সক্ষমরা যাতে সহজে পুজো দেখতে পারেন, তার জন্য বিশেষ পাসের বন্দোবস্ত করতে পুজো উদ্যোক্তাদের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ক্লাবের সঙ্গে যুক্তদের বা পাড়ার লোকেদের সুবিধার জন্য ‘কার্ড’-এর মাধ্যমে ছাড়ের আবেদন করেছিল ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। সেই আর্জি মেনে ‘ক্লাব ইনভাইটি’ বা আমন্ত্রিত কার্ডের অনুমোদন দিতেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial