পিজির-বিপরীতে তৈরি হবে ক্যান্সার হাসপাতাল

দীপঙ্কর মান্ডি

পিজি হাসপাতালের বিপরীতে ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “চিকিৎসা দিবস”-এর অনুষ্ঠানে  মুখ্যমন্ত্রী সরকারি ও কর্পোরেট জগতের চিকিৎসকদের সম্মানিত করেন। সেখানেই মা-মাটি-মানুষের নেত্রী বলেন, পিজির এমারজেন্সির উল্টোদিকে সরকারি জমি রয়েছে, ওই জমি আমর ট্রান্সফার করে দেব, ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির জন্য।

গত আট বছরে পিজিতে অনেক নতুন নতুন বিল্ডিং হয়েছে। ঝাঁ চকচকে হয়েছে ক্যাম্পাস। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“পিজিকে এখন “ফাইভ স্টার হোটেল” মনে হয়। অনেকেই আমায় এই কথা বলেছেন। কিন্তু সমস্যা হল, পিজিতে আর জায়গা নেই।” মুখ্যমন্ত্রী ক্যানসার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কত আধুনিক হয়েছি আমরা। চিকিৎসাবিজ্ঞান কত এগিয়েছে। তবু ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছলে চিকিৎসকদের আর কিছু করার থাকে না। যতই কেমোথেরাপি দিন কোনও লাভ নেই। ডা. গৌতম মুখোপাধ্যায়কে বলেছিলাম, খোঁজ নিয়ে দেখুন, এতদিন হয়ে গেল, ক্যানসারকে হারানোর কোনও উপায় পাওয়া গেল না।” মুখ্যমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ,“মৃত্যুর ১৫ দিন আগেও ডা. সুব্রত মৈত্রের সঙ্গে কথা হয়েছে। দু’টি কেমো নিলেন। চলে গেলেন। কিছু করা গেল না। ক্যানসার হ্যাস নো অ্যানসার”।

ডায়াবেটিস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পিজিতে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই উদ্বোধন হয় ট্রমা কেয়ার সেন্টারের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ ট্রমা সেন্টারের জন্য ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। সবটাই রাজ্য সরকারের। এখানে ২৫০টির মতো শয্যা রয়েছে। আরও ১৪ কোটি টাকা খরচ করে পিপিপি মডেলে স্ক্যান, এমআরআই করার ব্যবস্থা হয়েছে। সাতশোর উপর চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের অন্যতম সেরা ট্রমা কেয়ার সেন্টার  হবে এটি।

মা-মাটিমানুষের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যে রাজ্যের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পাঁচটি স্বাস্থ্য জেলা, ১৬ টা মাদার আ্যান্ড চাইল্ড হাব তৈরি হয়েছে রাজ্যে। সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকার প্রসৃতিদের জন্য “ওয়েটিং হাট’ তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যে বাংলা এক নম্বরে। ২০১১- তে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। এখন সেটা বেড়ে ৯৭.৫ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। শিশুর মৃত্যুর হার বত্রিশ থেকে চব্বিশে নেমে এসেছে। প্রসূতি মৃত্যুর হার একশো তেরো থেকে একশো একে নেমেছে।”

মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তারের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা ১০ হাজার ডাক্তার চেয়েছিলাম। পেয়েছি ছ’হাজার। ঘাটতি রয়েছে ৪ হাজার । গ্রামে যে সব ডাক্তাররা কাজ করছেন তাদের স্থানীয় ভাষা জানতে হবে। এইমসের আদলে পিজির উডবার্নে পে বেড চালু করা হয়েছে। ওই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই মডেল অন্য সরকারি হাসপাতালে চালু করা হবে। অনেক কম খরচায় নার্সিং হোমের মতো পরিষেবা মিলবে। পিজিতে দেড়শোটা ঘর হচ্ছে। রোজগারের ৭৫ শতাংশ হাসপাতালের উন্নয়নে খরচ হবে। ২৫ শতাংশ ডাক্তাররা ইনসেনটিভ পাবেন।” কলকাতা পুলিশ হাসপাতালকে পিজির সঙ্গে যুক্ত করে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন জন গণ মন অধিনায়িকা। তিনি বলেন,“হাসপাতালটা অনেকদিন ধরে পড়ে আছে। ওটা নিয়ে নাও। পিজির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এত বড় জায়গা, এত বড় পরিকাঠামো। অথচ কাজে লাগছে না।” রাজ্যের ৩৭ জন চিকিৎসকে “বিশিষ্ট চিকিৎসক সম্মান” দেন মুখ্যমন্ত্রী! জীবনকৃতি সম্মান পান ডা. সুবীর দত্ত, ডা. বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, ডা. সুকুমার চন্দ্র, ডা. রামকৃষ্ণ দত্ত রায়, ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায়, ডা. ধীমান গঙ্গোপাধ্যায়। এঁদের প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী! মুখ্যমন্ত্রী জুনিয়র ডাক্তারদেরও সম্মান জানানোর কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “পরের বছর ১ জুলাই নার্সদেরও সম্মান দেওয়া হবে। জুনিয়র ডাক্তারদের সম্মান জানানো হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন ডা. তাপস রায়চৌধুরি, ডা. অরুণাভ সেনগুপ্ত, ডা. দয়ালবন্ধু মজুমদার, ডা. মাখনলাল সাহা, ডা. প্লাবন মুখোপাধ্যায়, ডা. গৌতম মুখোপাধ্যায়, ডা. ইন্দ্রজিৎ সর্দার, ডা. হৃদিকেশ কুমার, ডা. অরিন্দম কর, ডা. নিরঞ্জন ভট্টাচার্য, ডা. সোমনাথ দাস, ডা. সুচন্দ্রা মুখোপাধ্যায়, ডা. সুজয় ঘোষের মতো বহু বিশিষ্ট চিকিৎসক। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, হাসপাতালে কোনও একটা গন্ডগোল হলে ৫০০ জন চলে আসতে পারে। সেখানে “পিআর’ করার ব্যবস্থা পুলিশ ও হাসপাতালের তরফে রাখতে হবে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ি ভাঙচুর হয়, হাসপাতালেও গন্ডগোল হয়। দুর্ঘটনাপ্রবণ ব্ল্যাক স্পটগুলির আশপাশে থাকা দোকানদারদের “পথবন্ধু অ্যাপ” দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তারাই অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেবেন।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial