পর্যটনের আরও উন্নয়নে প্রতি জেলায় টুরিজম বোর্ড

রানার চক্রবর্তী

পর্যটনে উন্নতিতে প্রতি জেলায় ‘ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম বোর্ড’ গঠন করছে রাজ্য সরকার। এই পর্ষদের নেতৃত্বে থাকবেন জেলাশাসক স্বয়ং। জেলা পর্যটন আধিকারিক সদস্য সচিব হিসাবে থাকবেন। এছাড়াও জেলার দু’জন বিশিষ্ট মানুষকে বোর্ডে মনোনীত হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। কীভাবে পর্যটনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে বোর্ড । বিধানসভায় দফতরের বাজেটে এই তথ্য জানান পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি উল্লেখ করেছেন, সুন্দরবনের ক্ষেত্রে হাউস বোট কেনা হয়েছে। এতে ২৫-৩০ জন একসঙ্গে জলপথে ভ্রমণ করতে পারবেন। কোচবিহার, নবদ্বীপকে হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইআইটি, খড়গপুরের বিশেষজ্ঞরা দেখছেন, কীভাবে ঐতিহ্যশালী এলাকার উন্নতি ঘটানো যায়। এছাড়াও ডেলো, ঝালং, চালসায় নয়া পর্যটনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার ।

শিলিগুড়ি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে প্রায় ২৯৭ হেক্টর এলাকাজুড়ে ‘ওপেন এয়ার সাফারি’ ঘুরে দেখতে বিধায়কদের আহ্বান করেন মন্ত্রী। গজলডোবা প্রকল্পের প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী জানান, দুর্গাপুরের মতো সেখানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হবে। সেচ দফতর থেকে জমি নিয়েছে পর্যটন দফতর। তাঁর বক্তব্য, “গজলডোবায় প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ অনেকটাই শেষ হবে। ২০৮ একরজুড়ে এই সুসংহত টুরিজম হাব সম্পূর্ণ হলে দেশের মধ্যে বৃহত্তম প্রকল্প হবে।

বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্গাপুরে স্টেট ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট যা আহরণ নাম দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা গত জুলাই মাস থেকে তিন বছরের বিএসসি কোর্স শুরু করেছে। এই রাজ্যে পর্যটন ক্ষেত্রে এটি প্রথম রাজ্য সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশীয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সুবিধার জন্য পর্যটন বিভাগ সমগ্র রাজ্য জুড়ে একাধিক স্থায়ী ইনফরমেশন কিয়স্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়াও ওই বিভাগ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ২০টি মোবাইল টুরিস্ট ইনফরমেশন কিয়স্ক চালু করবে। পর্যটন নিগমের লজগুলিকে আরও পর্যটন বান্ধব ও আকর্ষণীয় গড়ে তুলতে থ্রি স্টার সুবিধাযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুকুটমণিপুর ও বাবুঘাটে হাউসবোট চালু করার পরিকল্পনাও নিয়েছে দফতর। পূর্ত দফতরের হাতে থাকা ৭২টি ‘পথসাথী’কে অধিগ্রহণ করে ভ্রাম্যমাণ পর্যটকদের জন্য মোটেল হিসাবে গড়ে তোলা হবে। বারাকপুরের মঙ্গল পাণ্ডে ঘাট থেকে অন্নপূর্ণা মন্দির পর্যন্ত গঙ্গাতীরের অঞ্চলকে হেরিটেজ কমপ্লেক্স হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই বেঙ্গল টুরিজম ফেস্টিভ্যাল, দুর্গাপুজো ও রেড রোড কার্নিভাল বিশ্বের দরবারে স্থান পেয়েছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers