দেশ বিক্রি করে কেন্দ্র, আমরা রক্ষা করিঃ মমতা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

শঙ্খ রায়

কেন্দ্রের সরকার জনস্বার্থে কাজ করে। জনগণের স্বার্থে নীতি আনে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা খুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। তাতেই দেশের উন্নতি। দেশের অগগ্রতি। কিন্তু আমাদের কেন্দ্রের সরকার জনস্থার্থ-বিরোধী। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার সঙ্গে বাংলার বরাদ্দে কাটছাঁটের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়েছে। এর বিরুদ্ধেই গর্জে উঠলেন মা-মাটি- মানুষের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনমুখী ‘বন্ধুত্বের বাজেট” পেশ করে সরাসরি আক্রমণ করেছেন মুখোশধারীদের আসল চেহারাটা দেখিয়ে। বলেছেন, “এলআইসি, রেল, বিএসএনএল বিক্রি করে দিচ্ছে কেন্দ্র। দেশের অর্থমন্ত্রী বললেও আর হবে না। আমরা কিন্তু এসব কিছু করিনি। ওরা বিক্রি করে। আমরা রক্ষা করি। একটা চাকরিও খাই না। আমরা বন্ধ করার পক্ষে নই। খোলার পক্ষে। এজন্যই বনধ সমর্থন করি না। রুগ্ন সংস্থাগুলিকে আমরা একে অপরের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছি। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছি। ৩৪ বছরে তো আরেকটা রাজনৈতিক দলও সে সব করতে পারত। কিন্তু তারা স্রেফ লোকই ঢুকিয়ে গিয়েছে।”

বন্ধু সরকার পেশ করেছে বন্ধু বাজেট। জনমুখী বাজেট। যাকে কেন্দ্র করে হইহই পড়ে গিয়েছে। কেন্দ্র প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এর পরও একার কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে বাজেটে একাধিক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছে রাজ্যের সরকার। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এই বাজেট জনগণের বাজেট। জনগণের সরকারের বাজেট। দরকারের বাজেট।” পরে টুইটও করেন। বলেন, “আমরা জনসাধারণের বাজেট পেশ করেছি। সরকারি কোনও সংস্থার উপর কোপ পড়েনি। বহু সম্প্রদায়ের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছি।” এর পরই কেন্দ্রকে তোপ দাগেন। বলেন, “কেন্দ্রের সরকার যদি পরিস্থিতি বদলাতে চায়, তবে রাজ্যের সঙ্গে কাজ করে মানুষের মুখের সেই হাসি চওড়া করতে পারে। আমরা মানুষের উপরই সবটা ছেড়ে দিলাম। তারাই বলুক কাদের বাজেট ভাল।” কেন্দ্র কত টাকা ফাঁকি দিচ্ছে? সংখ্যাটা ৫০ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। এর আগে ৩৮ হাজার কোটি টাকা পাওনা। কাশ্মীরকে নতুন করে গড়ার জন্য প্রত্যেক রাজ্যের প্রাপ্য বরাদ্দ থেকে ১ শতাংশ করে কেটে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু তার পরও ফাঁকি। তা নিয়েই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এসব করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হচ্ছে।

আমরা সর্ব ধর্ম, সর্ব বর্ণে বিশ্বাসী । সবাইকে নিয়ে চলাই আমাদের ধর্ম। আমাদের বাজেট তাই গরিব মানুষের জন্য ন্যয় বিচার। এখানে আমরা কোনও প্রকল্প তো বদ্ধ করিইনি। উল্টে বরাদ্দ আরও বেড়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সবটাই জানিয়েছি। বুলবুলের টাকাই দিচ্ছে না” কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা আর টাকা থাকা সত্ত্বেও রিজার্ভ বাঙ্কের সমর্থনের পরও তারা একে একে দেশের অর্থনীতিকে রুগ্ন করে দিয়েছে। সরকারি সমস্ত প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। বদলে রাজ্য কী করছে? কেন্দ্রের অনুদান নেই। বরাদ্দে কাটছাঁটের পরও একের পর এক প্রকল্প চলছে। সঙ্গে বরাদ্দ তো বাড়ছেই। মুখামন্ত্রীর কথায়, “দিল্লির হাতে টাকা আছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আছে। কেন্দ্রই সব রাজ্যকে অনুদান দেয়। পরিকল্পনা করে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ওরা একতরফ করে। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু করে না। প্ল্যানিং কমিশন তুলে দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কোনওরকম পরিকাঠামো ছাড়াই নোটবন্দি, জিএসটি, ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে পা বাড়িয়েছে কেন্দ্র।

তাঁর কথায়, “এই পরিস্থিতিই তিনদিক থেকে মানুষকে ধাক্কা দিয়েছে। মানুষের উপর কর না চাপিয়ে এত সামাজিক কাজ কেউ করেনি। আমাদের গরিব রাজ্য। কর নেওয়ার জায়গা কম। তবে আমাদের বাজার খুব শক্তিশালী ।”এত সবের পরও কেন্দ্রকে রাজ্যের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মা-মাটি-মানুষের নেত্রী। যোগ্য প্রশাসকের মতোই বলেছেন, “এমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। মানুষের সমস্যা হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের হয়। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের ডাকুন। পরামর্শ নিন। চাইলে আমরাও বসতে রাজি।”

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial