দেশের স্বার্থে সাংসদরা লড়াই চালিয়ে যাবেন, মমতায় আস্থা মানুষের

মেঘাংশী দাস

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে রাজ্যে একনম্বর দল যে তৃণমূল কংগ্রেস, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল রাজ্যের আমজনতা। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস বলছে, আগামী দিনেও তিনি সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য যে লড়াই ও আন্দোলন করছিলেন তা চালিয়ে যাবেন। বাংলা জুড়ে মা-মাটি-মানুষ সরকারের যে ঢালাও উন্নয়ন চলছিল, জননেত্রীর নেতৃত্বে তা-ও পূর্ণ উদ্যমে চলব। তবে মনে রাখতে হবে শুধু ভোট নয়, সারাবছর মানুষের পাশে, মানুষের কাজে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি মেনেই আগামী দিনেও একইভাবে গ্রামে গ্রামে কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাবে। গত পাঁচ বছর সংসদে দলেরচ সাংসদরা বাংলার দাবি তুলে ধরে লড়াই করেছিলেন। এবারও রাজ্যসভার পাশাপাশি লোকসভা ভোটে সদ্য জয়ী ২২ সাংসদ সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। এবার ভোটে সিপিএম নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে, কংগ্রেস অস্তাচলে, তাই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এবারও সংসদে নেতৃত্ব দেবে তৃণমূলই। আড়াই বছর আগে নোটবন্দির ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে ঠেলে দেবে। নেত্রীর সেই ঘোষণা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষের সেদিনের যন্ত্রণাকে সংসদে পৌঁছে দিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। এবারও সে পথেই দেশের সাধারণ মানুষের দাবি ও চাহিদাকে সংসদে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর জোড়া ফুলের জয়ী ২২ সাংসদ। সঙ্গে থাকবেন রাজাসভার তৃণমূল সাংসদরাও।

এবারের লোকসভা ভোটে শুধু নিজের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা নয়, গতবারের চেয়ে এবার এক ধাক্কায় চার শতাংশ ভোট বাড়িয়েছে জোড়াফুল। পাঁচ বছর আগে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ভোট ছিল ৩৯.২ শতাংশ। আর এবার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা-মাটি-মানুষ সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির টানে সেই ভোট বেড়ে হয়েছে ৪৩.৪ শতাংশ। ভোটের পর বাংলার মানুষ শপথ নিয়েছেন দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবে একমাত্র সাধারণ মানুষের দল তৃণমূল কংগ্রেসই।

এবারের ভোটে দলের কর্মী ও নেতাদের জন্য স্বয়ং নেত্রী গর্বিত, কারন, বিজেপির সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের মধ্যে দাড়িয়েও সমানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে জোড়াফুলের সৈনিকরা। ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলায় উন্নয়নের ইস্যুকে সামনে রেখে সমানে লড়ে গিয়েছেন তৃণমূলের নিচুতলার সাধারণ কর্মীরা। বস্তুত সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে নেত্রীর স্লোগান ও আদর্শকে সামনে রেখে দলের সাধারণ কর্মীদের লড়াই এবং সংগ্রামকে স্যালুট করেছে তৃণমূল হাইকমান্ড। আগামী দিনে এই কর্মীরাই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বাংলা থেকে উৎখাত করবে বলে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল। দলের তরফে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করা হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির এই উত্খানের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। কারণ, দেশ থেকে সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি, এই দু’টি বিষয়কেই নিশ্চিহ করে দিতে চায় গেরুয়া শক্তি। এরা মানুষের অধিকার হরণ করার জন্য চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। এরা বিদ্যাসাগরের মূর্ত ভেঙে বাংলার মনীষীদের অপমান করেছে। রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্রের পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগামীদের অবদানকে মুছে দিতে চাইছে। তাই ভোটের ফলে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত না হয়ে এই ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাড়ানোর ডাক দিয়েছে তৃণমূল। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৪২ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীরা ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। ২২ কেন্দ্রে প্রার্থীরা জিতেছেন। বামের ভোট পুরোপুরি বিজেপির পক্ষে চলে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি আসনে খুবই কম ভোটে হেরে গিয়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কারণ, বামপন্থীরা নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে পারেনি, বিজেপির প্ররোচনার ফাঁদে পা দিয়ে দলের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমুর্তিকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন পার্টি কমরেডরা। তাই লালপার্টির ভোটারদের সমর্থন পেয়ে কোথাও কোথাও জিতে গিয়েছে গেরুয়া। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বারবার বিভিন্ন জনসভায় স্বয়ং জননেত্রী দফায় দফায় বলেছিলেন, বামপন্থীরা প্রকাশ্যেই বিজেপির হয়ে কাজ করছে। বেশ কিছু কেন্দ্রে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসও বিজেপির কাছে বিকিয়ে গিয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু জেতেনি, আগের তুলনায় মার্জিন বাড়িয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা।

কলকাতার পাশাপাশি দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম জেলায় তৃণমূল শুধুমাত্র জিতেছে তাই নয়, অধিকাংশ আসনে মার্জিন বাড়িয়েছেন জোড়াফুলের প্রার্থীরা। কলকাতা উত্তর আসনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণ কলকাতায় মালা রায় জিতেছেন আগের লোকসভা ভোটের ফলের চেয়ে বেশি ভোটে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় চার আসনে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। ডায়মন্ডহারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতবার জিতেছিলেন ৭১ হাজার ভোটে। এবার জিতেছেন ৩ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে। জয়নগরে প্রতিমা মণ্ডল, মথুরাপুরে সি এম জাটুয়া গতবারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। উত্তর শহরতলিতে দমদম আসনে সৌগত রায়, বারাসতে কাকলি ঘোষদস্তিদার, দু’জনেই একই আসন থেকে জয়ের হ্যাটট্রিক করলেন। হাওড়ায় প্রসূন বদ্দ্যোপাধায়, উলুবেড়িয়ায় সাজদা আহমেদ, দু’জনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। মানুষ যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঢালাও উন্নয়ন ও কর্মযজ্ঞে আস্থা রেখেছেন, তার প্রমাণ এবার তৃণমূলের ভোট শতাংশের হার বৃদ্ধি। কারণ গোটা দেশে তার কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথীর মতো অসংখ্য প্রকল্প এখন অনুকরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য রাজ্যেও এই প্রকল্পগুলি অন্য নামে সেখানকার সরকার চালু করেছে। এমনকী, কেন্দ্রীয় সরকার মুখ্যমন্ত্রীর চালু করা মেডিসিনের ফেয়ার প্রাইস শপ গোটা দেশে লাগু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ গরিব মানুষকে এভাবেই সরকারি পরিষেবা ও সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কারিগর একমাত্র বাংলার অগ্নিকন্যা। নেত্রীর এই সমস্ত প্রকল্পই আরও নিবিড়ভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে তৃণমূল।

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial