দেশকে বাঁচাতে ব্রিগেডে এক সুরে সরব ২৩ নেতা

তীর্থ রায়

বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেডের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদির কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে যে, তাদের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। যেভাবে বাংলার জননেত্রীর নেতৃত্বে দেশের ২৩ জন শীর্ষ নেতা হাতে হাত ধরে বিজেপিকে লোকসভা ভোটে হারানোর অঙ্গীকার করলেন তা অভূতপূর্ব। দেশের সমস্ত নেতাই একটি কথা ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্বাস করেন যে, প্রধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদির আমলে গত ৫ বছরে দেশের সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। মোদির হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করা ছাড়া এখন কোনও বিকল্প পথ নেই। ব্রিগেড থেকে সমস্বরে একটাই আওয়াজ উঠেছে, ‘মোদি হঠাও, দেশ বাঁচাও’। মোদিকে হঠানোর ব্যাপারে দেশের কোনও নেতা কোনও দ্বিমত নেই। ব্রিগেডে হাজির ছিলেন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা। সেখানে যেমন ছিলেন কাশ্মীরের নেতা ফারুক আবদুল্লা ও ওমর আবদুল্লা, তেমন ছিলেন সুদূর কন্যাকুমারিকা তথা তামিলনাড়ুর নেতা এম কে স্ট্যালিন। ফলে ব্রিগেডের যে আওয়াজ, তা মূলত কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত আপামর ভারতবাসীর আওয়াজ। এই ভারতবাসী আজ জোরদারভাবে ঘোষণা করছে যে, দিল্লিতে আর এক মুহুর্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রয়োজন নেই। দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশকে অখণ্ড রাখতে হলে এখন দরকার বিকল্প সরকার।

ব্রিগেড থেকে মোদি হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন সব নেতা। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে যথার্থভাবেই বলেছেন, “মোদি সরকারকে হঠানোই এখন সবচেয়ে বড় কাজ”। দেশে বিকল্প সরকার কার নেতৃত্বে হবে তা নিয়ে এখনই ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই। বিজেপিকে তথা মোদিকে হারানো গেলে দেশে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লোকের অভাব হবে না বলে বাংলার জননেত্রী ঘোষণা করেছেন। তবে দেশনেতা হিসাবে যে বাংলার জননেত্রীকেই আজ গোটা দেশ দেখতে চায়, তা স্পষ্ট হয়েছে ব্রিগেডের সভাতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতারা একবাক্যে বলেছেন, বাংলার জননেত্রী এই সংকটের মুহুর্তে দেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ব্রিগেডে যে লাখো লাখো মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, তাঁরাও সকলে দিল্লিতে এবার দেখতে চান একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রীকে। যিনি অবশ্যই তাঁদের প্রিয় বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ব্রিগেড সভা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। গোটা দেশের যা পরিস্থিতি তাতে মোদির বিদায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ব্রিগেডের সভায় দেশনেতারা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন দেশ বাঁচাতে মোদি হঠানো জরুরি হয়ে পড়েছে। পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। নোটবন্দি ও জিএসটি করে দেশের বিশাল অসংগঠিত ক্ষেত্রকে মোদি একেবারেই শেষ করে দিয়েছেন। ছোট শিল্প ও ব্যবসায় যুক্ত কোটি কোটি মানুষ আজ মোদির নীতির কারণে বেকার হয়ে গিয়েছে। আজ গোটা দেশজুড়ে এক ভয়াবহ বেকারত্ব নামিয়ে এনেছে মোদি সরকার। ব্রিগেডের সভা থেকে সমস্ত বিরোধী দলনেতা একটি ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ আজকে ভাঙনের মুখে। মোদি সরকার দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য কোনও কাজ করেনি। কিন্তু, ভোটে জেতার জন্য দেশের মানুষের মধ্যে তারা বিভাজন করে দিয়েছে। বিভাজনের মধ্যে দিয়েই নিজেদের ভোট সংগঠিত করতে চায় মোদি সরকার। নিজেদের ভোট সংগঠিত করার মধ্যে দিয়ে তারা ফের পাঁচ বছরের জন্য দেশের ক্ষমতায় ফেরার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে।

ব্রিগেডের সভায় তৃণমূল নেত্রী একদিকে যেমন আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন হার্দিক প্যাটেল, জিগনেশ মেওয়ানি, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবদের মতো দেশের তরুণ তুর্কি নেতাদের, তেমনই অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ব্রিগেডে হাজির হয়েছিলেন ফারুক আবদুল্লা, শরদ যাদব, শরদ পাওয়ার, দেবেগৌড়ার মতো প্রবীণ নেতারা। নবীন আর প্রবীণের মধ্যে এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন বাংলার জননেত্রী। পাশাপাশি, ব্রিগেডের সভায় ছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু, এইচ ডি কুমারস্বামী, এম কে স্ট্যালিন-এর মতো নেতা। যাঁদের নেতৃত্বে আজ দেশের কোটি কোটি মানুষ সংগঠিত হচ্ছে। সবমিলিয়ে ব্রিগেডের এই সমাবেশ ছিল এক ঐতিহাসিক সমাবেশ। গোটা দেশের এই ধরনের সভা আগে দেখা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২৩ জন সর্বভারতীয় নেতা এক মঞ্চে এসেছিলেন, তারা একসঙ্গে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। ব্রিগেডে অতীতে অনেক বড় বড় সভা হয়েছে। আগামিদিনেও হয়েতা অনেক বড় বড় সভা হবে। কিন্তু এই ধরনের ঐতিহাসিক সমাবেশ আগে হয়নি। আগে কখনও ব্রিগেডে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা, অরুণাচল প্রদেশ থেকে গুজরাট—এইভাবে গোটা ভারতের নেতৃত্বকে আসতে দেখা যায়নি। নরেন্দ্র মোদিকে হঠানোর প্রয়োজনীয়তা থেকে ব্রিগেডের এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন ঘটেছিল।

আগামী লোকসভা ভোটে কী হতে চলেছে ? তার সুর বাঁধা হয়ে গিয়েছে ব্রিগেড সমাবেশ থেকে। ব্রিগেডের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশ। তাতে আরও আতঙ্কিত নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা। মোদি ব্রিগেডের সভার পর থেকে লাগাতার বিভিন্ন সভায় বাংলার জননেত্রীকে ইঙ্গিত করে আক্রমণ করে চলেছেন। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রুচিহীনভাবে বাংলার জননেত্রীকে আক্রমণ করছেন। আসলে ব্রিগেডের সভা দেখে মোদি ও শাহরা এখন আতঙ্কিত। তারা বুঝতে পেরেছে, তাদের হাত থেকে ক্ষমতা চলে যাচ্ছে। সে কারণে তারা উল্টোপাল্টা কথা বলে, নেতাদের রুচিহীনভাবে আক্রমণ করে নজর অন্যদিকে ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। মোদি-শাহরা যতই চেষ্টা করুন দেশের মানুষের নজর ঘোরাতে, তা আর সম্ভব হবে না। দেশের মানুষ আজ তাদের শিক্ষা দিতে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। তাদের পাঁচ বছরের কৃতকর্মের ফল এখন ভুগতেই হবে। মানুষ এখন দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে চাইছে। এই গণতন্ত্র ফেরা সম্ভব একমাত্র বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। লোকসভা ভোটে দেশের মানুষ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এক বিপুল রায় দিতে চলেছেন, তা ব্রিগেডের সভা থেকেই বোঝা গিয়েছে। ভোট হলেই সেটা প্রমাণিত হয়ে যাবে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers