দাঁতের যত্ন

ডাঃ শান্তনু সেন
দিনে অন্তত দু’বার দাঁত মাজুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে। মনে রাখবেন রাতে দাঁত মাজার পর একমাত্র জল ছাড়া কিছু খাওয়া উচিত নয়। কারণ, খাবারের টুকরো দাঁতের গোড়ায় জমে থাকলে সেই স্থানে ব্যাকটেরিয়া ফারমেনটেশন ঘটে। তৈরি হয় অ্যাসিটিডি। তার থেকেই ক্রমশ দন্তক্ষয় অথবা দাঁতের গোড়ায় পাথর জমে সৃষ্টি হয় পায়োরিয়া।
কেমন করে ব্রাশ করবেন?
দাঁত ভাল রাখার জন্য কেমন করে দাঁত মাজবেন সেটাও জানা দরকার।  আমাদের শরীরচর্চায় যেমন কতকগুলি পদ্ধুতি, নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়  ঠিক তেমন দাঁত মাজার সময়ও বারোটা নিয়ম আপনাকে মেনে চলতে হবে। যেমন নিচের পাটির দাঁত যখন মাজবেন তখন দাঁতের এবং মাড়ির সংযোগস্থলে ব্রাশের ব্রিসলসে সামান্য একটু চাপ দিন। এবার আস্তে আস্তে উপরের দিকে টানতে থাকুন, আবার এর উল্টো পদ্ধুতিটা প্রয়োগ করুন উপরের দাঁতগুলি মাজার সময়। ব্রাশের ব্রিসল-এ বেশি চাপ দিয়ে দাঁতের ভিতরের ও বাইরের অংশ মাজতে হবে। দাঁত ব্রাশের জন্য কখনও হার্ড ব্রাশ ব্যবহার করবেন না। আবার আঙুল দিয়ে দাঁত মাজাও ঠিক নয়। কারণ আঙুলের চাপ ব্রাশের চাপের মতো শক্ত হয় না।
দাঁত মাজতে গুল-কয়লা
দাঁতের যত্ন নিতে তেল, নুন, গুল কয়লার ছাই, নিমগাছের ডাল অথবা যে কোনও শুকনো পাউডার জাতীয় মাজন দিয়ে দাঁত মাজা একেবারে বাদ দিতে হবে। এগুলি দাঁতের দ্রুত ক্ষয় হতে সাহায্য করে।  দাঁত ভাল রাখতে নন মেডিকেটিভ ডেন্টাল পেষ্ট সব সময় ব্যবহার করা উচিত। তবে, দন্ত  বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো কোনও ব্যাক্তিকে মেডিকেটেড টুথপেষ্ট ব্যবহার করার উপদেশ দেওয়া হয়।
দাঁতের ছোপ
অনেকেরই দাঁতে ছোপ ছোপ দাগ চোখে পড়ে। এতে দাঁতের শ্রী বলতে কিছু থাকেনা। এই ছোপ দাগ পড়ে দু’ভাবে- ইনট্রিফসিস ফ্যাক্টর এবং এক্সট্রিনসিফ ফ্যাক্টর দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত ঝরা। ফ্লু ও রাইড মিশ্রিত পানীয় জল খাওয়া, জন্ডিস-বস্তুত এসব কারণে দাঁতের উপর ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। একে বলে ইনট্রিফসিস ফ্যাক্টর। অন্যদিকে চা, কফি সিগারেট, পান, সুপারি প্রভৃতি খাওয়ার ফলে দাঁতের নিজস্ব রং ও চেহারা পাল্টে যায়। দাঁতে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। এক্সট্রিনসিফ ফ্যাক্টরের আওতায় এগুলিকে এক্সট্রিনসিক ফ্যাক্টর বলা হয়। এই সব ছোপ দাগ তুলতে স্কেলিং পলিসিং দু’টি পদ্ধুতির মাধ্যমে দাঁত ঝকঝকে করে নেওয়া যায়। আবার অনেক সময় ব্লিচিং করে দাঁতের রং ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আক্কেল দাঁত 
আক্কেল দাঁত বলতে আমরা মোট ৪টি দাঁতকে বুঝি। উপরের চোয়ালে যে কোনও দু’টি এবং নিচের চোয়ালে যে কোনও দু’টি। ১৮ বছর বয়স থেকে আক্কেল দাঁত ওঠার ব্যাথা হতে পারে। এর চেয়ে বেশি বয়সেও আক্কেল দাঁত উঠতে পারে। যাদের ৩২টি দাঁত ধরার জায়গা থাকে না তাদেরই আক্কেল দাঁত ওঠার সময় অসহ্য যন্ত্রণা হয়। কারণ দাঁত ঠেলে ওঠার সময় জায়গা চায়। এই ব্যাথা যে শুধু মাড়ি চোয়ালে হবে তা নয়, মুখের গ্ল্যান্ড, কান, টনসিলের জায়গা ইত্যাদিও প্রচন্ড ব্যাথা হতে পারে। গ্ল্যান্ড বীভৎস ফুলে গিয়ে জ্বর হয়। তবে, আক্কেল দাঁতের ব্যাথা একেকজনের ক্ষেত্রে একএকরকম হয়। অনেকসময় মাড়ি অপারেশন করে দাঁত ওঠার জায়গা করে দিতে হয়।
শিশুর দুধের দাঁতের যত্ন
আমাদের দাঁতের সৌন্দর্য্য বহুলাংশে নির্ভর করে দুধ দাঁতের যত্নের উপর। এ জন্য শিশুর বাবা-মার যথেষ্ট সচেতন হওয়া দরকার। কারণ দুধদাঁতের ক্যাভিটির জন্য অনেক আগেই দাঁত তুলে ফেলতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই নতুন দাঁত সেই জায়গায় নাও বেরোতে পারে। অথবা ভিতরে আটকেও যেতে পারে। এজন্য ছোট বয়স থেকেই দাঁতের প্রতি নজর দিতে হবে। যেমন চকোলেট বা মিষ্টি শর্করা জাতীয় কোনও খাবার খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ এই সব খাবার দাঁতের গায়ে লেগে থেকে মাড়ির ক্ষয় রগ সৃষ্টি করে। ছোট্ট বয়স থেকে দাঁত মাজানোর অভ্যাস করানো দরকার। ছোট্ট বাচ্চার দাঁতের প্রতি গাফিলতি করবেন না। মুখের ভিতরে কোনও ঘা, দাঁতের  ছোটখাটো ইনফেকশনে অ্যান্টিসেপটিক মাউথওইয়াশ অবশ্যই উপকারী যা মাড়ি ও দাঁতের স্বাস্থ্য আংশিকভাবে রক্ষা করে। হঠাৎ দাঁতের দাঁতের ব্যাথা, স্বস্তি পাওয়ার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার খাওয়া উচিত নয়।  দন্ত বিশেষজ্ঞকে দিয়ে দাঁতের পরীক্ষা করানোর পর ঠিক করা উচিত দাঁতের ব্যাথায় কি করবেন। তবে, দাঁত ভালো রাখতে, নিজেই দাঁতের যত্ন নিন, অসুবিধা হলে দন্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers