দশ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কিনবে রাজ্য

কৌশিক বসু

রাজ্যে আলু চাষিদের পাশে জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্য সরকার। আলুর বাড়তি ফলন হলেও কৃষকদের কোনও ক্ষতি হবে না। রাজ্য সরকার সব সময় তাদের পাশে থাকবে। আলু চাষিদের অভয় দিয়ে এবার এই বার্তাই দিলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে আলু চাষিদের মুখে হাসিও ফোটালেন তিনি।

রাজ্য সরকার আলুচাষিদের পাশে থাকবে। তারকেশ্বরে মাটি উৎসবের সূচনা করে এমন ঘোষনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দিয়েছেন, দশ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কিনবে রাজ্য। অঙ্গনওয়াড়ি, মিড ডে মিল-সহ সরকারি নানা স্টলেও বিক্রি করা হবে তা। এজন্য সবমিলিয়ে নবান্নের খরচ হবে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে পরিবহণে। বাড়তি ফলনের কারণে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সাধারণ মানুষকেও আলু বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ ও আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মাটি উৎসব থেকে যখন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘোষণা করেন, তখন সেখানে উপস্থিত মানুষ উচ্ছাসে ফেটে পড়েন। হুগলি জেলার তারকেশ্বর-সহ সংলগ্ন এলাকা আলু চাষের জন্য বিখ্যাত। এবার আবহাওয়া অত্যন্ত অনুকূল থাকায় ও সরকারি সুবিধা পর্যাপ্ত হওয়ায় আলুর অতিরিক্ত ফলন হয়েছে। তবে এই বাড়তি ফলনই চিন্তায় রেখেছে আলুচাষিদের বা আলুচাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় কোটি মানুষকে। বাড়তি ফলন কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় তাঁরা। কিন্তু জননেত্রীর ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই সকলে খুশি। গত বছরেও অভাবি বিক্রি রুখতে আলু কিনেছিল মা-মাটি-মানুষের সরকার। কৃষকদের পাশে রাজ্য সরকার কীভাবে দাঁড়িয়েছে, তা মাটি উৎসবের মঞ্চ থেকেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়ে দেন, কৃষকদের পাশে রয়েছে নবান্ন। আর তার ফলেই সারা দেশের প্রেক্ষিতে এ রাজ্যে কৃষকদের অবস্থা অনেকটাই ভাল। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, কৃষি জমির মিউটেশন ফি নেওয়া হচ্ছে না, খাজনা মকুব করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকবন্ধু প্রকল্পে সাহাষ্য করা হচ্ছে কৃষকদের। ধানও কিনছে রাজ্য সরকার।

তারকেশ্বরের কিছুটা দূরেই সিঙ্গুর। সেখানে কৃষক আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মনুমেন্টের শিলান্যাস করেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সিঙ্গুরে আমরা কথা রেখেছি। সিঙ্গুরের জমি ফিরিয়ে দিয়েছি। ভাতা দেওয়া থেকে শুরু করে দুই টাকায় চাল, গম পেয়েছেন ওই পরিবারগুলি। দুর্দিনে ছিলেন যখন তাদের জন্য কাজ করা আমাদের কর্তব্য।” জননেত্রী আরও উল্লেখ করেন, সারা দেশে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এখানে কৃষকরা নিরাপদ কারণ, তিনি নিজেই সব ব্যাপারে নজর রাখেন। সেই কারণেই সারা দেশে যখন কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে কেন্দ্র, তখন এ রাজ্যে কৃষকের আয় তিনগুণ ছাড়িয়েছে আগেই। লোকসভা ভোটের আগে কৃষক সমস্যা সর্বভারতীয় স্তরে বড় ইস্যু। মাটি উৎসবের মঞ্চ থেকেই জনসেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দেন, তিনি কৃষকের পাশেই থাকবেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে আর্জি রেখেছেন, “আলু বেশি করে খান। আলু ভাজা থেকে শুরু করে আলু কাবলি, আলু ভাতে অনেকরকম রেসিপি হতে পারে। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেই আলু খান।” এমনিতেই বাঙালির আহার তালিকায় আলু থাকেই। হুগলি, বর্ধমান, নদিয়া, মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু চাষ হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বর্তা দিয়েছেন, আলুর ফলন বেড়ে গিয়েছে বলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers