দর্পচূর্ণ

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

অহঙ্কার পতনের মূল। এই অতি অহঙ্কার, জনবিরোধী নীতির জন্য বড়বড় সাম্রাজের পতন হয়েছে। ইতিহাস তার সাক্ষী। আজ কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিরও সেই একই পরিস্থিতি দেখছে দেশ। একের পর এক নির্বাচনে দেশের জনসধারণ তাদের প্রত্যাখ্যান করছে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, বিজেপি হারছে। সংকীর্ণতা, বিভাজনের রাজনীতি মানুষ চায় না। মানুষ উন্নয়ন চায়।” বস্তুত, কেন্দ্রের এই সরকার ও শাসক দল একদিকে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে অর্থনীতির হাল তলানিতে। বাজারে সব জিনিসের অগ্নিমূল্য। খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। মানুষ খাবে কী? এর মধ্যে ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে এর জবাব দিয়েছে জনতা। মানুষের মধ্যে ভাঙনের চক্রান্ত ব্যর্থ করেছে দিল্লির মানুষ। বিজেপির সংকীর্ণ, বিদ্বেষ, বিভাজনের রাজনীতি মানুষ চায় না। মানুষ উন্নয়ন চায়। তাদের এত ধর্মান্ধতা, সংকীর্ণতার রাজনীতি করেও জয় হয়েছে দিল্লিবাসীর। আস্ত একটা কেন্দ্রীয় সরকার তার সর্বস্ব এজেন্সি দিয়ে গায়ের জোরে একটা কিছু করব বলে দখল করার চেষ্টা করেছিল, ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অতিরিক্ত দম্ভ এই পরাজয়ের কারণ। দিল্লিতে গণতন্ত্রপ্রিয়, ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের জয় হয়েছে। মানুষের জোটই হারিয়ে দিল বিজেপিকে।

নতুন বছর শুরুর আগেই ঝাড়খণ্ড নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। এতে বিজেপি বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছে ঝাড়খণ্ড মক্তিমোর্চা (জেএমএম)-কংগ্রেস জোটের কাছে। তার আগে গত ১২ মাসে বিজেপি মহারাষ্ট্র, ছস্তিশগড়, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের রাজ্য নির্বচিনে পরাজিত হয়েছে। জননেত্রীর আহ্বান, এবার সময় এসেছে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। তাই আমরা আজ এক হই। গণতন্ত্রকে রক্ষা করি। কেন্দ্রের শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পথ প্রশস্ত করি। হিসাব বলছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশের ৭১ শতাংশ এলাকায় বিজেপির শাসন ছিল। এখন তা কমে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। দুই বছর আগেও ভারতের জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ মানুষ বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাস করত। এখন তা ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আসলে ‘আচ্ছে দিন’-এর স্বরূপ জনতা চিনে ফেলেছে। “ম্যাজিক” দেখিয়ে সরকারে টিকে থাকা যায় না। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এককভাবে বা শরিক দলের সঙ্গে মিলে পাঞ্জাব, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গোয়া এবং অরুণাচলপ্রদেশ, এই সাতটি রাজ্য তাদের দখলে ছিল। পরের বছর আরও ছ’টি রাজ্য তাদের দখলে চলে আসে। ২০১৬ সালে দখলে থাকা মোট রাজ্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫। ২০১৭-তে আরও চারটি রাজ্য যোগ হয় তাতে।

২০১৮-র সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট ২১টি রাজ্যের দখল চলে আসে গেরুয়া শিবিরে। সেইসময় শুধুমাত্র তামিলনাড়ু, কেরল, কর্নাটক, মিজোরাম, পাঞ্জাব, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলঙ্গানা তাদের হাতে ছিল না। কিন্ত এর পরেই একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া হতে শুরু করে বিজেপির। এখন তাদের হাতে থাকা বড় রাজ্য বলতে মাত্র উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল ও উত্তরাখন্ডই রয়ে গিয়েছে।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial