তৃণমূলের নেতৃত্বেই হবে দিল্লীতে সরকার : মমতা

 শঙ্খ রায়

দেশের সকলের জন্য সমান উন্নয়ন। সব রাজ্যকে সমান বন্টন। বাংলাকে বঞ্চিত করে নয়। উত্তরপ্রদেশে হিংসা ছড়িয়ে নয়। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়ে নয়। সত্যিকারের সকলকে নিয়ে গোটা দেশের উন্নয়ন। আর সেই কাজ একমাত্র করতে পারে বাংলাই। বাংলাই দেশকে পথ দেখাতে পারে। বাংলার হাত শক্ত করতে পারে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, দাক্ষিণাত্য একের পর এক রাজ্য তার পর একসঙ্গে শামিল হবে দেশের উন্নয়নে। কিন্তু সবার আগে দেশের ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে। না হলে আটকে থাকবে একের পর এক অনুদান। যেভাবে আটকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা স্বপ্নের প্রকল্প। এয়ার ইন্ডিয়া, টেলিফোনের পাশাপাশি রুগ্‌ণ করে দেওয়া হবে নানা সংস্থাকে। বাংলা-সহ অন্যান্য রাজ্যের একাধিক প্রকল্প অর্ধেক জীবনেই মুখ থুবড়ে পড়বে। দেশের জন্য হানিকর এই ক্ষমতাকে সরাতেই তাই বাংলার নেতৃত্বে জোট বেঁধেছে ইউনাইটেড ইন্ডিয়া। জনসভা থেকে সেই কথাই তুলে ধরলেন জননেত্রী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন গোটা দেশ কীভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশকে বাঁচাতে, তাকে অক্সিজেন দিতে অবিলম্বে আঞ্চলিক দলগুলিকে সামনে রেখে বাংলার নেতৃত্বে প্রয়োজন জনতার জন্য গণতান্ত্রিক সরকার গড়ে তোলা। জননেত্রী স্পষ্ট তাই বলে দিয়েছেন, “বিজেপি ও কংগ্রেস কেউই এককভাবে দিল্লীতে ক্ষমতায় আসবে না। আমাদের আঞ্চলিক দলের ইউনাইটেড ইন্ডিয়া জোট এবার নতুন সরকার তৈরি করবে। নেতৃত্ব দেবে বাংলা ও উত্তরপ্রদেশ।” তিনি আরও সরকার গঠন করতে দিন। মানুষ যাতে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেটাই আমরা দেখব।” বাংলার জন্য তিনি যে যে সামাজিক প্রকল্প এনেছেন, সেগুলি দেশের মানুষের জন্যও আনা হবে ক্ষমতায় এলে। নেত্রী জনগণকে উদ্দেশ করে বলেন, “সমস্ত প্রকল্প চলবে। আপনার শুধু তৃণমূলের পাশে থাকুন।”

টানা ১০০ দিনের সভা নেত্রী গোটা রাজ্যজুড়ে ছুটে করে বেড়াচ্ছেন। মাঝে একদিন কলকাতায় ফিরেছিলেন পয়লা বৈশাখে। ওইটুকুই বিরতি। টানা ১২ দিনের সভা সেরে ফের প্রচারে। সেই সভা থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও তার দলকে আক্রমণ করেন দলনেত্রী। প্রধানমন্ত্রী যে ঝুটা সে কথা বলেই আক্রমণ করেন। বলেন, করি। কিন্ত ঝুটাকে নয়। দেশে এখন নেতার দরকার। চৌকিদার নয়।” নেত্রী এই পরিস্থিতিতে একটি রিশোর্ট পেয়েছেন। তাতে তিনি নিশ্চিত, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাল ফল হবে। এমনকী, দিল্লীতেও আর ফিরছে না বিজেপি। আঞ্চলিক দলগুলি মিলে নতুন সরকার তৈরী করবে। যাতে তৃণমূলের খুব বড় ভূমিকা থাকবে। প্রথম দফার ভোটের পর এই রিপোর্ট পেয়ে গোটা দেশে বিজেপির কী পরিস্থিতি হবে, তা তুলে ধরেন জননেত্রী। বলেন, বিজেপির ১০০ আসনও পেরনো মুশকিল। একের পর এক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন নেত্রী। বলেন, “বিজেপি জিতবে কোথায়? উত্তরপ্রদেশের যে চারটি আসনে ভোট ছিল একটিও বিজেপি পাচ্ছে না। কোনও রাজ্যেই ভাল ফল হবে না। এখন মনে হচ্ছে বিজেপির ১০০ পেরোনো মুশকিল।”

বস্তুত, এই অবস্থা হলে, ভোটের আগেই একপ্রকার পরিষ্কার হয়ে গিয়েছেন, নতুন সরকারে নেতৃত্ব দেবে বাংলা। তিনি বলেন, “কেন্দ্রে এবার নতুন সরকার আসছে। আঞ্চলিক দলগুলি মিলে সরকার তৈরি করবে। সেই সরকারের লিডার (প্রধানমন্ত্রী) কে হবেন, ভোটের পর সবাই মিলে বসে ঠিক হবে। সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। সরকার গঠনে দিল্লীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। এমন সরকার হবে যা মানুষকে বিরক্ত করবে না, জ্বালাবে না, ভয় দেখাবে না।” প্রধানমন্ত্রী দেশের সেনার নামে ভোট চাইছেন। সেই নিয়ে তাকে চূড়ান্ত আক্রমণ করছেন দেশের মানুষ। প্রাক্তন সেনাপ্রধানরাও তার প্রতিবাদ করেছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলেই নেত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর মতো সেনার নাম করে আমরা ভোট চাই না। দেশের সেনারা আকাশের তারা। অথচ তাদের নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। প্রাক্তন সেনাপ্রধানরা আজ প্রতিবাদ করেছেন। আমরা তাঁদের সমর্থন করছি। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ আর আলুওয়ালিয়া, তোমরা চলে যাবে, কিন্তু সেনারা দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তত থাকবে চিরদিন।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers