তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ খুন, ধৃত দুই বিজেপি কর্মী

হিয়া রায়

সত্যজিৎ বিশ্বাস। নদিয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। বয়স ৩৮ বছর। দলের যুব নেতা। দক্ষ সংগঠক। সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতেন। সাধারণ মানুষের আপদে-বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করতেন। মা-মাটি-মানুষের উন্নয়নকে পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে। এলাকার মানুষের কাছে অতি পরিচিতও ছিলেন তিনি। এলাকার মানুষকে সাধ্যমতো সাহায্য করতেন তিনি। কিন্তু  তাকেই খুন করা হল। সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনের ডাক এসেছিল। তিনি গিয়েছিলেন। উদ্বোধনও করেছিলেন। অনুষ্ঠান মঞ্চের কাছেই গুলিতে ফুঁড়ে দেওয়া হল তরুণ বিধায়ককে। খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে আততায়ীরা চম্পট দেয়। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জন বিজেপি কর্মীকে। দলীয় বিধায়ক নিহতের ঘটনায় শোকাহত জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যজিতের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের গোটা পরিবার সত্যজিতের আত্মীর়-পরিজনদের পাশে আছে। এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। যার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে জানায় তৃণমূল কংধ্রেস। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কাছের ছেলে ছিল সত্যজিৎ। একেবারে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। এর পিছনে বিজেপির মদত আছে। সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন যে গদ্দার তার মদত রয়েছে এই ঘটনায়। বিজেপির একাংশের নেতারা ওখানে গিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন, প্ররোচনা দিয়েছেন।” সত্যজিৎ বিশ্বাসের বাড়ি হাসখালিতে। হাসখালি থানারই ফুলবাড়িতে একটি সরম্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন। উদ্বোধন সেরে যখন মঞ্চ থেকে নেমে আসছেন, তখনই ভিড়ের মধ্যে থেকে তাকে গুলি করা হয়। কানের পাশে মাথার পিছনদিকে গুলি লাগে। রক্তাক্ত সত্যজিৎবাবু মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

বিধায়ককে তড়িঘড়ি গাড়িতে চাপিয়ে স্থানীয় বগুলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। সেখান থেকে তাঁকে রেফার করা হয় কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বছর দেড়েক আগে সত্যজিৎবাবু বিয়ে করেছিলেন। তাঁর সন্তানও রয়েছে। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান ছাড়াও রয়েছেন বৃদ্ধ মা এবং ভাই ও তাঁর পরিবার।

২০১৫ সালে কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সুশীল বিশ্বাসের আকস্মিক মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন সত্যজিৎবাবু। বিপুল ভোটে জিতে বিধায়ক হন তিনি। সেবারই বিধায়ক পদে প্রথম জেতা। এরপর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। বিধায়ক হওয়ার আগে থেকেই জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন তিনি। জনস্বার্থকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। দলীয় বিধায়ক মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। সত্যজিতের বাড়িতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থবাবু বলেন,“রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপি এই খুন করিয়েছে। মানুষ এর জবাব দেবে।” খুনে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিহত দলীয় বিধায়কের বাড়িতে যান। পরিবারের পাশে দাঁড়ান। সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ যদি ভাবে দুর্নীতি করে, খুনে মদত দিয়ে, অন্য কোনও প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাবে, তাহলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। দোষীরা কেউ ছাড়া পাবে না।” ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কার্তিক মন্ডল ও সুজিত মন্ডল নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খোঁজ চলছে অভিজিৎ পুন্ডারী নামে আরও এক যুবকের। নদিয়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক অনুব্রত মন্ডল বলেন, “এটা বিজেপির চক্রান্ত। ২০১৯ সালে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না জেনে এই নোংরা রাজনীতি করছে।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers