তৃণমূলই গড়বে দিল্লির সরকার

রানার চক্রবর্তী

রাজ্যে বিজেপি লাড্ডু পাবে? বাংলা থেকে একটি আসনেও জিততে পারবে না সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী ওই দল। সারা দেশেও একশোটির বেশি সিট পাবে না বিজেপি। লোকসভা ভোটের প্রচারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিটি সভাতেই এই বার্তাই দিয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একমাত্র তিনিই বিজেপির স্বার্থবিরোধী নীতির বিরোধিতা প্রথম থেকে করে আসছেন। তাই মানুষের নয়নের মণি তিনি। তাঁকে সামনে রেখেই মানুষ বিজেপির দুঃশাসন থেকে রক্ষা পেতে চাইছে। দুর্গাপুর হোক বা নদিয়া, প্রতিটি সভাতেই তিনি আবেদন রেখেছেন, বিজেপির সরকার নোটবাতিল করে মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। আপনারা ওদের বাতিল করে দিন। বিজেপি এখান থেকে লাড্ডু পাবে। রাজ্যের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, “আমরা বিজেপির হিন্দুত্ব মানি না। বিজেপি স্বার্থপর দৈত্য। টাকা ছড়িয়ে ভোট কিনতে চাইছে। আমাকে ধমকালে আমি গর্জাই। আমাকে ধমকালে আমি বর্ষাই।” নোটবন্দি বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে জিএসটি চালু, সবক্ষেত্রেই বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মানুষের স্বার্থে এনআরসি-র সমালোচনাতেও মুখর ছিলেন। ভোটের প্রচারেও তিনি বললেন, “এনআরসি-র নামে ২২ লক্ষ হিন্দুর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলায় নাগরিকপঞ্জি করতে দেবনা।” বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে কটাক্ষ করেছেন, “পাঁচ বছর নিজে কী কাজ করেছেন? যে আমার কাজের ফিরিস্তি চাইছেন? আগে ছিলেন চাওয়ালা। এখন নিজেকে চৌকিদার বলেন। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি। ধর্মের নামে অস্ত্র হাতে মিছিল করছে। গদা দিয়ে মিছিল বাংলার সংস্কৃতি নয়।”

জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনা,- “গোহারা হারবে বিজেপি। মোদি যত সভা করবেন, তত জিতবে তৃণমূল।” বাংলার মাটিতে লোকসভা ভোটপর্ব শুরু হয়েছে ১১ এপ্রিল। ইতিমধ্যে ১০টি আসলে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। বাকি চার দফায় ৩২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। আপাতত তারই প্রচার চলছে জোরকদমে। মুখ্যমন্ত্রী প্রচারসভা করেছেন নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূম ও অন্য জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে। শ্রীরামপুর স্টেডিয়াম মাঠে তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় নেত্রীর ভবিষ্যদ্বাণী, “বাংলা থেকে রসগোল্লা পাবে বিজেপি। দশটি আসনে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। এই দশটি আসনেই বিজেপি হারবে। বাংলার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই। যারা দেশে বিভাজনের রাজনীতি করে, তাদের পাশে মানুষ নেই। বাংলা কোনও দাঙ্গা করার জায়গা নয়। যে দাঙ্গা করবে তার মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে দিতে হবে।” শুধু বাংলা নয়, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু-সব রাজ্যেই বিজেপির ভরাডুবি হবে। তৃণমূল নেত্রীর সমালোচনা, “মোদিবাবু ভোটপাখি। ভোট হলে আসেন। বন্যা, খরার সময় পাওয়া যায় না। কেন্দ্রের সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কালো টাকা উদ্ধার করতে পারেনি। কিন্তু নির্বাচনে দেদার কালো টাকা খরচ করছে বিজেপি।” টাকা বিলিয়ে বিজেপি যেন ভোট কিনতে না পারে, সে ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, “তৃণমূল থাকা মানে মানুষ নিরাপদ।”

নোটবন্দি, জিএসটি, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, এনআরসি-সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে আমজনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, “দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র শান্তি বজায় রাখতে মোদিকে বিদায় দিন। আগামিদিনে নতুন সরকার আসবে। জনগণের সরকার আসবে।” পাঁচ বছরে কেন্দ্রের সরকার কোনও উন্নয়ন করতে পারেনি। উল্টে বেকারত্ব বেড়েছে, কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। আর এসবের মধ্যে মোদি সাড়ে চার বছর শুধু বিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। বাংলা নামের প্রস্তাব বিধানসভায় পাস হলেও, কেন্দ্র তা আটকে রেখেছে বলে আক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। “রাজোর নাম বাংলা করতে দিচ্ছে না। বিধানসভায় দু’বার নামের প্রস্তাব পাস হয়েছে। বাংলা দু’নম্বরে উঠে আসবে বলেই তা করতে দিচ্ছে না। বাংলা নামে ওদের আ্যালার্জি আছে।” প্রশ্ন তুলেছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে যদি তারকেশ্বর, তারাপীঠ, ইসকন, দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাটের উন্নয়ন হতে পারে, তাহলে পাঁচ বছরের জমানায় মোদি কেন রামমন্দির বানাতে পারলেন না। তিনি বলেছেন, “মোদি জানেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁকে তাড়াতে পারেন। তাই বারবার এখানে এসে চমকাচ্ছেন। আমি চুপ করে থাকব না। গলা কেটে দিলেও আমি নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা করব না।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers