জনপরিবহনে দেশকে পথ দেখাচ্ছে বাংলা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

শুভেন্দু আধিকারী

সামাজিক,অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সঠিক পরিবহন ব্যবস্থার ভুমিকা অনস্বীকার্য। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিবহণ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে। তার আগে এই রাজ্যে পরিবহন ব্যবস্থার সকল ক্ষেত্রে অবস্থা ছিল বেহাল,অনিয়ন্ত্রিত ও দিশাহীন। একদিকে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাগুলির পরিচালনার ক্ষেত্রে দলবাজি,দুর্নীতি, পরিকল্পনার অভাব, আনুদ্যোগ ও সর্বোপরি কর্মসংস্কৃতির অভাবে পরিবহনের ক্ষেত্রে জনগনের প্রত্যাশাপূরণ দূরে থাক,যথেষ্ট বিরক্তি ও হতাশার কারন হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনিক শিথিলতা ও অস্বচ্ছতা, সিদ্ধান্ত গ্রহনে দ্রুততার অভাব, মালিক- কর্মচারী সংঘাত, অকারনে ধর্মঘট, চাক্কা-বন্ধের প্রবনতা ধীরে ধীরে পরিবহন ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানার উদ্যোগে বিমুখতা দেখা যাচ্ছিল। জলপথ পরিবহনে সরকারের ভুমিকা ছিল উদাসীন- অনিয়ন্ত্রিত জলযান ব্যবহার, যাত্রীদের নিরাপত্তার অভাব, জেটিঘাতের দুরবস্থা ইত্যাদির ফলে পরিবহনের এই ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনও উন্নতির লক্ষন ছিল না।

তাই মা – মাটি – মানুষের সরকার ক্ষমতায় এসেই পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গত ছয় বছরে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহন করে পরিবহনের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের জন্য সঠিক পদক্ষেপ করেছে। দফতরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৃহীত কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করলেই অগ্রগতি ও উন্নতির সঠিক চিত্র ফুটে উঠবে।

সড়ক পরিবহন

রাজ্যের সড়ক ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতির পাশাপাশি সাধারন মানুষের মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগের চাহিদাও বাড়ছে। সেই চাহিদা মতো পরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাগুলি অগ্রণী ভুমিকা নিয়েছে। উন্নতমানের পরিচালন পদ্ধতি, এলাকাভিত্তিক পরিচালন দায়িত্ব, নিজেদের মধ্যে অমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হ্রাস ও জনগনের চাহিদামতো রাজ্যের প্রত্যন্ত স্থানের সঙ্গে সুনিশ্চিত যোগাযোগ স্থাপন ছাড়াও যথেষ্ট সংখ্যায় নতুন বাস নামানো ও কর্মচারীদের পরিষেবা প্রদানের আগ্রহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলিকে এই ক’টা বছরে আর্থিকভাবে প্রায় স্বনিভর করে তুলেছে এবং পরিষেবার ক্ষেত্রে রাজ্যে সংস্থাগুলির ভুমিকাকে এক উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে উত্তরন করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সহর কলকাতার রাস্তায় নতুন একগুচ্ছ এ.সি. বাস ও অন্যান্য উন্নতমানের বাস নামানোর ফলে একদা জীর্ণ পরিবহন ব্যবস্থার আজ চোখে পড়ার মতো উন্নতি ঘটেছে এবং সাধারন যাত্রীর ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে রেল যোগাযোগ বেহাল হয়ে পড়া সত্ত্বেও যাত্রী পরিবহণে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলির ভুমিকা অভূতপূর্ব ও প্রশংসনীয়। তাছাড়াও,বিভিন্ন সময় জরুরিকালিন পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছে পরিবহণ দফতর। যেমন,- বন্য কবলিত কেরল থেকে ফেরা বাংলার বিভিন্ন জেলার মানুষকে নিখরচায় বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে রাজ্য পরিবহণ সংস্থা। সম্প্রতি বেহালা, ঠাকুরপুকুরে ছোট ছোট বাস চালিয়ে মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এছাড়াও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অ্যাপ- নির্ভর পরিবহণ,স্মার্ট কার্ড, ইলেকট্রনিক্স ডিসপ্লে বোর্ড ইত্যাদি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। কলকাতা শহরের জন্য চালু করা নতুন ২০টি মিনি এসি বাস গণপরিবহণে বিশেষ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এছাড়াও পরিবেশ-বান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালানোর বিশেষ উদ্যোগ এবছরে বাস্তবায়িত হতে চলেছে এবং উন্নততর পরিষেবার লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমগুলির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বিবেচনাধীন। সব মিলিয়ে সরকারি পরিবহন ব্যবস্থা এখন রাজ্যের গর্ব-আগের মতো সলজ্জ উপস্থিত নয়।

এছাড়াও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিয়মগুলির উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল-ভলভো এসি বাস সার্ভিসের মাধ্যমে (বাংলাশ্রী এক্সপ্রেস) কলকাতার সঙ্গে সদরগুলির সরকারি যোগাযোগ এবং জঙ্গলমহলের উন্নয়ণের স্বার্থে বিশেষভাবে পরিকল্পিত বাস-যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফিফা অনুর্ধ্ব সতেরো বিশ্বকাপ এবং বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিত-২০১৮’র মতো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের জন্য সুপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার আয়োজনও বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে।

অন্যদিকে পরিবহণের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দিতে স্বচ্ছ অ সহজতর পারমিট প্রদানের ব্যবস্থা করতে সরকারি নীতি প্রনয়ন এবং সেই মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলির যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ সমগ্র রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করে তুলেছে। ফলস্বরূপ গত ছ’বছরে প্রায় ১৫ হাজার বাস-পারমিট দেওয়া ও প্রায় ১২০০ নতুন রুটে বাস পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। আন্তঃরাজ্য বাস পরিষেবা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ উন্নতির লক্ষ্যে পড়শি রাজ্য সিকিমের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য পরিবহণ চুক্তির পুনর্বিন্যাস হয়েছে এবং ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন নো রিফিউজাল ট্যাক্সি, অ্যাপ-নির্ভর ট্যাক্সি, রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ম্যাক্সিক্যাব,অটোরিক্সা, ই-রিক্সা প্রভৃতি নতুন পরিষেবার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যা -সংকুল পরিবহন ব্যবস্থা এই ক’বছরে নতুন রূপ নিয়েছে। বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট -২০১৮’য় স্বাক্ষরিত মউ অনুসারে ওএফটি কোম্পানি ৩৫০কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে এক বছরে পাঁচ হাজার ট্যাক্সি নামানোর পরিকল্পনা করেছে ও তার মাধ্যমে সমসংখ্যক যুবকের কর্মসংস্থান ও উপার্জনের অভিনব পরিকল্পনা কে সফল করতে পরিবহন দফতর সহযোগিতা করছে এবং এই প্রকল্পে প্রথম দফায় ইতিমধ্যেই ৫০ টি ট্যাক্সি চালু হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তাবিত অটোরিক্সা পরিচালনার নীতি গ্রহন ও তদনুযায়ী পরিচালন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস ও নিয়মমাফিক করার প্রয়াস এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

পরিবহন দফতর নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পরিবহন- চাহিদা মেটাতে সদা তৎপর ও সচেষ্ট।

জলপথ পরিবহণ

পশ্চিমবঙ্গের মতো নদীমাতৃক এই রাজ্যে পরিবহণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরিন জলপথের গুরুত্ব অপিরিসীম – গত সরকারের আমলে যা ছিল উদাসীনতার শিকার। বর্তমান রাজ্য সরকার তার যথাযথ গুরুত্ব আনুধাবন করে পরিবহন দফতরের অধীনে জলপথ পরিবহন সংক্রান্ত বিষয় দেখার জন্য আলাদা একটি সুনির্দিষ্ট বিভাগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে ইতিমধ্যেই গত ছ’বছরে এই ক্ষেত্রে কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে মা-মাটি-মানুষের সরকার। যাত্রী নিরাপত্তা অ সুরক্ষার স্বার্থে ফেরি সার্ভিসের জেটিঘাতগুলির সংস্কার করা হয়েছে এবং পরিচালনার নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি

(স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর) মেনে চলা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন সুনিশ্চিত করতে যথাযথ প্রয়াস হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই সল্প সময়ে উন্নতমানের ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাযুক্ত অনেকগুলি জলযান (২৯ টি লঞ্চ ও ২৬টি বড় ভেসেল) নির্মাণের ব্যবস্থা করে সুরক্ষিত যাত্রী পরিবহন সুনিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও ১৬৫টি ‘জলধারা নৌকা’-র নির্মান চলছে। উন্নত পরিষেবা দানের লক্ষ্যে ৭৯টি জেটি/ঘাট নির্মান বা সংস্কার করা হয়েছে এবং ৩৬ টির কাজ চলছে। জলপথ পরিবহণের ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ গত সাত বছরে ৬.৮২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১১১.২৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগামিদিনে সমগ্র রাজ্যের জলপথ পরিবহণের আরও উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বিশদ ও বৃহৎ পরিকল্পনা রুপায়নের ভার নিয়েছে পরিবহণ দফতর।

আকাশপথ পরিবহন

দ্রুত পরিবহণের ক্ষেত্রে আকাশপথকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও বর্তমান রাজ্য সরকার সল্পসময়কালে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে, যদিও দীর্ঘদিন ধরে গত সরকারের আমলে এই বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়েছিল। বর্তমানে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনায় হেলিকপ্তার সার্ভিসের মাধ্যমে দিঘা, সাগর, বালুরঘাট ও মালদহের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে। বাগডোগরাো কোচবিহার বিমানবন্দর সম্প্রসারন করে নতুন বিমান সার্ভিস চালু করা ছাড়াও বালুরঘাট ও মালদহ বিমানবন্দরের সংস্কার ও সম্প্রসারনের বিশেষ উদ্যোগ বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। পরিবহণের এই ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও বিশেষ বেসরকারি উদ্যোগ আনতে মা-মাটি-মানুষের সরকারি আশাবাদী।

পরিকাঠামো উন্নয়ন

সমন্বিত পরিবহন পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকাঠামোর ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও গত সরকারের আমলে এই দিকটি ছিল অবহেলিত। মাত্র কয়েক বছরে বর্তমান রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মান বা সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা- মাফিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ২০২ টি বাসস্ট্যান্ড নিরমান ও সংস্কার করা হয়েছে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা অর্থব্যয়ে। যাত্রী সাধারনের জন্য বিভিন্ন সুযোগ – সুবিধার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাগুলির ডিপোগুলির সংস্কার ও উন্নতিসাধন ছাড়াও নতুন ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে। ফেরি- সার্ভিসে ব্যবহৃত জেটি নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সারা রাজ্যব্যাপী ট্রাফিক-ব্যবহার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় আসবাব ও আধুনিক জন্ত্রপাতির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরিবহণ দফতর বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সামগ্রিকভাবে পরিকাঠামোর উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ফলে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে সাধারন মানুষ অনেকাংশে উপকৃত।

পথসুরক্ষা

সারা বিশ্ব যখন পথদুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধির ঘটনার শঙ্কিত। এই রাজ্যে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে ‘সেফ ড্রাইভ,সেভ লাইফ’ কর্মসুচি পালনের মাধ্যমে গত দু’বছরে পথ নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। পথ দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে পথ-সচেতনতা সম্পর্কিত প্রচার, সেমিনার সংগঠিত,ট্রাফিক সপ্তাহ পালন, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, গাড়িচালকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং পথদুর্ঘটনা যথাসম্ভব রোধ করার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনে পরিবহন দফতর বিশেষ উদ্দ্যোগ নিয়েছে। ফলস্বরূপ গত এক বছরে এই রাজ্যে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার প্রায় ১৪ শতাংশ কম হয়েছে-সারা দেশের মধ্যে এ এক অভাবনীয় সাফল্য। আগামী দিনেও এই বিষয়ে এই সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পরিবহন দফতর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সামাজিক প্রকল্প

পরিবহণের উদ্যোগে উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের কোনও প্রকল্প বা প্রচেষ্টা গত সরকারের আমলে করা না হলেও, বর্তমান সরকার দায়িত্বভার গ্রহন করার পর থেকেই সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত করার উদ্দ্যোগ প্রতিনিয়ত নিয়ে চলেছে।

এরকম একটি প্রকল্প ‘গতিধারা’ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশানুসারে রূপায়িত। এই প্রকল্পে কর্মহীন যুবক – যুবতীদের পরিবহণ ব্যবসায় কর্মসংস্থানের সুযোগ ও স্বনির্ভর করে তুলতে যে কোনও বানিজ্যিক গাড়ি কেনার জন্য সর্বাধিক ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গত তিন বছরে এই রাজ্যে প্রায় ২৪ হাজারেরও বেশি বেকার যুবক-যুবতীকে এই প্রকল্পের সুযোগ দিয়ে স্বনির্ভরভাবে পরিবহণে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য সরকার প্রায় ১২০ কোটি টাকার সংস্থান করেছে। বর্তমান বছরেও প্রায় ৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দের সাহায্যে আরও প্রায় ১০ হাজার যুবক- যুবতীকে একই সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবহণ দফতর উদ্যোগী। বর্তমানে ‘গতিধারা’ সরকারি প্রকল্প গুলির মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সফল। এর ফলে পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে এই ব্যবসার যুক্ত আরও অনেক মানুষও উপকৃত। ‘গতিধারা’ প্রকল্পটি জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত ও স্বীকৃত লাভ করেছে।

জলপথ পরিবহণের ক্ষেত্রে এমনই আর এক অভিনব প্রকল্প ‘জলধারা’ -যারা মাধ্যমে সারা বাংলায় কয়েক হাজার নৌকার (ভুটভুটি) পরিবর্তে বিধিসম্মতিভাবে নির্মিত নিরাপত্তাযুক্ত যন্ত্রচালিত নৌকা নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পেও নতুন নৌকা নির্মাণের জন্য সর্বাধিক এক লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এক দিকে ফেরি সার্ভিসে যুক্ত নৌকার মালিক ও তার মাঝি-মাল্লারা উপকৃত হবেন,অন্যদিকে জলপথে যাত্রী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। খুব শীঘ্র জলধারা প্রকল্পে সরকারি ১৫৩টি এবং বেসরকারি ১২ টি উন্নতমানের জলযানের নির্মাণ কার্য সম্পন্ন হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পের অধীনে ফেরিঘাটে যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ‘জলসাথী’ নামে প্রায় ৬২৬ কর্মী নিয়োগ এবং নতুন উন্নতমানের নৌকা চালানের জন্য মাঝিমাল্লাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সংস্থানও হয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়ন

গত সরকারের আমলে পরিবহণ দফতরের কেন্দ্রীয় বা জেলা অফিসগুলিতে স্বচ্ছ প্রশাসনের অভাবে সাধারন মানুষের হয়রানি ও অসচ্ছতার অভিযোগ ছিল তুঙ্গে। এরকম অবস্থার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরই পরিবহণ দফতরের বিভিন্ন অফিসগুলিতে স্বচ্ছ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের মাধ্যমে মানুষকে দ্রুত পরিষেবা দিয়ে হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সর্বপ্রথম মানুষের কাছে পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যের প্রায় সকল মহকুমায় দপ্তরের অফিস খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে একই সঙ্গে রাজ্য পরিবহণ কর্ত্তৃপক্ষের বিকেন্দ্রীকরণ করে আরও দুটি শাখা অফিস শিলিগুড়ি ও দূর্গাপুরে খোলা হয়েছে । ফলে পরিবহণ ব্যাবসায়ীরা সহজে নিকটবর্তী অফিসগুলিথেকে পরিষেবা পাচ্ছেন । রাজ্য পরিবহণ কর্তৃপক্ষের বা আঞ্চলিক পরিবহণ কতৃপক্ষের মাধ্যমে সহজতর পদ্ধতিতে পারমিট প্রদানের ব্যবস্থায় পরিবহণ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হয়েছেন।

সকল রকম পরিষেবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ পরিষেবার অধিকার সংক্রান্ত আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং পরিষেবা প্রদান সুনিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সমগ্র রাজ্যে আফিস গুলিতে ই-গভর্ন্যান্সের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নতমানের ও দ্রুত পরিষেবা প্রদানের প্রয়াস উল্লেখযোগ্য। বিশেষভাবে বর্তমানে অন-লাইন পদ্ধতিতে সহজে কর জমা দেওয়া বা গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা বিশেষ সুবিধা এনে দিয়েছে। অতি শীঘ্রই পারমিট- সহ অন্যান্য পরিষেবাও ই-গভর্ন্যান্স বা অনলাইন পদ্ধতির সাহায্যে সহজে সরাসরি মানুষের নাগালে চলে আসবে এবং হয়রানির অবসান হবে। রাজ্য সরকার সাধারন মানুষের জন্য এই অফিস গুলিতে স্বচ্ছ ও দ্রুত পরিষেবা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও এই ধরনের উদ্যোগের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের আমলে, এই ছয় বছরে পরিবহণ দফতরের সংগৃহীত রাজস্ব সংগ্রহ ৮০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ২২৮৫ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। রাজস্ব সংগ্রহের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিবহণ দফতরের সামগ্রিক কর্মসূচির সাফল্যের এক সুচক।

বর্তমান সরকারের গৃহীত নীতি অনুসরণ করে আগামিদিনে সাধারন মানুষের স্বার্থে আরও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করে ও স্বচ্ছ সাবলীল ও আধুনিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আনতে পরিবহণ দফতর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial