চাই পরিবর্তন

১৯ জানুয়ারি আরও এক ইতিহাস সৃষ্টি হতে চলেছে ব্রিগেড ময়দানে। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে সৃষ্টি হবে এই ইতিহাস। শপথ এবার কেন্দ্রে পরিবর্তনের। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারা বাংলাজুড়ে সার্বিক উন্নয়নের যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে তারই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে ব্রিগেডে জনসভা কিন্তু তার থেকেও ব্যাপকভাবে এর গুরুত্ব আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

বিজেপি-বিরোধী দেশের রাজনৈতিক দলগুলি একত্রিত হবেন এই মঞ্চে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সেখান থেকেই সম্মিলিতভাবে কেন্দ্র থেকে জনবিরোধী বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অঙ্গীকার করা হবে। আগামী বছরেই লোকসভার সাধারণ নির্বাচন। পাঁচ বছর আগে দেশের মানুষকে ‘আছে দিন’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের কাজের হিসেবনিকেশ শুরু হয়ে গিয়েছে।

হিসাবের খাতায় দেখা যাচ্ছে এই সরকার জাতিকে কিছুই দিতে পারেনি। বরং দেশকে সবদিক থেকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি, বিদেশনীতি, সব দিক থেকেই এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিক অবনমন ঘটেছে। শাসকের বিভাজনের রাজনীতিতে দেশের সর্বত্র দাঙ্গা-হিংসা ছড়িয়েছে। গণতন্ত্রকে টুটি টিপে হত্যা করা হয়েছে। কোনও মানুষের মতপ্রকাশের, নিজ ধর্মাচরণের অধিকার নেই! আগামী নির্বাচনে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বের এনডিএ সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে, সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে রুখতে ও কেন্দ্রে একটি ধর্মনিরপেক্ষ-গণতান্ত্রিক সরকার গড়ার লক্ষ্যে এই ব্রিগেড সমাবেশ। তাই ১৯ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেড জনসভা ঐতিহাসিক। রাজ্যে প্রায় সাড়ে তিন দশক গায়ের জোরে ক্ষমতা অকড়ে থাকা সিপিএম নেতৃত্বের বামফ্রন্ট সরকার বাংলাকে শুধু পিছিয়েই দিয়েছে।

রাজ্যে কোনও উন্নয়নই হয়নি। হিংসা-সন্ত্রাসের বলি হতে হয়েছে বহু মানুষকে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সবকিছুর পরিবর্তন হয়েছে। সাগর থেকে পাহাড়, সর্বত্র শাস্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য,সামাজিক কল্যাণ-সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে খুব কম সময়ের মধ্যে। রাজ্যের মানুষ চোখে দেখতে পাচ্ছে সেই উন্নয়ন। রাজ্যে কর্মসংস্থান হয়েছে। শিল্প আসছে। বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে ছোট ও ক্ষুদ্রশিল্পেও। বাম আমলে হারিয়ে যাওয়া কর্মসংস্কৃতি আবার ফিরেছে রাজ্যে। সংখ্যালঘু, অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের অন্যতম সাফল্য ‘কন্যাশ্রী’প্রকল্প। করব্যবস্থা সংস্কারে বেড়েছে রাজস্ব আদায়।

১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড জনসভা থেকে শুরু হবে পরিবর্তনের আরেক পর্ব। বাংলার পরিবর্তনের পর এবার কেন্দ্রে পরিবর্তন। দেশের মানুষ জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অল্প সময়ে বাংলার উন্নয়ন দেখে আশ্চর্য হয়েছেন। ভারতের জনতা চাইছেন এবার কেন্দ্রে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিন বাংলাই। এই ব্রিগেড জনসমাবেশ সেই শপথ গ্রহণের। দেশের জনতার স্বপ্নকে রূপায়িত করতে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে বাংলার জনতাকেই। পরাস্ত করতে হবে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে। দূরে রাখতে হবে সমস্ত সুবিধাবাদী, সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের দলগুলিকে। সেই সঙ্গে বাংলায় বিরোধীদের অপপ্রচারের যোগ্য জবাব দিয়ে রাজ্যের মানুষ এগিয়ে নিয়ে যাবে জননেত্রীর উন্নয়নের জয়যাত্রা। শান্তির রাজ্য বাংলা ভরে উঠবে ফুলে-ফলে। ব্রিগেড সমাবেশে শপথ নিতে হবে সেই লড়াইয়েরও।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers