চাই ঐক্যবদ্ধ ভারত, সব মানুষের সমান অধিকার

মেঘাংশী দাস

প্রায় দেড়শো বছর পর আরও এক বাঙালিকে সর্বোচ্চ সম্মানের আসন দিল দাক্ষিণাত্য। দেশের জনপ্রিয়তম নেত্রী হিসাবে কেন্দ্রবিরোধী মূল শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবেগপ্লুত হয়ে বরণ করল দ্রাবিড়ভূমি। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির মহীরূহ প্রয়াত এম করুণানিধির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর মূর্তি উদ্বোধন হল জননেত্রীর হাত ধরেই। উল্লেখ্য, ১৮৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এই দ্রাবিড়ভূমিতেই হাজার হাজার মানুষের সমুদ্রে সম্মানিত করা হয়েছিল বাঙালির গর্ব স্বামী বিবেকানন্দকে।

লোকসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে তৃণমূলের মঞ্চে হাজির করিয়ে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’র ডাক দিয়েছিলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের প্রচারে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে একছাতার নিচে আসার ডাক দিয়েছিলেন মা-মটি-মানুষের নেত্রী। এবার করুণানিধির সুযোগ্য উত্তরসূরী স্ট্যালিনের আমন্ত্রণে চেন্নাইতে হাজির হয়ে দ্রাবিড়ভূমের মানুষের ভালবাসায় আবেগপ্লুত হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভাইকো, পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী নারায়ণস্বামী, ডিএমকে সংসদীয় দলের নেতা টি আর বালু, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দয়ানিধি মারান প্রমুখ বিজেপি বিরোধী দাক্ষিণাত্যের নেতারা বসেছিলেন নেত্রীর দু’পাশে। সমস্ত নেতা যেভাবে তৃণমূলনেত্রীর নেতৃত্ব এবং বাংলার উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরলেন তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে। আসলে মনে রাখতে হবে, যেখানে বিজেপি ৩০৩টি আসন পাওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ ভারতে পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পায় না, সেখানে দাক্ষিণাত্যে বারে বারেই সম্মানিত হচ্ছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী বক্তব্যের শুরুতেই তামিল ভাষায় “আনাই ফানাক্কম, ভনক্কম” সম্বোধন করে গোটা স্টেডিয়ামকে উত্তাল করে দেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে তামিল ভাষায় উপস্থিত জনতাকে সম্বোধন করায় গর্বিত দ্রাবিড়ভূমের বাসিন্দারা আরও আপন করে নিলেন পশ্চিমবঙ্গের অগ্নিকন্যাকে। প্রায় সাড়ে চার মিনিট টানা তামিলে বক্তব্য রাখায় গোটা স্টেডিয়াম কার্যত উঠে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ দেয়। স্ট্যালিনও পাল্টা সৌজন্য দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি হলেন বাংলার বাঘিনি। আপনিই পারেন সকলকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে।”

বক্তব্যের শুরুতে জননেত্রী দেশের সম্প্রীতি ও সংবিধান বাঁচাতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে একজোট হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার পরামর্শ দেন। জননেত্রী বলেন, “দেশে যে কোনও ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা, যে কোনও ফ্যাসিস্ট শক্তি বা যে কোনও ধরনের স্বৈরতাস্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করার সময় এসেছে। মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে তামিলনাড়ুর করুণানিধি-এমজিআর-রা কোনও অন্যায়কারীকে ভয় পেতেন না। তাঁরা পিছিয়ে যেতেন না। আমরাও নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতে পারি, কিন্তু কোনও কিছুর বিনিময়ে ‘তামিল ল্যান্ড’ বা বাংলার মাটি বিসর্জন দিতে পারি না। সর্বোপরি কোনও কিছুর বিনিময়ে দেশের অখন্ডতাকে বিসর্জন দিতে পারি না। ভারতের ঐক্যের জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।” নাম না করে বিজেপির ধর্মীয়-ভেদাভেদের রাজনীতির তীব্র বিরোধিতা করে জননেত্রী বলেন, “সমস্ত ধর্মাবলম্বী মানুষের সমান অধিকার দিতে হবে। কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না। কাউকে উপেক্ষা করা যাবে না। সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে। আর এই অধিকার ও গণতন্ত্রকে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাখতে হবে।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial