গর্জে উঠলেন মমতা, মানুষকে আরও বিপদে ফেলল কেন্দ্রীয় বাজেট

হিয়া রায়

তৃণমূল কংগ্রেস কখনও জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত নেয় না। আর নেবেও না। লোকসভা ভোটে জেতার পরও কেন্দ্রে বিজেপির সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কোনও পদক্ষেপই করল না। উল্টে কেন্দ্রীয় বাজেটের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াল। কেন্দ্রীয় বাজেটকে সম্পূর্ণ দিশাহীন আখ্যা দিলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উন্নয়ন কীভাবে করতে হয় বিজেপি জানে না। সেটা আবার দেখা গেল বাজেটে। শুধু বড়লোকের স্বার্থ রক্ষা করো, আর সরকারের অধীনস্থ সংস্থাগুলিকে বিক্রি করে দিয়ে পুঁজিপতিদের মুনাফা বাড়াও। এই ওদের নীতি। তার প্রতিফলন বাজেটে। এসবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন “কেন্দ্রের বাজেট পুরোপুরি দিশাহীন। ভ্রান্তিকর বাজেট। দেশের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য নেই। শুধু সেস নয়, অতিরিক্ত এক্সসাইজ বসিয়ে একধাক্কায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যেভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, তার প্রভাব পরিবহণ থেকে রান্নাঘর সর্বত্র পড়বে। বিপাকে পড়বেন সাধারণ মানুষ।” অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একসঙ্গে ৫০টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে কোনও সুস্থ গণতান্ত্রিক সরকার বিক্রি করে দিতে পারে? এই বিজেপি সেটা দেখাল। যা বাজেট ওরা করেছে, সমস্ত জিনিসের দাম বাড়বে। মানুষের কোনও উপকার হবে না।”

যেসব খাতে বাড়তি বরাদ্দ করা উচিত ছিল, তার কিছুই করেনি। প্রমাণ ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প। মানুষকে সুখের দিন দেখাতে পারেনি কেন্দ্রীয় বাজেট। এই বাজেট বিষাদের। তথ্য লুকিয়ে চমক দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ বিজেপির নোংরা খেলা ধরে ফেলেছে। ইদানীং দেখাও যাচ্ছে, বিজেপি দেশের মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কেন্দ্রের নেই। উল্টে দেখা যাচ্ছে, যে সব রাজ্যে বিজেপি বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, তা নানাভাবে চক্রান্ত করে ভাঙার চেষ্টা চলছে।

কেন্দ্রীয় বাজেটকে হতাশাব্যঞ্জক ও অন্তঃসারশূন্য বলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় বাজেট পুরোটাই অস্বচ্ছ। নেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। আগামী আর্থিক বছরে সরকার কোন খাতে কত খরচ করতে চাইছে তারও উল্লেখ নেই। এমনকী মিড ডে মিল, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কত বরাদ্দ করছে সরকার, তারও উল্লেখ নেই কেন্দ্রীয় বাজেটে।

এই বাজেটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার জন্য তো কিছুই নেই এই বাজেটে। মনে রাখতে হবে কেন্দ্র শুধু রাজ্যকে দেয় না। রাজ্যের থেকে নেয়ও। তার প্রতিদান হিসাবে কিছুই পাওয়া গেল না। সবথেকে বড় কথা স্বাস্থ্য, বেকারত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও আলোকপাতই করা হল না। জলসমস্যা আজ দেশের একটা বড় ইস্যু। তার উল্লেখ করা হলেও কীভাবে সমাধান হবে সেই পথ দেখাননি অর্থমন্ত্রী। “তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, “মানুষের স্বার্থে কোনও কিছুই এই বাজেটে নেই। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি দুঃস্বপ্ন।”

পেট্রোল, ডিজেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কৃষকদের উন্নয়নেও এই বাজেট কোনও দিশা দেখাতে পারেনি। সব মিলিয়ে দেশের আরও ক্ষতি করে দিল বিজেপি। নিজেদের মুনাফা গড়তে অর্থনীতিকে কালো গহ্বরের দিকে ঠেলে দিল নরেন্দ্র মোদির সরকার।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers