গণপিটুনিতে মৃত্যু হলে শাস্তি যাবজ্জীবন

হিয়া রায়

গণপিটুনি রুখতে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় পাস হল বিল। বিলে উল্লেখ রয়েছে গণপিটুনিতে কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে অভিযুক্তর দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বাংলার সরকারই গোটা দেশে প্রথম পথ দেখাল। সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও ঘটনা ঘটলে বা কোনও অভিযোগ থাকলে পুলিশ প্রশাসনকে জানান। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কখনওই গণপিটুনি নয়। বিলের উপর বিধানসভার আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিল কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্য সরকার কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায়, সে সম্পর্কেও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিধায়কদের সামনে তথ্য পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিলে বিশদে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তর দোষ প্রমাণিত হলে তার জেল ও জরিমানা দুই-ই হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ম, বর্ণ জাতিগত বিভেদ, বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনির ঘটনা সামনে এসেছে। গণপিটুনি রোধে প্রথম এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। সরাসরি যারা যুক্ত শুধু তারাই নয়, শাস্তি হতে পারে ইন্ধনকারীদের। এই মামলায় সাক্ষীদের ভয় দেখালেও মিলবে কড়া শাস্তি। বিদ্বেষমূলক প্রচারেও সাজার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মিথ্যা প্রচার করে উস্কানি তুললেও রেহাই মিলবে না। গণপিটুনিতে জখম হলে তার চিকিৎসার দায়িত্বও নেবে সরকার। মৃত্যু হলে দেওয়া হবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, এমনকী, পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেওয়ার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে বলে বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “কড়া আইন লাগুর উদ্দেশ্য হল মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে যাতে কাউকে মারা না হয় তা নিশ্চিত করা। এতে জাতিগত, ধর্মীয় দাঙ্গা, ছেলেধরা, ডাইনির নাম করে বা ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর জন্য পিটিয়ে মারা, হামলার ঘটনা কমবে। এর জন্য প্রচার করা হবে। দেখতে হবে এটা যেন সামাজিক আন্দোলন হয়ে ওঠে।” এটা দেখার জন্য কলকাতায় একজন এবং কলকাতার বাইরে একজনকে কো-অর্ডিনেটর করা হবে। সরকার যে বিল এনেছে তা সমর্থন করেছে বিরোধীরাও। একসঙ্গে দুই বা তার চেয়ে বেশি ব্যক্তি কাউকে মারধর করলে তা গণপিটুনি বলেই ধরা হবে এবং তার ভিত্তিতেই মামলা রুজু হবে বলে প্রশাসন সুত্রে খবর। গণপিটুনি রোধে রাজ্য সরকারের এই বিলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজপ্রেমীরা। বিলে কড়া শাস্তির বিধান উল্লিখিত রয়েছে। গণপিটুনি রুখতে প্রশাসন কড়া হাতে ব্যবস্থা নিতে চলেছে।

রাজ্য সরকার বিধানসভায় আনে দ্য ওয়েস্টবেঙ্গল (প্রিভেনশন অফ লিঞ্চিং) বিল ২০১৯।” এই বিলের চ্যাপ্টার ফোর-এ “পানিশমেন্ট ফর লিঞ্চিং বা শাস্তির বিষয়ে সবিস্তারে উল্লিখিত রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, গণপিটুনিতে আহতের ঘটনায় অভিযুক্তর দোষ প্রমাণিত হলে তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে অথবা এক লক্ষ টাকা পযন্ত জরিমানা। আবার জেল ও জরিমানা দুটিই হতে পারে। আঘাত গুরুতর হলে অভিযুক্তর যাবজ্জীবন হতে পারে আবার ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সেক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার পরিমাণ ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা, সর্বাধিক ৩ লক্ষ টাকা। গণপিটুনিতে কারও মৃত্যু হলে অথবা মারা যেতে পারে, এমন মৃত্যুদণ্ড আজীবন সশ্রম কারাদণ্ডের কথা উল্লিখিত রয়েছে বিলে। আর্থিক জরিমানা হতে পারে ন্যূনতম এক লক্ষ, সর্বাধিক পাঁচ লক্ষ। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, এই বিলে সরকার মানুষের জীবন সুরক্ষার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। গণপিটুনি নিয়ে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করেই বিধানসভায় বিল আনে রাজ্য সরকার। শাসক-বিরোধী সকলেরই বক্তব্য, এই বিল বাস্তবসম্মত, যথোপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার সরকার এই বিলের মাধ্যমে যে পথ দেখাল, তা যেন দেশের অন্যান্য রাজ্যও অনুসরণ করে এমন বক্তব্য উঠে এসেছে।

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial