কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, দেখতে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

কৌশিক বসু

পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার যাচাই কর্মসূচি। চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রত্যেক বৈধ নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে ভোটার তালিকায় নিজের ও পরিবারের নাম যাচাই করে নিতে বলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
প্রথমেই বলে রাখা ভাল এই ভোটার যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) কোনও সম্পর্ক নেই। যে কথা একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “বিভিন্ন কারণে প্রত্যেবারই ভোটার তালিকা সংশোধন হয়ে থাকে। এই ভোটার যাচাইকরণ কর্মসূচি তারই অঙ্গ। এর সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই। তাই সব ভোটারকেই নাম যাচাই করে নিতে হবে। এতে ভয়ের কিছু নেই। নিশ্চিন্ত থাকুন।” ভোটারদের নাম যাচাই করতে গিয়ে কোনও অসুবিধা হলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, জেলা পরিষদের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি যান। ভোটার লিস্টে নাম তুলতে মানুষকে সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও জননেত্রী বলেছেন, “রাজ্যের কোনও বৈধ ভোটারদের নাম বাদ না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কারও ভোটার কার্ড হারিয়ে যায় বা পুড়ে গিয়ে থাকে তাহলে তারা তা সংশোধন করতে এলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা বা তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না। তারা যাতে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন ও নতুন করে কার্ড পেতে পারেন তার জন্য এফআই-র ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়ম মেনে যাতে কার্ড পেতে পারেন, তার জন্য আধিকারিক ও সরকারি কর্মী এবং জন প্রতিনিধিদের উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলার ডেবরাতে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশ দিয়ে বলেন, কিছু এজেন্ট বা দালাল, যারা কোনও রাজনৈতিক দলের লোক না, যাদের রাজ্য সরকার বা কেউ নিয়োগ করেনি তারা ফর্ম নিয়ে গিয়ে বলছে রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড করে দেবে ও এই জন্য টাকা নিচ্ছে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। কিন্তু কীভাবে ভোটার যাচাই কর্মসূচি? বাধ্যতামূলকভাবে একজন ভোটারকে নিজেই কেন তার নাম যাচাই করতে হবে? এর আগে একাধিকবার ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া চলেছে। এমনকী লোকসভা নির্বাচনের আগেই ভোটার তালিকা সংশোধন হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই ভোটার যাচাই প্রক্রিয়ার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এবার সেই দায় ঝেড়ে ফেলে ভোটারদের ঘাড়েই তা চাপিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি এনিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনওরকম আলোচনাও করেননি তাঁরা।

  কীভাবে ভোটার তালিকায় নাম যাচাই করা যাবে?

মূলত এবার অনলাইনে এই কাজ করতে হবে ভোটারদের। অনলাইনে দু’ভাবে ভোটার তথ্য যাচাই করা যাবে। এক, ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টাল বা (nvsp.in) লগ ইন করে। দুই, ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ ব্যবহার করে। প্রথম পদ্ধতি অর্থাৎ (nsvp.in) এ লগ ইন করে কীভাবে নির্বাচক তালিকায় নিজের ও পরিবারের সকল ভোটারের নাম ও তালিকা যাচাই করা যাবে? এই পদ্ধতিতে যে কোনও কম্পিউটারে বসে প্রথমে (nsvp.in)-এ লগ ইন করতে হবে। লগ ইন করা মাত্রই একটি ‘ক্যাপচা’ চাইবে। সেটি দেখে সঠিকভাবে দিতে হবে। এরপর ফোন নম্বরের জায়গায় সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর দিতে হবে এবং ক্যাপচা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বক্সে লিখতে হবে। এরপর রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া করতে গেলে দেখা যাবে যে ফোন নম্বরটি আপনি দিয়েছেন তাতে একটি ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড (OTP) আসবে। OTP টি নির্দিষ্ট জায়গায় দিতে হবে। এরপর পাসওয়ার্ড বসাতে হবে এবং সেটি নিশ্চিত বা কনফার্ম করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে আপনার রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে।

রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর আরও একবার (nvsp.in)-এ লগ ইন করতে হবে। এবার চলে আসবে ইউসার আইডি (User ID) অপশন। সেখানে আগে দেওয়া মোবাইল নম্বরটি লিখে পাসওয়ার্ড দিতে হবে। এবার আসল কাজ। ইউসার আইডি দেওয়ার পরই ‘EVP’ নামে একটি ট্যাব খুলে যাবে। ‘EVP’ তে ক্লিক করলে দেখা যাবে ৪ টি ট্যাব খুলে গিয়েছে। সেগুলি হল ১,Verify Self Details ২. Polling Station Feedback ৩. Family Listing & authentication ৪. Unenrolled Members এরমধ্যে প্রথমটি অর্থাৎ ‘Verify Self Details’ এ গেলে ভোটারের তথ্য ও পাশে ‘View Details’ অপশনটি পাওয়া যাবে। এই ‘View Details’ অপশনে গেলে ভোটার নিজের নাম ও ভোটার তালিকার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেখতে পারবেন। যেখানে দু’টি ভাগ রয়েছে। ১. সব বিবরণ ঠিক। ২. সব বিবরণ ঠিক নেই।
ধরা যাক, সব বিবরণ ঠিক রয়েছে। তাহলে প্রদত্ত তালিকার (পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, সরকারি পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্কের পাস বই, সাম্প্রতিক জল, টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাস কানেকশন) একটি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। কী ধরনের নথি দেওয়া হচ্ছে তা পাশের ড্রপ ডাউন লিস্ট থেকে সিলেক্ট করতে হবে ও সবশেষে তার নম্বর পাশের বক্সে দিতে হবে এবং সাবমিট করতে হবে।

যদি সব বিবরণ ঠিক না থাকে সেক্ষেত্রে কোথায় ত্রুটি আছে, সেই চেক বক্সগুলিকে সিলেক্ট করতে হবে। সেই অনুযায়ী নিদিষ্ট এন্ট্রি করতে হবে। সংশোধনের ফিল্ড পুরণের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংক্রান্ত একটি নথি আপলোড করতে হবে। এরপর রি সাবমিট করতে হবে। এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের নাম যাচাই ও যুক্তও করা যবে এনভিপিএসের মাধ্যমে । নিজের নাম ও ভোটার লিস্টে তার পার্ট ও সিরিয়াল নম্বর দেখা যাবে, পাশের Add Self to Family অপশনে ক্লিক করতে হবে যাতে নিজেকে ওই পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে যুক্ত করা যায়। ড্রপ ডাউন বক্সে Relation Type হবে Self এবং Add Member এ ক্লিক করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিবারের নাম নথিভুক্ত করা যাবে। এছাড়াও আ্যনড্রয়েড ফোনে গুগল প্লেস্টোর থেকে ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ ডাউনলোড করেও একজন ভোটার নিজের নাম যাচাই করতে পারেন।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial