কেন্দ্রের ভুল নীতির জন্য বাঙালি শ্রমিকদের নির্বিচারে হত্যা কাশ্মীরে গণহত্যার বিচার চাই, সরব মমতা

রানার চক্রবর্তী

আবার আক্রান্ত বাঙালি। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের গাফিলতিতে কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির পাঁচ বাঙালি। পরপর দাঁড় করিয়ে তাঁদের গুলি করা হয়েছে বেছে বেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উগড়ে দিয়েছেন ক্ষোভ। কেন্দ্রের ভুল নীতির ফলেই এমন হত্যাকান্ড হয়েছে বলে সরব জননেত্রী। ‘পরিকল্পনামাফিক নৃশংস খুন’-এর অভিযোগ তুলে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবিও করেছেন। তিনি মানুষের কোনওরকম সমস্যা, বিপদে পাশে থাকবেন, পাশে ছিলেন। মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। সেই মতো মৃতদেহ সাগরদিঘির বাহালনগর প্রামে পৌঁছতেই আর্থিক সাহায্যের চেক পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আলাদাভাবে স্থানীয় ও জেলা তৃণমূলও পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে। শুভেন্দুবাবু ছাড়াও তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশে গ্রামে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ান মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বা সাংসদ মহুয়া মৈত্র, আধু তাহেররা।

মুখ্যমন্ত্রী কাশ্মীরে বাঙালি শ্রমিকদের হত্যার ঘটনায় পুর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে বলেন, “কাশ্মীরে পরিকল্পনা করেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বাংলার পাঁচ শ্রমিককে। ওঁরা তো বাড়ি ফিরেই আসছিলেন। তবে কেন খুন? আর জম্মু-কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা কেন্দ্রের দেখার কথা। তবে কুলগামে যখন এই হত্যাকাণ্ড হল, তখন কেন্দ্র কী করছিল! পুরো ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যে সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যরা কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে এসেছিলেন, তখনই এই ঘটনা। এতে গোটা দেশের বদনাম হল।” একের পর এক টুইট করেও তিনি তোপ দেগেছেন। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “কাশ্মীরে বর্বরোচিত হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের লোকজনদের দুঃখ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।” পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার সবরকমভাব আছে, তা আগেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার ফের টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, “পরিকল্পনামাফিক নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে পাঁচ শ্রমিককে। গোটা ঘটনায় আমরা হতবাক।” কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে খোঁচা দিয়ে টুইট বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “বর্তমানে কোনওরকম রাজনৈতিক কর্মসূচি হচ্ছে না কাশ্মীরে। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ভারত সরকারের।”

এই ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি টুইটে লিখেছেন, “আসল সত্য বেরিয়ে আসুক, তারজন্য পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি করছি।” এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সঞ্জয় সিংকে কাশ্মীর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দেন। ফিরহাদ প্রশ্ন তুলেছেন, বিদেশী ভিভিআইপিদের ঘুরিয়ে দেখানো হতে পারে কিন্তু দেশের মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? গরিব মানুষ বলে কি নিরাপত্তা পাবেন না? গভীর রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে দেহগুলি পৌছলে রাজ্য সরকারের তরফে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম শ্রমিকদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। আলাদা আলাদা গাড়িতে দেহগুলি নিয়ে তিনি মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাহালনগর গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। বাংলার শ্রমিকদের এই নির্মম হত্যা নিয়ে কেন দিল্লির মন্ত্রীরা মুখ খুলছেন না তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী তথা মেয়র। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, নিরপরাধ মানুষদের খুন করার দায় কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিতে হবে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাশ্মীরে যাওয়া মানুষগুলির নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?

কাশ্মীরে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে শ্রমিকদের গুলি করে ছিল জঙ্গিরা। অমানবিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয় মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাহালনগর গ্রাম তথা বাংলা, দেশ। সর্বত্র আপনজন হারানোর আর্তনাদ। আপেল চাষ, ধান কাটা, ট্রাক চালানো ইত্যাদি কাজ করতেন তারা । কাশ্মীরের কুলগামে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে সেখানেই অতর্কিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। খুন করা হয় নইমুদ্দিন শেখ (৪২), মুরসেলিন শেখ (৪৫), রফিকুল শেখ (২৩), রফিক শেখ (8৫), কামরুদ্দিন শেখকে (৩৫)। গণহত্যার খবর পেয়েই দ্রুত নেত্রীর নির্দেশে সাগরদিঘির ওই গ্রামে পৌঁছান রাজ্য শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান, সাগরদিঘির বিধায়ক সুব্রত সাহা। নিহতদের পরিবারকে এক লক্ষ টাকা করে মোট পাঁচ লক্ষ টাকা তুলে দেন জেলা যুব তৃণমূল নেতা সৌমিক হোসেন। মন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, পরিবারের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া থেকে সবরকম সাহায্য করা হবে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial