কৃষ্ণনগরে এবার তৃণমূলের মহুয়া

জলি মজুমদার

কঠোর পরিশ্রমের ফল পেলেন মহুয়া মৈত্র। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করলেন, ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটে। কৃষ্ণনগর রায় দিল, মা-মাটি-মানুষেই বিশ্বাস অটুট তাদের। ২০০৯, ২০১৪ টানা দু’বার কৃষনগরের সাংসদ ছিলেন অভিনেতা তাপস পাল। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার জন্য সে জায়গায় টিকিট দেওয়া হয় করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মৈত্রকে। তরুণ তুর্কি দুঁদে রাজনীতিবিদ মহুয়া প্রার্থী হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষ্ণনগরের আপামর মানুষ। প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই কৃষ্ণনগরের মানুষ বলেছিল, মহুয়া মৈত্র সাংসদ হলে আগামি দিনে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের নাকাশিপাড়া, কালীগঞ্জ ও পলাশিপাড়া ব্লকের আরও উন্নয়ন হবে। কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি সুরেশ আগরওয়াল জানান, এবার কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে মহুয়া মৈত্র প্রার্থী হওয়ায় আমরা খুব খুশি। উনি দক্ষ সংগঠক, সুশিক্ষিতা। ইংরেজি ও হিন্দিতে সাবলীল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছের মানুষ। আমাদের এলাকার অনেক উন্নয়ন হবে। বিগত দিনে আমাদের এলাকায় সাংসদ তহবিলের যে কাজ হয়নি সেই কাজগুলি আশা করছি আগামি দিনে হবে। মহুয়ার লক্ষ্য ছিল চরৈবেতি চরৈবেতি। তাঁর গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েন দলের কর্মীরাও। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই লোকসভা কেন্দ্রে জনসভা করেন।

অগ্নিকন্যার সে সভায় লাখো জনতার ভিড় জানান দেয়, কৃষ্ণনগরের মাটি মমতার। ধুবুলিয়ায় সে জনসভায় ব্যাপক মহিলা সমাবেশ দেখে মহুয়া মৈত্র বলেছিলেন, “এই আমি জিতবই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে জিততে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই লড়াইটা জেতা বা হারার লড়াই নয়। রেকর্ড ভোটে জেতার লড়াই। আমি বারবার বলেছি আমি জিততে এসেছি। জিতেই ছাড়ব।” তার এই অদম্য জেদ কর্মীদের উদ্দীপ্ত করেছে। দলের সংগঠনের পুরনো লোকেদের দিয়ে ওয়ার রুম বানিয়েছিলেন এলাকায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা অনুসরণ করেই বারবার বলতেন, কোনও নেতা নয়। কর্মীরাই সম্পদ । মাটি কামড়ে পড়ে থাকা। ভয়ঙ্কর গরমকে অগ্রাহ্য করে লোকসভার ৮২টি পঞ্চায়েতের ১৯০৬টি গ্রামে পৌঁছানো মহুয়া ছিলেন নিজের লক্ষ্যে অবিচল। প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি বিধানসভার বুথে বুথে পৌঁছে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার উপর জোর দেন মহুয়া। প্রায় সাঁইত্রিশ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে এই লোকসভা কেন্দ্রে। সংখ্যালঘুদের সিংহভাগেরই আস্থা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসে। এবার কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে ফলাফলের বিচারে সিপিএম তৃতীয় স্থানে, দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি। বিপুল ভোট পেয়ে এদের চেয়ে অনেক এগিয়ে তৃণমূল। গণনা শুরু হতেই ক্রমশ এগিয়ে যেতে থাকেন তৃণমূল প্রার্থী। মহুয়া মৈত্র বলেন, বাম আমলে কৃষ্ণনগরে কোনও কাজ হয়নি। গ্রামের রাস্তাঘাট-সহ বহু কাজ করার রয়েছে। কেন্দ্রের সরকারও এখানে কিছুই করেনি। বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকার এখানে মানুষের পাশে রয়েছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial