কৃষক স্বার্থে কৃষিঋণের পরিমাণ বাড়াল রাজ্য

হিয়া রায়
কৃষকের পাশে সবসময় মা-মাটি-মানুষের সরকার। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কৃষকদের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কৃষকদের জন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কৃষিজমির খাজনা ও মিঊটেশন ফি মুকুব করেছে। কৃষকভাতা দেওয়া হচ্ছে, বন্যা-খরায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে, ৪০ লক্ষ বাড়ি তৈরী করা হয়েছে, কৃষি সরঞ্জাম প্রদান করা হচ্ছে, বাংলা কৃষি-সেচ যোজনা প্রকল্পে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, কৃষকদের এককালীন অনুদান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ফসল বিমার পুরো টাকাটাই প্রদান করেছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও মা-মাটি-মানুষের সরকার ধান বিক্রিতে কৃষকদের কুইন্টাল প্রতি ২০ টাকা করে উৎসাহ ভাতা দিচ্ছে। যা কৃষকদের বড় মাত্রায় উপকার হচ্ছে। ধান বিক্রিতে রাজ্য কৃষকদের কুইন্টাল প্রতি দাম দিচ্ছে ১৭৭০ টাকা। এছাড়াও কৃষক স্বার্থে রাজ্য সরকার চালু করছে, ধান বিক্রি করলেই হাতে হাতেই চেক।

এবার রাজ্যে কৃষি ঋণের পরিমাণ মাড়াল রাজ্য সরকার। গতবছর দেওয়া হয়েছিল ৫,২০০ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়াল ৮,০০০ কোটি টাকা। ফলে গ্রাম বাংলায় কৃষকদের মহাজনি সুদের ফাঁদে পড়তে হবে না বলাই যায়। ৭ শতাংশ সুদে ঋণ মিলবে। ফেরত দিলে পাওয়া যাবে ৩ শতাংশ ভরতুকি। অর্থাৎ মাত্র ৪ শতাংশ সুদের হার। যা ব্যাঙ্কের চেয়ে অনেক কম। গ্রামের সমবায় সুমিতি ও সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে সহজেই ঋণ মিলবে বলে জানিয়েছেন দফতরের মন্ত্রী অরূপ রায়। তিনি বলেন, ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩,০০০ কোটি বাড়ানোয় কৃষকদের স্বার্থ আরও বেশি সুরক্ষিত থাকবে। এই সরকারের সময়ে কৃষকদের আয় তিনগুন বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন তা আরও বাড়াতে। সেই লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল ঋণের অঙ্ক বাড়ানো। যাতে কৃষকদের সুবিধা হবে।

এছাড়াও ২০০০ সমবায় সমিতিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কম দামে ভাড়ায় পাবেন কৃষকরা। সেগুলিতে বিশেষ হাব করা হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যে যেখানে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, নিড়ানি, স্প্রে মেশিন, ধান ঝাড়াই-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অনেক বেশি পয়সা দিয়ে ভাড়া করতে হয় অথবা কিনতে হয় তা এখানে করতে হবে না। কম দামে ভাড়া নিয়ে ফসল ফলানোয় বাড়তি লাভ হবে কৃষকদেরই।

যেসব গ্রামে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নেই সেখানে কৃষকদের যাতে অসুবিধা না হয় সে জন্য সমবায় সমিতি বা ব্যাঙ্ক খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৬৩১টি গ্রামে সমবায় সমিতিকে ব্যাঙ্কের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। যেখানে এটিএম-সহ অনলাইন সমস্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের আর সারাদিন কাজ নষ্ট করে দুরে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার জন্য যেতে হচ্ছে না। কৃষক বিমার টাকা রাজ্য নিজেই দেবে বলে আগেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তাঁদের স্বার্থে বাড়ানো হল ঋণের টাকার অঙ্কও।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers