কিডনির অসুখকে অবহেলা নয়

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

ডঃ শান্তনু সেন

হঠাৎ করে কিডনি ফেলিওর আমাদের দেশে বিরল ব্যাপার নয়। তাই বড়সড় বিপদ ঘটার আগেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অবহেলা করা আমাদের একটা অসুখে পরিণত হয়েছে। কিন্তু, কিডনির মতো সমস্যা নিয়ে অবহেলা আপনার জীবন বিপন্ন করে তুলবে।

কী কী কারণে মানুষের অকস্মাৎ কিডনি ফেলিওর হতে পারে?

  • সেপটিক অ্যাবরশন
  • নেফ্রাইটিস
  • অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস
  • যে কোনওরকমের জন্ডিস থেকে
  • কার্ডিয়াক ফেলিওর থেকে
  • যে কোনওরকমের সাংঘাতিক ইনফেকশন থেকে
  • এমনকী, গুরুতর কনভালসন কিংবা খিঁচুনি থেকে
  • হিট স্ট্রোক থেকে
  • বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্বক্রিয়া থেকে

কিডনির কাজঃ- আমাদের শরীরে দুটো কিডনি রয়েছে। দুটো শরীরের নানা ক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

প্রথমতঃ- মেটাবলিক এন প্রোডাক্ট অফ প্রোটিন– যা বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে শরীর থেকে বের করে দেয়।

দ্বিতীয়তঃ- জল, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বিভিন্ন পদার্থ কিডনিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সমস্ত পদার্থের সঠিক মাত্রা কিডনির কাজে সহায়তা করে।

তৃতীয়তঃ- অ্যাসিড বেস, ব্যালান্স মেইনটেইন করে। অর্থাৎ শরীরের ক্ষার অম্লের সাম্যাবস্থা বজায় রাখে।

চতুর্থতঃ- কিডনি শরীরের প্রয়োজনীয় কিছু কিছু হরমোন তৈরি করে। যেমন – এরিথ্রোপ্রোটন–যা শরীরে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন – ডি তৈরি করতেও সাহায্য করে কিডনি।

দুটো কিডনির গুরুত্ব

কোনও মানুষের হঠাৎ কিডনি ফেল হলে দুটো কিডনিই একইসঙ্গে সমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শতকরা ৯০ ভাগ কিডনি তার ক্রিয়া করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তারপর চিকিৎসার ফলে দুটো কিডনিই স্বাভাবিকতা ফিরে পায়। অনেক সময় আবার কোনও কোনও মানুষ একটা কিডনি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এতে ভয়ের কোনও কারণ নেই। যদি ওই একটা কিডনিতে কোনও সমস্যা না থাকে, বা ভবিষ্যতে সমস্যা না দেখা যায়, তবে সেই মানুষ একটা কিডনি নিয়েই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

কিডনি খারাপ হওয়ার উপসর্গ

কতকগুলি নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখেই বোঝা যাবে যে, কোনও মানুষের কিডনি খারাপ হয়েছে কি না। যেমন – কিডনি খারাপের প্রথম লক্ষণ হল, প্রস্রাব কমে যাওয়া। যে কোনও সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক প্রস্রাবের পরিমাণ হল ১ লিটার থেকে ২ লিটার। সেই পরিমাপ যদি হঠাৎ করে কমে গিয়ে ৪০০ মিলিলিটারে দাঁড়ায় তাহলে বোঝা উচিত, কিডনিতে কোনও সমস্যা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই কমে যাওয়ার পরিমাণের মাত্রা ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে যায়। সঙ্গে দেখা যাবে, রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনাইন-এর পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য উপসর্গ

  • পটাসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়
  • শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়
  • শ্বাসকষ্ট হয়
  • ক্ষুধামান্দ্য দেখা যায়
  • বমি হয়
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তপাত হয় ইত্যাদি।
  • এছাড়া বমি, হিক্কা হতে পারে। খিদে একদম কমে যায়। রোগী একদম ঝিমিয়ে পড়ে। খিঁচুনি আসে, রোগী সম্পূর্ণ অজ্ঞান হতে পারে।

কিডনির সমস্যায় পরীক্ষা

রোগীর প্রথমেই রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। রক্তে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, পটাশিয়ামের মাত্রা আছে কি না দেখা উচিত। কিডনি ফেলিওর-এর বিভিন্ন মাত্রা আছে। কোন রোগী যদি প্রাথমিক পর্যায়তেই চিকিৎসকের কাছে আসেন, তাহলে ওষুধ, স্যালাইন ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। এর বেশি খারাপ পর্যায়ে থাকলে, রোগীর ডায়ালিসিস প্রয়োজন।

কিডনির সমস্যায় কী খাবেন আর কী খাবেন নাঃ

আমিষ জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। এমনকী, ডাল, লবণের পরিমাণও খুব কম হবে। এছাড়া বিভিন্ন ফল, টাটকা শাক সবজি, হরলিকস, কমপ্ল্যান, শুকনো খাবার খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

পটাশিয়াম খুব বেশি পরিমাণে যে সব খাদ্যে থাকে তাও বন্ধ করতে হবে।

আলু খাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ। বাড়িতে সবজিগুলি রান্নার আগে ভাল করে ধুয়ে দু’ঘন্টা উষ্ণ জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে খাদ্যে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে যায়।

হঠাৎ কিডনি ফেলিওর রোগীর জন্য সাবধানতা

অসুখটা যেহেতু অকস্মাৎ অর্থাৎ মানুষের অজান্তেই হয়। তাই আগের থেকে আর কী সাবধানতা নেওয়া যেতে পারে। তবে হ্যাঁ, সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজন সাবধানতা। তাই সাবধানতা হিসাবে দরকারঃ

পানীয় জল ফুটিয়ে খাওয়া

  • পেটে কোনও সমস্যা দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ
  • গর্ভপাতের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ ওষুধের সেবনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ
  • জ্বর হলেই ম্যালেরিয়া সম্পর্কে সচেতনতা অবলম্বন
  • কিডনির অসুখে, কোনও টোটকা করলে ফল ভাল না হয়ে ক্ষতি হয়, তাই ওই সব করবেন না।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial