কলকাতার দুই কেন্দ্রেই মার্জিন বাড়ল তৃণমূলের

মেঘাংশী দাস

 

বাংলা তথা বাঙালির অহংকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়া যে মানুষ মেনে নিতে পারেনি, তার প্রমাণ মিলল সপ্তম দফার ভোটে নয় কেন্দ্রের ফলাফলে। কলকাতার দুই কেন্দ্রে তৃণমূল শুধুমাত্র জিতেছে, তা-ই নয়, অধিকাংশ ওয়ার্ডে দলের মার্জিন বেড়েছে। বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএমে বোতাম টিপে জোড়া ফুলের প্রার্থীদের জিতিয়ে প্রতিবাদে নীরবে সরব হয়েছেন। কলকাতার দুই কেন্দ্রে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায় গতবারের চেয়েও বেশি ভোটে জিতেছেন। উত্তরে সুদীপের মার্জিন হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৯৬১ ভোট। আর দক্ষিণে কলকাতার চেয়ারপার্সন মালা রায় জিতেছেন ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৯২ ভোটে। দুই প্রার্থীই জয়ের পর জানিয়েছেন, শহরজুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিপুল উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষকে নাগরিক পরিষেবা আরও বেশি করে পৌঁছে দেওয়ার সুফল হিসাবে এই জয়। ভোটের মার্জিন বৃদ্ধির মূল কারিগরও তৃণমূল নেত্রী।

কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব নিয়ে মেয়র ফিরছাদ হাকিম মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতি নিয়েই মহানগরের ভাড়াটিয়া ও ঠিকা প্রজাদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা ঘোষণা করেন। পুরমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভার ঠিকা প্রজাদের বাড়ি করার জন্য বিশেষ বিল পেশ করেন ফিরহাদ। বস্তি ও কলোনির জন্য পানীয় জলের বাড়তি সুবিধা দিতে বিশেষ প্রকল্প নিতেও নয়া মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্তত এই কারণে এবার ভোটে কলকাতার অধিকাংশ বস্তি এবং কলোনির সমর্থন গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থীদের অনুকূলে।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ অবশ্য মানুষের এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে। বলেছেন, “বিজেপি ধর্মীয়  বিভাজনের রাজনীতি করেছে। শহর ও শহরতলির মানুষ সাম্প্রদায়িক এবং হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাই প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, মার্জিনও বেড়েছে।”

উত্তরের কেন্দ্রেই তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট জয়ে তেমন বেগ পেতে হয়নি। বরং বেড়ে গেল গতবারের জয়ের ব্যবধান। অনেকটাই বাড়ালেন শতাংশের হিসাবে ভোট অঙ্কও। ১৮ রাউন্ডেই টপকে গিয়েছেন গতবারের ৯৬ হাজার ২২৬ ভোটের ব্যবধান। আরও একটু সময়েই গতবারের ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিয়েছেন, পেরিয়ে গিয়েছেন ২০০৯ সালের এক লক্ষ ৯ হাজারের মার্জিনও। বিজেপি সারা দেশে জয়ের অনন্য নজির গড়লেও রাজ্য অফিস যে কেন্দ্রে, সেই কেন্দ্রে পারল না ধারা অব্যাহত রাখতে। রাজনৈতিক মহল এই জয়ের কারণ হিসাবে বিদ্যাসাগরকে অন্যতম ইস্যু বলে মনে করছে। এছাড়াও সবস্তরের ও সম্প্রদায়ের মানুষের ভোট তিনি পেয়েছেন। সব সময়ে কাছে পাওয়া “সুদীপদাকে’ই আবার চেয়েছেন উত্তর কলকাতার মানুষ। তাঁর জনসংযোগ ও প্রত্যেকের সঙ্গে আন্তরিক ‘টাচ’ এগিয়ে রেখেছিল। সেটাই ‘ফ্যাক্টর’ হয়েছে শেষ পর্যন্ত। বাম ভোট তলানিতে গেলেও অসুবিধা হয়নি সুদীপের। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাই একসঙ্গে হয়েছে। ১৪টি টেবিলে গণনা হয়েছে প্রায় সব বিধানসভা ক্ষেত্রে। প্রথম থেকেই এগিয়ে গিয়েছেন সুদীপ। তবে এন্টালি যেভাবে ব্যবধান বাড়িয়েছে, আর কোনও কেন্দ্র করেনি। জোড়াসাঁকোয় এগিয়ে ছিলেন বিজেপির প্রার্থী। লোকসভা কেন্দ্রে গতবার ৯৬ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন সুদীপ।

গেরুয়া ঝড়ের দিনও কিন্তু পদ্ম ফুটল না বেহালা, রাসবিহারি, গড়িয়াহাট, কসবা, হাজরায়। দক্ষিণ কলকাতার কলোনি থেকে বড় রাস্তা হাত তুলে আশীর্বাদ করল মমতাকে । জানান দিল, যেখানে যা-ই হোক। “ঘরের মেয়ে মমতার বিকল্প নেই। বিপক্ষের চন্দ্র বসু, নন্দিনী মুখোপাধ্যায়রাও বুঝেছেন মমতার গড়ে দাঁত ফোটানো বড় সহজ নয়। এদিন তাই পার্টি অফিসে সবুজ আবির ‘সাপ্লাই’ করে করে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার সমর্থকরা । এ আসনে পদ্মের ঝুলিতে ৩৪.৬৪ শতাংশ, সিপিএম-এর নন্দিনীর ভাগ্যে ১১.৬৩ শতাংশ ভোট। সেখানে একা মালা রায় পেয়েছেন মোট ভোটের ৪৭.৫০ শতাংশ। ঘড়ির কাটা যত ঘুরেছে মালা রায়ের জয়ের চাকাও গড়িয়েছে তরতরিয়ে। সকাল ১১টায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৫৪ ভোটে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে এগিয়ে মালা রায়। বেলা ১২টায় ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটে এগিয়ে তৃণমূলের মালা রায়। দুপুর ১টায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন মালা রায়।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial