কথা রাখায় সাড়ে চারগুণ ভোট বাড়ল অভিষেকের

মেঘাংশী দাস

মানুষ বিপদে পড়লে কয়েক মিনিটের মধ্যে পাশে এসে দাঁড়ান। উন্নয়ন নিয়ে কোনও কথা দিলে সময়ের আগে শেষ করেন। কথা দিলে তিনি যে কথা রাখবেন, তাও সবাই নিশ্চিত। গোটা কেন্দ্র জুড়ে এমনই উপলব্ধি ছিল, তাই গতবারের ৭১২৯৮ ভোটের মার্জিন এক ধাক্কায় এবছর বেড়ে হল ৩ লাখ ২০ হাজার ৮৯৬। অষ্কের হিসাবে মানুষের পাশে থাকায় প্রায় ৪.৫০ শতাংশ ভোট বাড়ল মমতা বদ্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়াফুল প্রতীকের।

তিনি তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্র থেকে জোড়াফুলের প্রতীকে পুননির্বাচিত সাংসদ।

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁর কেন্দ্রে জনসভা করেছিলেন। সর্বশক্তি নিয়ে প্রচারে নেমেছিল বিজেপি ও সিপিএম। প্রতিদিনই তাঁর কেন্দ্রের দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করছিলেন বাম ও গেরুয়া প্রার্থী। ভোটের দিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ডায়মন্ড হারবার চষে বেড়িয়েছিলেন বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক ও পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে। তৃণমূলকর্মীদের ক্যাম্প অফিসে বসা নিয়েও তীব্র আপত্তি ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর । কিন্তু সব চোখ রাঙানি ও কুৎসাকে ফুৎকারে উড়িয়ে গত পাঁচ বছরে পাশে থাকা যুব-সাংসদকে এক ধাক্কায় সোয়া তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে ফের সংসদে পাঠালেন। নিজের সাংসদের ফের বিপুল ভোটে জয় নিয়ে গর্বিত বিষ্ণুপুরের  বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল বললেন, “মানুষের পাশে ৩৬৫ দিনই সুখে-দুঃখে, সব সময়ই অভিষেক থাকেন, তাই মানুষও ইভিএমে দু’হাত ভরে তাঁকে আর্শীবাদ ও দোয়া করেছেন।” নির্বাচনের দিন দেখেছিলাম বজবজে শ্রীমন্ত বৈদ্য, ফলতায় জাহাঙ্গির শেখ ও  ডায়মন্ড হারবারে অরুময় গায়েনরা কী নিপুণ দক্ষতায় ভোট পরিচালনা করছেন। বিধায়ক দিলীপ মগুল, জেলাপরিষদ সভাধিপতি সামিমা শেখরা প্রবীণদের নিয়ে সাংসদের সঙ্গে মাঠে থাকার ফল পেলেন এবার ইভিএমে। অরুময়রা বলছিলেন, “কেউ কোনও বিপদে পড়লে কয়েক সেকেন্ডে ঠিক তার কাছে খবর পৌঁছে যায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন আমাদের সাংসদ । মানুষ একথা মনে রেখেই এবার ভোট দিয়েছে। তাই মার্জিন এত বেড়েছে।” নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, অভিষেকের কেন্দ্রের সাত বিধানসভার মধ্যে ডায়মন্ড হারবারে ৩৫,৪৬১, বিষ্ণুপুরে ৪৪,০৮৮, বজবজে ৫৬,৭৯০, ফলতা ৪৩,৭৭৭, সাতগাছিয়া ২৪,৭৭৯, মহেশতলা ২৮,৮২৫ ও মেটিয়াবুরুজ ৮৭,১৭৬ হাজার ভোটের মার্জিনে জিতেছেন। কেন্দ্রের একাধিক জেলাপরিষদ সদস্য জানিয়েছেন, “বিজেপি ভোটটাকে হিন্দু-মুসলিমে ভাগ করে দিয়েছে, তা না হলে অভিষেকের মার্জিন উন্নয়নের ইস্যুতে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেত।” তবে স্বয়ং অভিষেক এদিন নিজের গণনার খবর নেওয়ার পাশাপাশি সারাক্ষণই ব্যস্ত ছিলেন বাংলা অন্য কেন্ত্রগুলির খবর নেওয়ায়। বিশেষভাবে নজর রাখছিলেন নিজে যে দুই জেলার পর্যবেক্ষক সেই বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভোটের ফলাফলে।

জেলাপরিষদের সভাধিপতি সামিমা শেখ। বললেন,“কোনও একটা প্রকল্পের কাজ সাংসদকে বললেই হল, এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নির্মাণ করিয়ে দিয়েছেন। জেলাপরিষদের প্রকল্পও যদি সরকারের দফতরে জমা পড়ে তাও তিনি তদারকি করে দিন কয়েকের মধ্যেই অনুমোদন করিয়ে আনেন। এটাই তার মার্জিন বৃদ্ধির আসল রহস্য।” সাংসদ হিসাবে পাঁচ বছরে পেয়েছিলেন ২৫ কোটি, কিন্তু রাজ্য সরকার ও জেলাপরিবদকে দিয়ে কমপক্ষে ২৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ করানোর সুফল পেলেন অভিষেক। পাঁচ বছরে এই কেন্দ্রে ৫৫০ বেডের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক। কেন্দ্রের প্রবীণ মানুষরাও সবাই অপেক্ষা করছেন নিজেদের প্রিয় সাংসদ কবে ফের আসবেন, তাঁকে কাছে টেনে নেবেন, আর্শীবাদ ও দোয়া করবেন।

অভিষেকের বিপুল জয়ে খুশি গোটা ডায়মন্ড হারবারের আমজনতা। আবেগাপ্লুত মহেশতলা, মেটিয়াবুরুজ, সাতগাছিয়া,ফলতা,বিষ্ণুপুর। সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ হতেই বহু জায়গায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছেন। চটা মসজিদের সামনে ইফতার শেষে নমাজ পড়তে ঢোকার মুখে দেখা আবদুল খালেক, মির হাফিজ, ওবায়েদুল শেখদের সঙ্গে। বললেন,“ওনার কথা ও উন্নয়ন কাজের বাস্তবায়নের মাঝে তফাত থাকে মাত্র কয়েকদিন, কয়েক সপ্তাহ।” বাটা পর্যন্ত দীর্ঘ সাত কিলোমিটার উড়ালপুল চালু করালেও নিচের রাস্তা না হওয়ায় অঙ্গীকার মতো সেই ব্রিজ দিয়ে এখনও চলাচল করেন না অভিষেক । যুব সাংসদের এমন সৌজনোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে গর্ব প্রকাশ করলেন বজবজ-চটা-মছেশতলার বাসিন্দারা। মনে পড়লে শেষ প্রচারে এসে দিন কয়েক আগে অভিষেক বক্তব্যে একটি জল প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “মে মাসের ২৩ তারিখ ফল প্রকাশ হবে। ঠিক তিন মাস পর, ২৩ আগস্টের মধ্যেই চালু হবে রিজার্ভার। না চালু করতে পারলে আপনাদের কাছে আর মুখ দেখাব না।” এবার সেই রির্জাভার-ট্যাঙ্ক শীঘ্রই চালু হবে, পানীয় জল পাব আশাবাদী চটার দর্জি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বাসিন্দারা । আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে চলেছেন ডায়মন্ড হারবারবাসী।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial