এ কোন রায়?

এমন বিস্ময়কর ভোট বঙ্গবাসী দেখেনি। যেখানে মানুষের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হল না। চূড়ান্তভাবে জনতার রায়কে বিকৃত করা হল। এবার লোকসভা নির্বাচন শুরু থেকেই এই কাজটি করেছে বিজেপি। এই নির্বাচনে শুরু থেকেই মানুষের প্রকৃত মনোভাবের সঙ্গে কারচুপি করা হয়েছে। পক্ষপাতিত্ব হয়েছে নির্বাচন কমিশনের থেকে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে, তাতে কর্ণপাত করা হয়নি। ভোট কেন্দ্রের লাইনে পর্যন্ত শেষমুহূর্তেও ভোটদাতাদের বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচারের কাজ করে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাড়ি বাড়ি ঘুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছে। সাধারণ মানুষকে সবরকমভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। না হলে এবার লোকসভা ভোটের ফলাফল অন্য রকম হত। বাংলার মানুষ গণতন্তপ্রিয়, সচেতন, শাস্তিপ্রিয়। কাজেই এখানে দাঙ্গাবাজদের ঠাই দেবে না মানুষ। বিজেপি এটা ভাল বুঝেছিল। তাই তাদের কারচুপির আশ্রয় নিতে হয়েছে। ২০১১ সালে বিপুল জনাদেশ নিয়ে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য জুড়ে সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি, কর্মসংস্থান সবক্ষেত্রেই গত আট বছরের রাজ্য মাথা তুলে দাড়িয়েছে। অনেক এগিয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলার মানুষের জীবনমানের প্রভূত উন্নতি সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণ প্রকল্প এনেছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রতিটি মানুষ কোনও না কোনওভাবে সেইসব প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকে। আদিবাসী, উপজাতি উন্নয়নেও কৃতিত্ব দেখিয়েছেন জননেত্রী। বিভিন্ন বোর্ড গঠন করে তাদের সংস্কৃতি ও এতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি, তাদের জীবনধারার উন্নতি করা হয়েছে। এই উন্নয়নের কাজেই ২০১১ সাল থেকে সব ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। কোথায় ছিল বিজেপির ভোট? ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচন, সাম্প্রতিক সবগুলি পুরসভা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত ভোটেও বিজেপিকে অনুবীক্ষপে খুজতে হয়। অথচ লোকসভার ভোটের ফল অন্য। যা থেকে স্পষ্ট এই রায় বাংলার মানুষের প্রকৃত রায় নয়। কোথায় ছিল বিজেপির এই ভোট? আসলে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা যাবে না বুঝেই বিজেপি চাতুরীর পথ নিয়েছে। কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার সুবিধা অন্যায়ভাবে কাজে লাগিয়ে বাংলার গণতন্ত্র নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। তবু এর মধ্যেও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আস্থা অটুট রয়েছে বাংলার মানুষের। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা এবার ২২। রাজ্যসভার ১৩ জন সদস্যের সঙ্গে তারা সাধারণ মানুষের বক্তবা সংসদে তুলে ধরবেন। আগের মতোই সরকারের যাবতীয় জনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সংসদে সরব হবেন দলের সাংসদরা। তারা সারা বাংলায় সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য বাংলার মানুষকে অভিনন্দন।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers