এবার ১০০ দিন নিয়েও কেন্দ্রের বঞ্চনা শুরু

কৌশিক বসু

গ্রামের খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের মুখের অন্ন কেড়ে নিচ্ছে দিল্লির বিজেপি সরকার। গরীব খেটে খাওয়া মানুষগুলিকে নতুন আলোর দিশা দেখিয়েছিল একশো দিনের কাজ প্রকল্প। কিন্তু সেই প্রকল্পকেই গলা টিপে হত্যা করতে চাইছে মোদি সরকার। একশো দিনের কাজে বাংলার সাফল্যের কথা কার না জানা। আর সেই প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তা ব্যহত করছে মোদি সরকার।

এনিয়ে ফের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রের নির্দেশে কাজের পরিধি অনেক কমেছে। কাজ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। কাজ কমিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। এমনিতেই বরাদ্দ টাকা সময়ে টাকা মেলে না। অন্তত তিন মাস, পাঁচ মাস দেরি হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টাকা আটকে রেখে প্রকল্পকে ব্যহত করার চেষ্টা হচ্ছে।”

এখন আর পাড়ার জঙ্গল সাফাইয়ের কিংবা রাস্তা তৈরির কাজে সীমাবদ্ধ নেই একশো দিনের কাজ প্রকল্প। একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ আনা হয়েছে এই প্রকল্পের আওতায়। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প নতুন দিশা পেয়েছে। আর তাকে মডেল করার পরিবর্তে প্রকল্পকে হত্যা করতে চাইছে বিজেপি সরকার। এ প্রসঙ্গে জননেত্রী বলেছেন, “এখন পঞ্চায়েত, সেচ, বন, মৎস্য, পরিবেশ মিলিয়ে এই কাজে এগোনো হচ্ছে। জল ধরো, জল ভরোতে এই প্রকল্পের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।” উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা একটা জিনিস দেখছি, যাঁরা মিড-ডে মিল রান্না করেন, তাঁরা অনেক কম টাকা পান। তাঁদের যদি দু-এক দিন ১০০ দিনের কাজে লাগানো যায় নানা কাজে। এতে কাজও হবে, তাঁদের হাতে কিছু টাকাও আসবে। আমরা দেশে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে প্রথম। সবাই চাইলে জব কার্ড করতে পারেন। আমরা কেন্দ্রকে বারবার বলছি, সময়ে টাকা দিতে। যাতে কাজ আরও বাড়াতে পারি। কিন্তু কোনও সহযোগিতা মিলছে না।” অথচ এই প্রকল্পের জন্যই আজ গ্রামের মানুষ কাজ পেয়েছেন। রোজ দু’বেলা তাদের মুখে অন্ন জুটছে। ছেলে মেয়েদের কাজে পাঠাতে হচ্ছে না। তারা স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। এই একশো দিনের কাজ প্রকল্পের অর্থ- সামাজিক গুরুত্ব অনেক। আর সেখানেই জল ধরো জল ভরো প্রকল্পকেও এই একশো দিনের কাজের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভার প্রশ্নোত্তরপর্বে পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এই প্রকল্পে নতুন পুকুর খননে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংস্কার বা পুনরায় খননের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আছে। ব্যক্তি মালিকানা, অংশীদারি মালিকানার পুকুর সংস্কার করা চলবে না। সরকারি, পঞ্চায়েতের পুকুর সংস্কার চলবে। ২০১৮-‘১৯ বর্ষে ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ২১ হাজার শ্রম দিবস সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৯-‘২০ বর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচ কোটি ৭৩ লক্ষ ২৪ হাজার শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial