এনআরসির প্রতিবাদের ঝড় কালিয়াগঞ্জে 

হিয়া রায় 

প্রথমবার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা এল তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। সব বিরোধী দলকে সরিয়ে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরই আস্থা, ভরসা রাখলেন কালিয়াগঞ্জের  মানুষ প্রমাণিত হল জননেত্রীর উন্নয়নের পাশে আছেন আপামর সাধারণ মানুষ। কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় জিতলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তপনদেব সিংহ। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৯৭৪২৮। বিজেপি প্রার্থীকে তিনি হারিয়েছেন ২৪১৪ ভোটে। তথ্য বলছে, আগে সিপিএম এবং কংগ্রেস একাধিকবার জিতেছিল কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায়। তৃণমূল কংগ্রেস দল তৈরি হওয়ার পরও এই কেন্দ্র ছিল বিরোধীদের হাতে। কখনও বামেরা আবার কখনও কংগ্রেস জিতেছে। ২০১১ ও ২০১৬ সালে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় জিতেছিল কংগ্রেস। এবার কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়ে। কিন্তু সেই জোটকে প্রত্যাখ্যান করেন কালিয়াগঞ্জের মানুষ। এমনকী বিজেপির উপরও বিন্দুমাত্র ভরসা রাখেননি । কালিয়াগঞ্জের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের বাক্সে ভোট উজাড় করে দিয়েছেন। মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে বিপুল ভোটে জিতেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। মানুষ কালিয়াগঞ্জ থেকে তপনদেব সিংহকে বিধায়ক নির্বাচিত করলেন। জয়ী তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য, “এই জয় মানুষের জয়। কালিয়াগঞ্জের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের উপর ভরসা রেখেছেন। আগামিদিনে আরও উন্নয়ন হবে।”

কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা রাজনৈতিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন এখানে কংগ্রেস রাজত্ব করেছে। লোকসভা ভোটে বিজেপি জয়ী হয়। লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে বিজেপি এগিয়েও ছিল। কিন্তু কালিয়াগঞ্জের মানুষ উপনির্বাচনের আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, এবার ভোট যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের বাক্সে। প্রথমত,জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজ্যজুড়ে উন্নয়ন হচ্ছে। উত্তরবঙ্গেও এখন উন্নয়নের জোয়ার। অন্যদিকে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত করেছে। একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। উল্টে মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে। আর সবথেকে বড় বিষয় এনআরসি। বিজেপি নেতারা লাগাতার হুমকি দিয়েছেন, বাংলায় এনআরসি চালু করা হবে। কিন্তু মানুষ চান একসঙ্গে থাকতে। কারও নাম বাদ পড়ুক, এটা কখনওই কাম্য নয়। জননেত্রী মানুষের পাশে দাঁড়ান। স্পষ্ট বার্তা দেন, বাংলায় এনআরসি হবে না। মানুষের পাশে থেকে কেন্দ্রের জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জননেত্রীর লড়াই-আন্দোলনের পাশে রয়েছেন কালিয়াগঞ্জের মানুষ। তাঁরা ভোটের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় কোনও বিভেদকামী শক্তির জায়গা নেই। বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করে। তাই বিজেপিকে ভোট নয়।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial