একতা

এক জাতি, এক প্রাণ, একতা। স্বাধীনতার ৭৩তম বছরে এটাই সকল ভারতবাসীর শপথ হওয়া উচিত। একতাই বল। আজ ধর্ম, জাত-পাতের ভিত্তিতে দেশকে ভাঙার যে চক্রান্ত চলেছে, তা থেকে দেশকে রক্ষা করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশ রাজশক্তির শাসনকর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। সেই ঘটনাটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতি বছর ১৫ আগস্ট তারিখটি ভারতে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রধানত অহিংস, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন এবং বিভিন্ন চরমপন্থী গুপ্ত রাজনৈতিক সমিতির আন্দোলনের পথে পরিচালিত এক দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। হাজার হাজার বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীরের আত্মত্যাগে আমাদের দেশের স্বাধীনতা এসেছে। তাঁদের সেই ত্যাগ আমাদের মনে রাখতে হবে। তাঁদের স্বপ্ন সফল করতে হবে। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কোনও সাধারণ অনুষ্ঠান নয়। শপথ নেওয়ার দিন। সব ভারতবাসী অন্তর থেকে নিজের নিজের মতো করে দেশরক্ষার, দেশ উন্নয়নের শপথ নেয়। বাংলা বীরের মাটি। এ মাটিতে জন্মে ভারতবাসীকে ধন্য করেছেন ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, বিনয়-বাদল-দীনেশ, ঋষি অরবিন্দ, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সহ আরও অনেক বীর।

স্বাধীনতা আন্দোলনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, চিত্তরঞ্জন দাশ, বিপিনচন্দ্র পাল প্রমুখ বাঙালির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলা সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে জানে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যাদের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, বাংলাকে তাদের কাছে শিখতে হবে না, কীভাবে দেশের স্বাধীনতা দিবস পালন করতে হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল্য এবং স্বাধীনতা রক্ষার মর্যাদা বাংলার মানুষ ভালই জানে। এটা বাঙালির, বাংলার প্রতিটি মানুষের শিশুবয়স থেকে মজ্জাগত। সিপিএম নেতৃত্বের বাম সরকার বাংলায় ক্ষমতায় থাকার সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর মনীষীদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতা দিবসও সেভাবে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়নি। এখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় বীর বিপ্লবীদের। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবছর পূর্ণ মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালন হয়ে আসছে। আর তা হবেও। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৭২ বছর পূর্ণ হয়েছে। ভারতকে আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। সেই অপূর্ণ কাজ করার শপথ নিতে হবে আমাদের। সকলকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জয় হিন্দ।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial