একতাই সম্প্রীতি, সাধারণতন্ত্র দিবসে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর 

রাজীব চক্রবর্তী 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সাধারণতন্ত্র দিবসের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ হল রেড রোডে। অসংখ্য বাংলার মানুষ দেখলেন উন্নয়নকেও। একের পর এক প্রকল্পের প্রতীক দেখানো হল কুচকাওয়াজে। সেগুলি দেখে উপস্থিত জনগণ বাহবা দিয়েছেন। কন্যাশ্রী থেকে সবুজসাথী, প্রত্যেকটি প্রকল্পই সাধারণ মানুষের স্বার্থে। নতুন প্রকল্প রূপশ্রীও মন কেড়েছে। একের পর এক ট্যাবলো চলে গিয়েছে রাজপথের উপর দিয়ে, আর মানুষ উৎসাহে করতালি দিয়েছেন। ঘোষক মাইকে বলে গিয়েছেন কোন প্রকল্পের কী সুবিধা, আর সেই প্রকল্পে কত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, মন্ত্রী-সচিবরা ও সেনা-পুলিশ কর্তারা।

বাস্তবিকই জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পাশে থাকেন। সেই প্রমাণ বাংলার মানুষ। অগণিত জনতার সুরে  বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর স্লোগান, ‘একতাই সম্প্রীতি।’ আগেই দেশবাসীকে সাধারণতন্ত্রের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।বারবার মুখ্যমন্ত্রী দেশের মহামানবদের উদাহরণ দিয়ে সম্প্রীতি রক্ষা করতে বলেন।রেড রোডে তাঁর কথাই যেন সবার মুখে। পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে বাংলা করার প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকার এখনও সেই নামে অনুমতি দেয়নি। তা নিয়েও ক্ষুব্দ অনেকে। তবে আইন না হলেও মানুষের মুখ আর কবে আটকে রাখা গিয়েছে। যখনও পর্দায় মমতার মুখ তখনই মানুষের মুখে জয় বাংলা স্লোগান। অনুষ্ঠান শুরুর আগে দুই ঘোষকের মুখে রাজ্যের জনমুখী প্রকল্পের কথা। একে একে বিভিন্ন বাহিনী এসে কসরত প্রদর্শন করেছে। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের মুখে শোনা গিয়েছে ‘জয় বাংলা।’ জয় হিন্দের পাশাপাশি গোটা রেড রোডে শোনা গেল জয় বাংলা স্লোগান। সেই স্লোগানে মুখরিত রেড রোডের সকাল।

কুচকাওয়াজ শুরুর প্রাক মুহূর্তে আকাশে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার। উড়ে এল গুচ্ছ গুচ্ছ গোলাপের পাপড়ি। ভিভিআইপি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার মাথায় পুষ্পবৃষ্টি। ৬৯ বছর আগে এই দিনেই পবিত্র সংবিধান গৃহীত হয়েছিল। ধর্মের অধিকার, কথা বলার অধিকার, শিক্ষার অধিকার যেখানে মৌলিক। ৭০তম সাধারণতন্ত্র দিবসে রেড রোডে মানুষের মুখে শোনা গেল, যে কোনও মূল্যে সংবিধান রক্ষা করতে হবে। দেশের অখণ্ডতা ধরে রাখতে হবে। রেড রোডেও নারীশক্তির অভিনবত্ব আলাদা করে নজর কেড়েছে। স্কুলের মেয়েরাই হোক বা এনসিসির মেয়েরা, জনতা উদ্বেল হয়েছে। রাজ্যের মহিলা রেপিড অ্যাকশন ফোর্সের  কুচকাওয়াজের সময় মমতার চোখে অদ্ভুত দীপ্তি। মুখে হাসি। বারবার হাততালি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৪ সালে মহিলা র্যাফের তিনটি বাহিনী তৈরী হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও দার্জিলিংয়ে এই বাহিনীর সাহসিকতায় নজির পাওয়া গিয়েছে। শুধু মহিলা জার্সিই  নয়, লালপাড় সাদা শাড়ি পরিহিতা সিভিল ডিফেন্সই হোক বা যে কোনও মহিলা ফোর্স, আলাদা করে তারিফ করেছেন সবাই। প্রত্যেক বছরের মতো এবারও দেশের নৌবাহিনী, সেনা, ও নেভি কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে। সীমান্ত বাহিনী এবং প্রতিবেশী রাজ্যও বাদ ছিল না। নিয়ম মেনে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দফতরও অংশ নিয়েছে। মানুষ আহ্লাদিত হয়েছেন প্যারেড শেষে লোকসঙ্গীত ও লোকনৃত্য প্রদর্শনে। কুচকাওয়াজ শেষে এই অংশ রেখে মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও পুরুলিয়া থেকে বাছাই করা লোকশিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফের নজির তৈরী করেছে বাংলার অখ্যাত শিল্পীদের দল।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers