উন্নয়ন মডেল

বাম আমলের ৩৪ বছরের বিশাল দেনা রাজ্যের ঘাড়ে এখন পাহাড়প্রমাণ চাপ হিসাবে সামনে দাঁড়িয়েছে। ৩৪ বছর ধরে সিপিএম হার্মাদরা রাজ্যে কোনও উন্নয়নের কাজ করেনি। উল্টে তারা শুধু বছরের পর বছর দেনা করে গিয়েছে। সেই দেনার টাকায় পকেট ভরিয়েছে সিপিএমের হার্মাদরা ও টাকার পাহাড় গড়া হয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। হার্মাদদের এই টাকা চুরির পিছনে বরাবর সাহায্য করে গিয়েছেন দিল্লির কংগ্রেস নেতারা। সিপিএম সরকার যখন এইভাবে বছরের পর বছর দেনা বাড়িয়েছে, তখন চুপ করে থেকেছে কংগ্রেস। বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন বাম আমলের এই বিপুল ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর আর্জি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার চিঠিও দিয়েছিলেন। অতীতের কংগ্রেস সরকার যেমন সিপিএম হার্মাদদের দেনা করে টাকা চুরিতে কোনও বাধা দেয়নি, তেমনই বিজেপি সরকারও বাংলার জননেত্রীর আর্জিতে কোনও সাড়া দেয়নি। বিজেপি কখনওই বাংলার উন্নয়ন চায় না। বাংলার উন্নয়ন চায় না বলেই তারা বাম আমলের ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়ার কোনও ব্যবস্থাই করেনি। বাম আমলের ঋণের বোঝা সুদে-আসলে বাড়তে বাড়তে এখন কার্যত হিমালয় পর্বতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমান আর্থিক বছরে সুদে-আসলে ঋণের বোঝা পৌঁছেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকায়। এই টাকাটা বছরের শুরুতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রাজ্যের কোষাগার থেকে কেটে নেয়। এমনিতেই রাজ্য সরকারের আয়ের বিশেষ সূত্র নেই। কিন্তু সংবিধানে যেভাবে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া আছে, তাতে রাজ্যের আর্থিক দায় বিপুল। এই বিপুল আর্থিক দায় রাজ্যকে সামলাতে হয় তার সামান্য আয় থেকে।

টাকার ঘাটতি পড়লে কেন্দ্র সরকার নোট ছাপাতে পারে। যে সুযোগ রাজ্যের নেই। কিন্তু সীমিত আয়ের মধ্যে বাম সরকারের আমলে তৈরি হওয়া বিশাল ঋণের বোঝা সামলে রাজ্য সরকার গত আট বছর ধরে বিরাট উন্নয়নের কাজ করে যেতে সক্ষম হয়েছে। গত আট বছরে রাজ্যে যে পরিমাণ উন্নয়নের কাজ হয়েছে, তা অতীতে বাংলায় কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। এমনকী দেশের মধ্যেও গত আট বছরে এই রাজ্যের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মডেল হয়ে গিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের কারণেই। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব মাত্র আট বছরে বাংলাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে সমর্থ হয়েছে। ৫৬ হাজার কোটি টাকা একটি আর্থিক বছরে দেনা শোধ করে এই পরিমাণ উন্নয়নের কাজ দেশের আর কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। আগামিদিনেও করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে প্রথম যে কাজে নজর দিয়েছিলেন তা হল রাজ্যর নিজস্ব আয় বাড়ানো। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর মাত্র এক বছরেই তিনি রাজ্যর নিজস্ব আয়কে দ্বিগুণ করেছিলেন। রাজ্যর নিজস্ব আয় দ্বিগুণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কোনওভাবেই রাজ্যবাসীর উপর বাড়তি করের বোঝা চাপাতে হয়নি। বরং তিনি জ্বালানি তেল-সহ অন্য অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যবাসীকে করের বোঝা থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। করে প্রয়োজনমতো রেহাই দিয়েও রাজ্যের নিজস্ব আয় মুখ্যমন্ত্রী বাড়াতে পেরেছেন সম্পূর্ণই তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব গুণে।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial