উন্নয়নের সঙ্গেই থাকুন, পাহাড়ে বার্তা মমতার

রাজীব চক্রবর্তী

বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি ক্লান্তিহীন কাজ করে চলেছেন। বাংলার মানুষের স্বার্থেই একের পর এক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করছেন তিনি। বহিরাগত কেউ কেউ অবশ্য উসকানি দিয়ে চাইছে অশান্তি বাঁধাতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের উপর ভরসা রাখেন। তিনি জানেন, মানুষ কোনও প্ররোচনায় পা দিয়ে ভুলপথে চালিত হবেন না। পাহাড়ে গিয়েও সেই বিশ্বাস-ভরসার কথাই শোনালেন বাংলার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ের মানুষের কাছেও বার্তা দিয়েছেন, ভোটের মুখে এসে যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের পাশে থাকবেন না। মানুষ উন্নয়নের পাশে থাকবেন। অনুন্নয়ন ও কুৎসাকারীদের দূরে সরিয়ে রাখবেন। ভূমিপুত্রদের ভুলে যাবেন না।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে ও পরে অসংখ্য বার পাহাড়ের মানুষের টানেই সেখানে গিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। পুজোর পরেও তিনি সফরে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন, কার্শিয়াংয়ে গিয়েছেন। নতুন প্রকল্পের ও পর্যটনের দিশা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রিত্বের পর থেকেই লাগাতারভাবে উন্নয়নের কাজ করে গিয়েছেন। বাইরের কিছু মানুষ অবশ্য স্থানীয় মানুষকে ভুল বুঝিয়েছিল লোকসভা ভোটের আগে। বাংলার উন্নয়নের সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। মূলত এদের জন্যই পাহাড়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের যজ্ঞ ধাক্কা খেয়েছে। পিছিয়ে পড়েছে পাহাড়ের উন্নয়ন। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আবারও এগোতে চান মুখ্যমন্ত্রী। এই সব ক্ষমতালোভী, স্বার্থপর মানুষের জন্যই জিটিএ গঠন, বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে পনেরোটি উন্নয়ন বোর্ড হলেও অস্থিরতা ও অনুন্নয়ন থেকে পুরোপুরি বেরোতে পারেনি দার্জিলিং। পর্যালোচনা বৈঠক চলতে চলতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাইরে থেকে কেউ এসে জিতে গেলে খারাপ লাগে। তাঁর স্পষ্ট কথা, “আমি জমি-বাড়ি নিতে এখানে আসব না। এনআরসির নামে আগুন জ্বালাব না।” তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন করলেই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। মানুষ ভয় পেয়ে গিয়েছে। আগে যত পর্যটক আসছিলেন এখন কি তাঁরা আসছেন? আসছেন না?”

তিনি স্পষ্ট বলে দেন, আগে শান্তি ও স্থিতি ফেরাতে হবে। না হলে নতুন করে আর কিছুই করা যাবে না। সমস্ত বোর্ডকে তিন মাসের মধ্যে হিসাব পেশ করতে বলেছেন। কোনওরকম দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তিনি বরদাস্ত করবেন না। তাই তিনি বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের অডিট করতে হবে। সেই টাকায় কটা বাড়ি হল, কটা অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে সব হিসাব চাই।” উল্লেখ্য, তিন বছর আগে তৎকালীন জিটিএ প্রধান বিমল গুরুংয়ের কাছে খরচের হিসাব চাওয়ার পরই পাহাড় নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছিল। দার্জিলিং শহরের অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও স্থানীয় প্রশাসনকে তুলোধোনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাস্তায় ময়লা পড়ে থাকছে। নর্দমা পরিষ্কার হচ্ছে না। ম্যালের বিবর্ণ রং। লালকুঠিতে বসার জায়গায় শ্যাওলা। কলকাতা এত বড় শহর, আমরা যদি সেটা পরিছন্ন রাখতে পারি দার্জিলিং পারে না কেন? দিনে তিনবার করে রাস্তা পরিষ্কার করতে হবে। রাস্তা যদি কেবল পাতার জন্য জিও কোম্পানি ভেঙে দেয় তাহলে ওদের বলতে হবে আবার সারিয়ে দেওয়ার জন্য।” তবে উন্নয়ন থেমে থাকেনি মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে। পাইন বন ও চা বাগান ভরা সবুজ বাগান ভরা চিমনিগাঁও ঘিরে নতুন পর্যটন কেন্দ্র উপহার পেতে চলেছে কার্শিয়াং পাহাড় সেখানে ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত চিমনি পরিদর্শনের পর এমনই ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি চিমনিগাঁওকে কার্শিয়াং পর্যটনের জন্য আলাদা করে তুলে ধরতে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দেন। ওই পাহাড়ে একদিকে ডাউহিলে নির্মীয়মাণ প্রেসিডেন্সি ক্যাম্পাস পর্যটনে সহায়ক হবে। এরপরে যদি চিমনি গাঁওকে তুলে ধরা হয় তবে তবে আর কার্শিয়াংকে ফিরে তাকাতে হবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাই এদিন মুখামন্ত্রীর নির্দেশের কথা শুনে উচ্ছাসের বান ডেকেছে বিভিন্ন মহলে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial