উনিশের শপথ

উনিশের উত্তাল ব্রিগেডে ‘১৯-এর ভোটে দিল্লিতে পরিবর্তনের শপথ নিল ভারতবর্ষ। এক নতুন ইতিহাসের সূত্রপাত করলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আহ্বানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কেন্দ্র-বিরোধী ২৪টি দলের নেতা এক মঞ্চ থেকে আওয়াজ তুললেন, কেন্দ্রে চাই পরিবর্তন। সংবিধান বিপন্ন। গণতন্ত্র বিপন্ন। অর্থনীতি বিপন্ন। সমাজ বিপন্ন। ভবিষ্যৎ বিপন্ন। বিজেপি হঠাও। বস্তুত, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ব্রিগেডের ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’ সমাবেশে যেন হাজির হয়েছিল এক টুকরো মহাভারত। হিন্দি, উর্দু, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মারাঠি, গুজরাতি, কাশ্মীরি, মৈথিলি, সিন্ধ্রি, মিজো, আর কত বলব—সব ভাষাভাষীর মানুষ এসে গিয়েছেন ব্রিগেডে। কে নেই সেখানে? তাঁরা কেউ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, কেউ বতর্মান অথবা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, কেউ প্রাক্তন কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰী। তেমনই আবার অখিলেশ-জিগনেশ-হার্দিক-জয়ন্তদের মতো একঝাঁক যুবা-তরুণ নেতা। যাঁরা ভবিষ্যতের দেশনেতা। গর্বের বিষয় হল, আজ গোটা দেশকে নেতৃত্ব দিল বাংলা ভাষা। নেতৃত্ব দিলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যকে তিনি অনেক উচ্চতায় তুলে দিলেন এদিন। আরও স্পষ্ট হল কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে রুখতে প্রধান মুখ তিনিই।

ব্রিগেড সমাবেশে অভিমুখ ছিল একটি দিকেই। কেন্দ্র থেকে বিজেপি হঠাও, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে মোদিকে হঠাও। কারণ, তাঁদের হাতে দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার আর মোটেই সুরক্ষিত নয়। সেখানে বিজেপির জোট নিয়ে কটাক্ষ—কে প্রধানমন্ত্রী—তা গৌণ। কারণ, কেন্দ্র বিরোধী এই জোটের প্রধান এবং প্রধানতম লক্ষ্য আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হঠানো, প্রধানমন্ত্রীর পদ নয়। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেই জননেত্রী মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আবার, নির্বাচনের পর সব দল একসঙ্গে বসে ঠিক করবে কাকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে। বস্তুত, জাতীয় রাজনীতি এই মুহুর্তে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। কেন্দ্রে বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গড়ে তুলেছেন জননেত্রী। আর সেই কারণেই কেন্দ্রে নতুন সরকার গড়তে এবার বৃহত্তর ভূমিকা নেবে বাংলা। উনিশের ব্রিগেডে সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। একদিকে, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা-মাটি-মানুষের সরকার যখন রাজ্যজুড়ে সার্বিক উন্নয়নযজ্ঞে নেমেছে, সেই সময় সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে রাজ্যে জমি খুঁজতে নেমেছে বিজেপি। রাজনীতির নামে তারা রাজ্যে অশান্ত পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে শাসন ক্ষমতা হারিয়ে বিজেপি এখন হন্যে হয়ে বাংলায় রাজনৈতিক মাটি খুঁজছে। আসলে জননেত্রীকে ভয় পেয়েছে তারা। কারণ, আগামী লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে বিজেপির পরাজয়ের ঘন্টা বেজে গিয়েছে। জননেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, বাংলায় বিজেপির ঠাঁই নেই। কেন্দ্রেও এই জনবিরোধী সরকারকে সরাতে হবে। রাজনৈতিক পথে ঐক্যবদ্ধভাবেই সে কাজ হবে। জননেত্রীর উনিশের ব্রিগেড জনসভা দেখে বিজেপির ভয় আরও বেড়েছে। তাই মোকাবিলায় মিথ্যাশ্রয়ী আক্রমণে নেমেছেন দলের নেতারাকিন্তু জনতার দরবারেই বিচার হবে সব কিছুর। সেখানে পরাজিতই হবে জনবিরোধী বিজেপি সরকার। নতুন দিনে জননেত্রীর নেতৃত্বে আবার দেখা হবে ব্রিগেডে।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers