উনিশের ইঙ্গিত

 

২০১৯ – বিজেপি ফিনিশ। স্লোগান তুলেছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পর্বে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থানে

পরাজিত হয়েছে বিজেপি। শুধু পরাজিত নয়, যাকে বলে তিন রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির। তিন রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামিয়ে

দিয়েছে। বাকি দুই রাজ্য – তেলেঙ্গানা ও মিজোরামেও তথৈবচ অবস্থা। সাম্প্রদায়িক, জনবিরোধী বিজেপিকে পরাহত করার জন্য পাঁচ রাজ্যের জনতাকে অভিনন্দন। বিজেপির এই

পরাজয়ের ধারা ২০১৯-এর লোকসভা ভোটেও অব্যাহত থাকবে। বস্তুত, সাড়ে চার বছরে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের সমস্ত জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে

মানুষ। আচমকা রাতারাতি নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ঘোষণা, কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়া সারাদেশে জিএসটি কার্যকর করায় সব শ্রেণীর সাধারণ মানুষ যে দুর্বিসহ পরিস্থিতির মধ্যে

পড়েছিলেন,যে আকালের ছায়া এখনও ভারতের অর্থনীতিতে তারই জবাব পেয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল।

 

কেন্দ্রের ওই সব নীতির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে দেশের সার্বিক অর্থনীতি। বহু ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সারা দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

পরোক্ষ ভাবে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালো টাকা উদ্ধারের নামে নোটবন্দির ঘোষণা করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা হয়েছিল। আর দেখা যাচ্ছে কালো টাকার

কারবারিরা কালো টাকা সাদা করে নিয়েছে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে। সেকারণেই এর আগের পর্বেও বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মানুষের ভোটে পরাজিত হয়েছে।

কিন্তু তারা সেই পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার না করে, গণতন্ত্রকে অমর্যাদা করে গায়ের জোরে বিধায়ক কেনাবেচা করে, ভয় দেখিয়ে সমর্থন আদায় করে কিছু রাজ্যে সরকার গঠন

করেছে। কিছু জায়গায় বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সাম্প্রদায়িক  বিজেপিকে আটকানো গিয়েছে। তার অন্যতম উদাহরণ কর্নাটক। এটা সারা ভারতের

জন্যই খুব ভাল লক্ষণ।

এই বিজেপি রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় থেকে ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছে, আর তারাই বাংলায় মাথা তোলার স্বপ্ন দেখছে। এর থেকে বড় রাজনৈতিক কৌতুক আর কী হতে

পারে! যারা ২০১৯-এ দিল্লি সামলাতে পারবে না, তারা নাকি বাংলা দখল করবে। বাংলায়  রথযাত্রা বের করা হচ্ছে। বরং রাজ্যে রাজ্যে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে কেন্দ্রের ক্ষমতা

থেকে তাদের এখনই সরে যাওয়া উচিত। এই পর্বের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রমাণ করছে, দেশের মানুষ আর বিজেপিকে চাইছে না। তাই তাদের আর একমুহুর্ত ক্ষমতায় থাকার

অধিকার নেই। ‘আছে দিন’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। আর সাড়ে চার বছরে  রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সবদিক থেকেই দেশকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে।

বেকারির  সংখ্যা বেড়েছে। পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া। টাকার দাম কমেছে। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভারতের বৈশিষ্ট্য যে

বহুত্ববাদ, তা আজ বিপদগ্রস্ত। এই মহাসংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে কেন্দ্রে ক্ষমতা থেকে বিজেপি সরকারকে হঠানো সব গণতন্ত্র প্রিয় মানুয়ের কর্তব্য। ১৯ জানুয়ারি জননেত্রী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ব্রিগেড সমাবেশে তারই শপথ নেবে দেশ।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers