উত্তর দেবে উত্তরবঙ্গ

নবারুণ হাজরা

অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আরও উন্নয়ন হবে। বাংলার মানুষ বিরোধীদের উত্তর দিতে তৈরি। উত্তরবঙ্গ সফর শেষে পরিষ্কার ভাষায় তা জানিয়ে দিলেন মুখামন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে জানান, মাসখানেকের মধ্যেই আবার তিনি উত্তরবঙ্গে আসবেন। যাবেন কোচবিহার। যোগ দেবেন রাসমেলায়।

উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সাধারণ মানুষের ইস্যুকে সামনে রেখে পাহাড়বাসীর মন জয় করলেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরের চার জেলার পুলিশ প্রশাসনের তরফে ছিল বিজয়া সম্মিলনী। সেখানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “যা সবার জন্য ভাল সেটাই করা উচিত। এই উত্তরবঙ্গে আমুল পরিবর্তন হয়েছে তৃণমূল সরকারের আমলে। সবাই জোট বাঁধুন। হতাশার কোনও জায়গা নেই। আরও কাজ হবে।” অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী এদিন বুঝিয়ে দেন, নিজেদের কাজকে সামনে রেখেই পাহাড়ের মন জয় করবে তৃণমূল।

এই সফর থেকে পুরোদস্তুর প্রশাসনিক কাজও শুরু করছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উন্নয়নের কথাও প্রচার করতে বলেন জননেত্রী । তিনি জানান, রাজ্যে উন্নয়নের যে কাজ হচ্ছে তা গোটা দেশের মধ্যে নজিরবিহীন। কিন্তু সঠিক প্রচারের প্রয়োজন। তাহলেই সকলে সব প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সমস্ত প্রকল্পে নাগরিকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য রাজ্য দরাজ। তাই প্রতিটি দফতরকে প্রকল্পের কাজগুলির ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দেন তিনি। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলার আধিকারিক ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে সে কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসাথী-সহ কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, শিক্ষাশ্রী, কৃষকবন্ধু, উৎকর্ষ বাংলা, লোকপ্রসার সবুজসাথী, নির্মল বাংলা, শিশুসাথী প্রকল্পগুলিকে নানাভাবে প্রচারে তুলে আনতে হবে।” পাশপাশি বিভিন্ন এলাকায় যে সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা মানুষ এখনও সম্পূর্ণ পায়নি, সেগুলিকে মাইকে প্রচার করতে নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, “ভালভাবে প্রচারেরর উদ্যোগ নিন। মাইকে করে প্রচার করুন।”

একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সমস্ত বোর্ডকে তিন মাসের মধ্যে হিসাব পেশ করতে বলেছেন তিনি। বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের অডিট করতে হবে। সেই টাকায় কটা বাড়ি হল, কটা অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে, সব হিসাব চাই।”

রাজ্য সরকার যে উত্তরবঙ্গে পর্যটনকে আরও গুরুত্ত্ব দেবে তা-ও বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনায় পাইন বন ও চা বাগান ভরা সবুজ চিমনিগাঁও ঘিরে নতুন পর্যটনকেন্দ্র উপহার পাচ্ছে কার্শিয়াং পাহাড়। ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত চিমনি পরিদর্শনের পর এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি চিমনিগাওকে কার্শিয়াং পর্যটনের জন্য আলাদা করে তুলে ধরতে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দেন।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial