আলসারেটিভ কলাইটিস

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

ডাঃ শান্তনু সেন

আলসারেটিভ কোলাইটিস একটি ইফ্লেমারেটরি বায়েল রোগ (আইবিডি) যার কারণে আলসারের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যার। আলসার রোগ হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায় না। আলসারেটিভ কোলাইটিস বৃদ্ধি পেলেই এই রোগ বাড়তে শুরু করে। এই রোগের বেশ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে বেশ কিছু কারণ। একটি হচ্ছে ডায়েরিয়া। দুই) পেটের ব্যথা। তিন) ওজন কমে যাওয়া। চার) ক্লান্তি। পাঁচ) জ্বর। ছয়) শিশুদের শ্রীবৃদ্ধি লাভ হয় না। এইসব লক্ষণগুলি বেশি করে দেখা দিলে যেমন রোগ আসতে পারে পাশাপাশি কোলনেরও উপরের লক্ষণগুলিকে দেখতে পাওয়া যায়। তখন এই রোগ দেখা দিতে পারে। এই রোগ খুব নীরবে শরীরে এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে। তবে একবার এই রোগের কবলে পরেও আবার কিন্তু বহু বছর বাদেও এই রোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আসলে খাবার খাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। খাবারকে যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে কিন্তু এই ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া একেবারে অসম্ভব। আলসার কোলাইটিস রোগ হওয়ার নিট কোনও কারণ নেই। দেহে যখন রোগ প্রতিরোধ কমতে শুরু করে তখন এই ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এটি একটি পারিবারিক রোগও বটে। যদি কোনও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারও রোগ আগে থেকে থাকে তাহলে এই ধরনের রোগ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ওই রোগের মুল লক্ষণগুলি হচ্ছে ১) প্রবল রক্তক্ষরণ। ২) কোলনে গর্ত। ৩) পাতলা পায়খানা। ৪) লিভার খারাপ। ৫) হাড়ের ক্ষতি। ৬) ত্বক, গাঁট ও চোখ ফোলা। ৭) মুখের ভিতর ঘা বা ফোঁড়া। ৮) কোলনে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ৯) কোলন ফুটো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ১০) রক্ত জমাট বেঁধে শিরায়। আলসারোটিভ কোলাইটিস রোগ তৈরি হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কোলনোস্কপি, বয়োপসি, সিটি স্ক্যান করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে বেশিদিন ধরে এই রোগকে পুষলে ক্যানসার পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোলনে ক্যানসার হলে তার থেকে মুক্তি পাওয়া একেবারে অসম্ভব বলা যেতে পারে। এই পরীক্ষাগুলি করতে হবে রোগকে নির্ধারণ করার জন্য। তবে এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে গেলে বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলি খেলে উপশম হওয়ার সম্ভাবনা আাছে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া একেবারে উচিত নয়। যদি কিছু লাইফ স্টাইল বাদ দেওয়া যায় তাহলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে বাইরের খাবার না খাওয়া এবং নিজেকে সঠিকভাবে যত্ন করা। যদি কোনও সময়ে দুগ্ধজাত খাদ্যগ্রহণ করাকে ভাল মনে হচ্ছে না তাহলে কিন্তু তা পরিত্যাগ করা উচিত। তবে খাদ্য গ্রহণ করার দিকে বেশি করে নজর দেওয়া দরকার। এর মধ্যে রয়েছে পরিমিত দুগ্ধজাত খাদ্যগ্রহণ করা।

  • চর্বিজাত খাদ্য গ্রহণ না করা।
  • কোনও বাইরের খাদ্য গ্রহণ না করা। মদ এবং কফিজাত খাদ্য একেবারে পরিহার করে চলা।
  • অল্প খাবার গ্রহণ।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • মাল্টি-ভিটামিন পরিত্যাগ করুন।
  • তবে নিয়মিত ব্যায়াম করলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
  • অত্যধিক মানসিক চাপ কাটাতে হবে। সবসময় মনকে খোলামেলা রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • তবেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial