আন্দোলন চলছে, চলবে   

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

মেঘাংশী দাস

সংশোধিত নাগরিকপঞ্জি নিয়ে শান্তিপূর্ণ পথে ধারাবাহিক লাগাতার আন্দোলন ঘোষণা করে দিলেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “আমরাই দেশের মধ্যে প্রথম এই আন্দোলন শুরু করেছিলাম। আর যতদিন না এই জনস্বার্থ বিরোধী কালাকানুন প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে জননেত্রী বলেন, “আমরা সবাই নাগরিক। নতুন করে আবার কীসের নাগরিকত্ব নেওয়া হবে? জোর করে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাংলায় লাগু করা যাবে না। জোর করে সিএএ কার্যকর করতে গেলে আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে তা করতে হবে। আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় একজন মানুষকেও নাগরিকত্ব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মনে রাখবেন, আমরা এখানে কোনওমতেই এনআরসি করতে দেব না। বাংলা সর্বধর্ম, সর্ববর্ণ, জাতির মিলনক্ষেত্র। দেশের মানুষের স্বার্থে এই এনআরসি করতে দেব না। দেশের মানুষের স্বার্থে এই এনআরসি বিরোধী আন্দোলন চলছে চলবে। যতদিন না সিএএ প্রত্যাহার হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমি পিছিয়ে আসব না। আমিই আপনাদের পাহারাদার, যতদিন আছি, ততদিন কেউ আপনাদের কিছু করতে পারবে না।”

মানুষের অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর যে আন্দোলন, তা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে জননেত্রী বলেন, “এখন শুনছি নাগরিকত্ব পেতে গেলে নাকি মায়ের জন্ম তারিখ দিতে হবে। আমার মা তো নিজের জন্মতারিখই জানতেন না। তাহলে তাঁর  মার, মানে আমার দিদিমার জন্মতারিখ আমি পাব কোথায়? এমন অবস্থা সবারই হবে। একটার পর একটা তথ্য চাইবে, ৫-১০ বছর ঝুলিয়ে রেখে তারপর ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। এসব আমরা এখানে কিছুতেই হতে দেব না। মানুষের জন্য, মানুষের পাশে থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমদিন থেকে লড়াই করছে, এখনও তাই চালিয়ে যাবে।

ইতিমধ্যে কেন্দ্র ঘোষণা করেছে, যে সব রাজ্য সিএএ করবে না বলেছে সেখানে অনলাইনে করা হবে। এই প্রেক্ষিতে জননেত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “দেখেছেন তো দেশে কী চলছে। বাইরে থেকে কেউ যদি এসে কোনও তথ্য চায় দেবেন না। আপনার নাম, পরিবারের সদস্যদের নাম জানতে চায়, দেবেন না। এরা নানা কথা বলছে। শুনবেন না। এখন বলছে অনলাইনে করবে। অনলাইনে করতে গেলে হাজির হতে হয়। অনলাইনে কি ভাত রান্না হবে নাকি! চাল সিদ্ধ হবে?” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের পাহারাদার। মানুষের অধিকার কিছুতেই কেড়ে নিতে দেব না। আমাদের চেয়ে বড় নাগরিক আর কেউ নয়। সবাইকে বলব, শুধু  ভোটার লিস্টে নাম তুলুন, নাম ভুল আছে কি না দেখে নিন। কেউ ভয় পাবেন না। আন্দোলন যত দূর নিয়ে যাওয়ার, নিয়ে যাব। কোনও নাগরিকের জমি থাকতে কোনও ক্ষতি হবে না।” গণতান্ত্রিক অধিকার কেউ কাড়তে পারবে না বলে জননেত্রী বলেন, “এখানে কোনওরকম ক্যা বা কু হবে না। এখানে এনপিআর, এনআরসি করতে দেব না। আমরা ভোট দিয়ে এমএলএ, এমপি তৈরি করেছি। আমাদের ভোটে মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা এখানকার নাগরিক। কারও দয়ায় আমরা বাঁচব না, কারও ভিক্ষা আমরা নেব না। আমাদের থেকে বড় নাগরিক আর কে আছে। গণতান্ত্রিক অধিকার কেউ কোনওমতেই কাড়তে পারবে না?

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial