অসমে বাঙালি হত্যা নিয়ে সংসদে সরব, পরিবারের পাশে তৃণমূল

কৌশিক বসু

নাগরিকপঞ্জির নাম করে অসমে বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে বাঙালিদের। এই অভিযোগে আগেই সরব হয়েছিলেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার সেই অভিযোগের সত্যতা সামনে এল। এবার অসমে কাজ করতে গিয়ে নৃশংস ভাবে খুন হলেন পশ্চিম বাংলার পাঁশকুড়ার দুই রাজমিস্ত্রি। দু্স্কৃতীদের চপারের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দু’জন। ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দুই শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মৃতদের পরিবারকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি তোপ দেগেছেন অসমের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “এই দুই শ্রমিক এনআরসি-র বলি হয়েছেন। বিজেপি শাসিত অসম সরকারই এর জন্য দায়ী।” পাশাপাশি দুই শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে সংসদেও ঝড় তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা।

জানা গিয়েছে, মৃত শেখ ইদ্রিস আলি (৫২) ও শেখ মহম্মদ (৪৩) এক ঠিকাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। অসমের তিনসুকিয়া থানার দুমদুমাতে একটি ভাড়া বাড়িতে এলাকারই শেখ জহওর ও শেখ সোনা নামে আরও দু’জনকে নিয়ে থাকতেন। ইদ্রিসের বাড়ি পাঁশকুড়া থানার গড়পুরুষোত্তমপুর সুলতানদিঘিতে, শেখ মহম্মদের বাড়ি গোপালনগর এলাকায়। কাজ শেষে বাসায় ফিরে রান্না করছিলেন তাঁরা। আর তখনই তিন থেকে চারজনের একটি দুষ্কৃতী দল অতর্কিতে হামলা চালায়। শেখ জওহর ও শেখ সোনা কোনওক্রমে পালিয়ে বাঁচলেও ইদ্রিস ও শেখ মহম্মদকে চপার দিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। মৃত শেখ ইদ্রিস ও শেখ মহম্মদ দুজনেই স্থানীয় গড়পুরুষোত্তমপুর এলাকারই এক ঠিকাদার শেখ হবিবুরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। মেয়ের বিয়ে দিতে মাস দেড়েক আগেই বাড়ি এসেছিলেন শেখ মহম্মদ। দিন দশেক আগে ফের অসমে ফিরে যান তিনি। মৃতদের পরিজনদের অভিযোগ, কেবলমাত্র বাঙালি হওয়ার কারণেই গলা কেটে খুন করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই খবর পেয়েই মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন পাঁশকুড়া পুরসভার পুরপ্রধান নন্দকুমার মিশ্র, উপ পুরপ্রধান সইদুল ইসলাম, পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কুরবান সা, জইদুল ইসলাম খান সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।

লোকসভা অধিবেশনে অসমে বাঙালিদের হত্যা এবং তাঁদের উপর এই অত্যাচার নিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন তৃণমূল সাংসদরা। একযোগে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন সকলে। লোকসভার ‘জিরো আওয়ারে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “অসমে বিজেপির নোংরা রাজনীতির জন্যই বাঙালিদের হত্যা করা হচ্ছে। যা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।” এর আগেও এ রাজ্য থেকে কাজ করতে যাওয়া বাঙালিদের উপর বেছে বেছে নির্যাতন হয়েছে। ঘটনায় কোনও বাবস্থা নেয়নি বিজেপি পরিচালিত অসম সরকার। আসলে নাগরিকপঞ্জি চালু করার জন্য বারবার টার্গেট হচ্ছেন বাঙালিরা। এ রাজ্য থেকে সেখানে কাজ করতে গিয়ে যেমন খুন হচ্ছেন বাঙালিরা তেমনি অসমে বসবারকারী বাঙালিদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। অসমে এই নাগরিকপঞ্জি আইন চালুর বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই তীব্র আন্দোলন করে আসছেন জননেত্রী। অসমে “বাঙালি খেদাও’-এর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে।

গত বছর নভেম্বর মাসের শুরুতেই পাঁচ বাঙালিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেসময় ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সারা দেশজুড়ে একটা অশুভ সংকেত আমাদের মনকে দ্বিধাগ্রস্ত করে রেখেছে। আগে কখনও আমরা এরকম দেখিনি যে, “ঘরে ঘরে ভয়।” বলেন, “গুজরাতে বিহারি খেদাও চলছে। অসমে বাঙালি খেদাও চলছে। সারা দেশজুড়ে একটা অশুভ সংকেত আমাদের মনকে দ্বিধাগ্রস্ত করে রেখেছে।” সেসময় বিধ্বস্ত বাঙালি পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে রাজ্য থেকে একটি প্রতিনিধি দলকে অসমেও পাঠিয়েছিলেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই প্রতিনিধি দলকে অসমে ঢুকতেই দেয়নি সেখানকার বিজেপি সরকার। তবুও নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে আসেনি তৃণমূল কংগ্রেস। বরং এনিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় অন্দোলনে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers